kalerkantho


নূতনের কেতন

রণ—দ্য ভিলেন

ছোট পর্দার এই ভিলেন অপেক্ষায় আছেন বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশের। রণ মজুমদারকে নিয়ে লিখেছেন ইসমাত মুমু। ছবি তুলেছেন সুমন ইসলাম আকাশ

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রণ—দ্য ভিলেন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোনোর আগেই মডেল হয়েছিলেন ওরস্যালাইন ও প্রাথমিক শিক্ষার মতো সরকারি বিজ্ঞাপনচিত্রের। ছোট্ট রণকে দেখেই পছন্দ করেছিলেন নির্মাতা সিরাজুল ইসলাম।

রণর মায়ের কাছে প্রস্তাব নিয়ে গেলেন, তিনি ‘না’ করলেন না। এর পর লম্বা বিরতি। কেউ ডাকেনি, নিজে থেকেও আর শোবিজের প্রতি মনোযোগী হলেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পর ফের ক্যামেরার সামনে এলেন, সৌরজয় চৌধুরীর নাটক ‘মজমা’য়। এর পর থেকেই ধীরলয়ে অভিনয় করে চলেছেন। ‘এখন অভিনয়টাই করতে চাই। ছোট বা বড় চরিত্র নিয়ে মাথাব্যথা নেই। একটা নাটক বা সিনেমায় দুই মিনিটের দৃশ্যে দেখেও দর্শক যদি বলেন, নাহ্! চরিত্রটা ভালো ছিল, তাতেই আমি খুশি। আমার অভিনীত চরিত্রের গুরুত্বটা যেন থাকে সেটা খেয়াল রেখেই কাজ করি’—বললেন রণ।

এখন পর্যন্ত যত নাটক করেছেন সেখানে নেগেটিভ চরিত্রেই তাঁকে বেশি দেখা গেছে। পর্দায় কি নিয়মিত ভিলেনই হতে চান? ‘আমাদের এখানে কিন্তু ভিলেনের কনসেপ্টটা বদলে যাচ্ছে। আগে দেখা যেত ভিলেন নায়কের মার খেত। সে যে কেন এ রকম খারাপ কাজ করছে তারও নির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যেত না। সে খারাপ, খারাপ কাজ তাকে করতেই হবে। আমার চরিত্রগুলো কিন্তু এমন নয়। কোনো না কোনো পরিস্থিতিতে আমি ভিলেন। আমার চরিত্রটারও একটা দৃষ্টিভঙ্গি আছে, যেখান থেকে দেখলে মনে হবে আমি ঠিক কাজটাই করছি। চরিত্রগুলো বেশ স্টাইলিশও। তবে আমি আসলে সব ধরনের চরিত্র করতে চাই। নায়ক মানেই যে তার চেহারা খুব সুন্দর হতে হবে, এমনটা মনে করি না। অভিনেতার লুক কাজে লাগাতে হবে চরিত্রের প্রয়োজনে’—বললেন রণ।  

রণ অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের সব কটির পরিচালকই তানিম রহমান অংশু—‘সিনেমায় যেমন হয়’, ‘দুই অংশের শেষ একটি’, ‘আপনার অনুভূতি কী’, ‘দুই অংশের শেষ এখানেই’।

নির্মাতা অংশুর সঙ্গেই বেশি কাজ করা প্রসঙ্গে বলেন, ‘ওর প্রতিটা কাজের একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে। আমি তো সেভাবে অভিনয় শিখিনি, অংশুই আমাকে সাহায্য করেছে। হাতে ধরে শেখানোর কথা বলছি না। ও সব সময় উত্সাহ দিয়েছে—এটা করো, ভালো হবে, এই চরিত্রটায় মানাবে। ’

খুব বেশি নাটকে অভিনয় করেননি। তাঁর সমসাময়িক অনেকেই এই সময়ের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ কাজ করেছেন। কারণটা জানালেন রণ, “বন্ধু বা পরিচিত পরিচালকদের কাজই বেশি করেছি। অনেকেই ডেকেছেন, গল্প শেয়ার করেছেন, দেখা গেল চরিত্রটা আমার পছন্দ হয়নি। তখন যদি ‘না’ করে দিই পরে আর তাঁর সঙ্গে কাজ করা হয় না। এমন অনেকেই আমার ওপর রাগ করে বসে আছেন। আমার মনে হয়, চরিত্র পছন্দ না হলে সেটা ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় না। ”

দুটি সিনেমা তাঁর হাতে। দুটিই তানিম রহমান অংশুর—‘আদি’ ও ‘স্বপ্নবাড়ি’। তবে ছবিতে নিজের চরিত্র দুটিকে ‘বিশেষ কিছু’ মনে করছেন না রণ। তাহলে কেন করলেন? ‘অভিজ্ঞতার জন্য’—এক কথায় রণর উত্তর।

অভিনয়ের পাশাপাশি একটা বায়িং হাউসের অপারেশন ম্যানেজার রণ। বেড়ে ওঠা ঢাকার কলাবাগান-গ্রিন রোডে। আড্ডা, চলাফেরাও এই এলাকা ঘিরেই। পড়াশোনা শেষ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

অভিনয় নিয়ে প্ল্যান কী? ‘অভিনয় করতেই হবে এমন ভাবনা ছিল না প্রথম দিকে। করতে করতেই অভিনয়ের প্রেমে পড়লাম। এখন অভিনয়টাই নিয়মিত করতে চাই। ভবিষ্যত্ পরিকল্পনাও তাই’—বললেন রণ।


মন্তব্য