kalerkantho

সেরা ৭

দেড় শর বেশি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন শশী কাপুর। এর মধ্যে সেরা ৭ নিয়ে এ আয়োজন

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সেরা  ৭

সিদ্ধার্থ

দ্য হাউসহোল্ডার [১৯৬৩]

পরিচালক জেমস আইভরি একটা তথ্যচিত্র করছিলেন ভারতে। সেই সময়ই প্রযোজক ইসমাইল মার্চেন্ট শশী কাপুরকে নিয়ে সিডনি মায়ার্সের সঙ্গে একটা সিনেমা করছিলেন, যেটা অর্থের অভাবে ঝুলে যায়।

ইসমাইল ঠিক করেন একই অভিনেতাদের নিয়ে আইভরির সঙ্গে আরেকটি ছবি করবেন। এভাবেই এক লাখ ২৫ হাজার ডলারে তৈরি হয় ‘দ্য হাউসহোল্ডার’। হিন্দি ও ইংরেজি ভার্সনে তৈরি সিনেমাটি পরে কলাম্বিয়া পিকচার্স নিয়ে নেয়। ছবির সংগীত তৈরি হয় সত্যজিত্ রায়ের তত্ত্বাবধানে। ছবিতে নিজের ক্যামেরাম্যান সুব্রত মিত্রকেও ধার দেন সত্যজিত্।

শেকসপিয়ারওয়ালা [১৯৬৫]

আগেরটি সফল হওয়ায় জেমস আইভরির সঙ্গে শশীর দ্বিতীয় কাজ। গল্প একটি ব্রিটিশ নাটকের দলের, যারা শেকসপিয়ারের নাটক মঞ্চস্থ করতে ভারতে আসে। এই সিনেমারও সংগীত পরিচালক সত্যজিত্ রায়।

সিদ্ধার্থ [১৯৭২]

কনরাড রুকসের এই মার্কিন সিনেমাটির উল্লেখযোগ্য অংশের শুটিং হয় তীর্থভূমি হূষিকেশে।

এক ধনী ভারতীয় যুবকের অস্তিত্ব খোঁজা নিয়ে গল্প। শশী কাপুর নাম ভূমিকায় থাকলেও ছবিটি ভারতে ঝড় তোলে সিমি গাড়েওয়ালের খোলামেলা দৃশ্যের জন্য। সিনেমার ছোট একটি চরিত্র করার কথা ছিল অমিতাভ বচ্চনেরও। নানা কারণে হয়নি।

দিওয়ার [১৯৭৫]

শশী কাপুর, অমিতাভ বচ্চন আর পরিচালকের আসনে যশ চোপড়া—‘দিওয়ার’ আলোচিত হওয়ার অনেক কারণই আছে। তবে রবি ভার্মা চরিত্রে শশী কাপুরের অভিনয় ভক্তদের মনে তাঁকে স্থায়ী আসন তৈরি করে দিয়েছে। আর ছবির সংলাপ ‘মেরে পাস মা হ্যায়’ তো কালজয়ী। ছবিতে অমিতাভের ছোট ভাইয়ের চরিত্র করেছিলেন শশী, যদিও বাস্তবে তিনি ছিলেন চার বছরের বড়!

সত্যম শিবম সুন্দরম [১৯৭৮]

শারীরিক নাকি আধ্যাত্মিক প্রেম—গ্রামে আসা ইঞ্জিনিয়ার রাজীবের মনের এই দ্বন্দ্ব অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন শশী। আর রূপা চরিত্রে জীনাত আমানের সাহসী দৃশ্যে অভিনয় প্রায় চার দশক পরও সমান আলোচিত। অনেক পরে রিতু নন্দা ‘রাজ কাপুর স্পিকস’ বইয়ে দাবি করেন, রাজ কাপুর ছবিটি তৈরি করেছিলেন লতা মুঙ্গেশকরের অনুপ্রেরণায়! অভিনেত্রী হিসেবে তাঁকে নিতেও চেয়েছিলেন।

নিউ দিল্লি টাইমস [১৯৮৬]

মিডিয়ার দুর্নীতি নিয়ে রাজনৈতিক থ্রিলার। উত্তর প্রদেশের এক সংবাদপত্রের সত্ সাংবাদিক বিকাশ পাণ্ডের চরিত্র করেন শশী কাপুর, যা তাঁকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার। এ ছাড়া আরো দুটি পুরস্কার জেতে সিনেমাটি। আশির দশকের শুরুতে মসলা ছবি করতে করতে ক্লান্ত শশী এই ছবির চিত্রনাট্য শুনেই খুশি হয়েছিলেন। পুরো না পড়েই রাজি হয়ে যান। কম বাজেটের এই সিনেমার সাইনিং মানি হিসেবে মাত্র ১০১ রুপি নিয়েছিলেন শশী।   

ইন কাস্টডি [১৯৯৩]

শশীর বেশ কয়েকটি সফল সিনেমার প্রযোজক ইসমাইল মার্চেন্ট পরিচালিত এই সিনেমাটি তাঁর ‘শেষ জীবন’-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছবি। বুকার মনোনীত উপন্যাস ‘ইন কাস্টডি’ অবলম্বনে উর্দু কবি ‘নূর’ চরিত্র করেন শশী। ছবিতে তাঁর কণ্ঠে কবিতাগুলো যেন অন্য মাত্রা পেয়েছিল। সিনেমায় ব্যবহূত কবিতাগুলো আসলে ছিল পাকিস্তানি কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের।


মন্তব্য