kalerkantho


ভয়ংকর সৌন্দর্যের ভাস্কর

বরাবরই জাদুবাস্তবতা নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। আগামীকাল মুক্তি পেতে যাওয়া ‘শেপ অব ওয়াটার’ও তা-ই। গুলেরমো দেল তোরোকে নিয়ে লিখেছেন হাসনাইন মাহমুদ

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ভয়ংকর সৌন্দর্যের ভাস্কর

গল্পটা এক সিরিয়াল কিলাকে নিয়ে, যে পরিবারের সবাইকে খুন করে নিজে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ধ্বংস হয়! আট বছর বয়সেই এমন গল্প ভেবেছিলেন গুলেরমো দেল তোরো। মেক্সিকোর গুয়াদাজালা শহরে এক গাড়ি ব্যবসায়ীর আট বছর বয়সী ছেলেটি এমন অদ্ভুত সব গল্প বলে প্রায়ই সবাইকে চমকে দিত।

সেই দেল তোরো এখন জাদুবাস্তবধর্মী হরর-ফ্যান্টাসি ঘরানার অন্যতম সেরা পরিচালক। আলফনসো কুয়ারন, আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতুর পাশাপাশি তাঁর নামও উচ্চারিত হয় ‘দ্য থ্রি আমিগোজ অব সিনেমা’ হিসেবে।

বয়সটা দশের কোটা পূর্ণ করার আগেই দেল তোরো ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি করেন, পরে পড়াশোনার বিষয় ছিল স্পেশাল এফেক্ট ও মেকআপ। ১৯৯৩ সালে প্রথম চলচ্চিত্র ‘ক্রোনোজ’ দিয়ে নজর কাড়েন। হররধর্মী এ চলচ্চিত্র বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি সমালোচকদের প্রশংসাও পায়।

বাবার অপহরণের জের ধরে পরিবারসহ আমেরিকায় চলে আসেন। তবে মনেপ্রাণে একজন মেক্সিকান দেল তোরো শিকড়কে ভুলে যাননি, ‘চির ভ্রমণরত মেক্সিকানই আমার পরিচয়। ’ ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় প্রথম হলিউড চলচ্চিত্র ‘মিমিক’; যদিও প্রযোজকদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপে চলচ্চিত্রটিতে পরিচালককে পাওয়া যায়নি চেনা রূপে। তবে পরের ‘দ্য ডেভিলস ব্যাকবোন’ একমাত্রিক হরর ঘরানার চলচ্চিত্রে নতুন মাত্রা এনে দেয়।

স্প্যানিশ ভাষার এ চলচ্চিত্র বক্স অফিসে সাফল্যের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র সমালোচকদেরও প্রশংসা পায়। দেল তোরো হয়ে ওঠেন হরর চলচ্চিত্রের নতুন রাজপুত্র।

‘ব্লেড ২’, ‘হেলবয়’-এর মতো মূলধারার হলিউডের সিনেমায় সাফল্য পেলেও পরিচালককে ‘নিজের মতো’ পাওয়া যায় ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্যান’স ল্যাবিরিন্থ’-এ। স্প্যানিশ ভাষার এই জাদুবাস্তবধর্মী চলচ্চিত্রটিকে সিনেমাটোগ্রাফি, শিল্প পরিচালনার নিরিখে এ শতাব্দীর শুরুর দিকের অন্যতম শক্তিশালী চলচ্চিত্র হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। তিনটি বিভাগে অস্কারজয়ী এ সিনেমার পটভূমি স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের পরবর্তী সময়, যেখানে রূপকের সাহায্যে পরিচালক বর্তমান সময়ের অনেক ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন, দিয়েছেন অন্ধকারের মধ্যে আশার আলোর সন্ধান। চলচ্চিত্রটি সম্পর্কে দেল তোরো বলেন, ‘এ সিনেমার গল্পটা তো সবার জানাই ছিল। আমি শুধু নিজের মতো করে একটি ছবি এঁকেছি। ’

ব্যক্তিগত জীবনে স্ট্যানলি কুব্রিকের ভক্ত এই পরিচালকের ‘লর্ড অব দ্য রিংস’-এর প্রিক্যুয়াল ‘দ্য হবিট’ সিরিজ পরিচালনার কথা থাকলেও সময় মেলাতে পারেননি। পরবর্তী চলচ্চিত্র কল্পবিজ্ঞানধর্মী ‘প্যাসিফিক রিম’ বক্স অফিসে সাফল্য পেলেও তাতে দেল তোরোর কাজের নিদর্শন ছিল না। পরিচালকের ভাষ্য মতে তিনি চলচ্চিত্রটি বানিয়েছেন অনেকটা খেলার ছলে।

এবারের ‘শেপ অব ওয়াটার’-এ তিনি দেখিয়েছেন ষাটের দশকের প্রেক্ষাপটে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আর জলমানবের প্রেমকে। সমালোচকদের মতে, ‘প্যান’স ল্যাবিরিন্থ’-এর পর এটা পরিচালকের সেরা চলচ্চিত্র। এ বছরের ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে সোনার সিংহ জিতে নেয় চলচ্চিত্রটি।


মন্তব্য