kalerkantho


নূতনের কেতন

যেতে হবে বহুদূর

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



যেতে হবে বহুদূর

ইচ্ছা ছিল নিউজ প্রেজেন্টার হবেন। সে মতে নিউজ প্রেজেন্টেশন ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন।

সেখানেই পরিচয় বুলবুল টুম্পার সঙ্গে। তাঁর উত্সাহে এলেন র্যাম্প মডেলিংয়ে। এর পর সুযোগ পেলেন নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে, “আমি ভীষণ লাকি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো হয়েছে। ভালো কাজের অফার যেমন পাচ্ছি, তেমনি সিনিয়রদের সান্নিধ্যও পাচ্ছি। এ বছর ‘শারদ সাজে বিশ্বরঙ-এর দিদি’ প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ হলাম। এটাও আমার জন্য বড় একটি পাওয়া ছিল”—বললেন নিশাত।

দুটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং করছেন—সাজ্জাদ সুমনের ‘ছলেবলে কৌশলে’ ও সাখাওয়াত হোসেন মানিকের ‘মেঘে ঢাকা শহর’। সর্বশেষ অভিনয় করলেন মাবরুর রশীদ বান্নাহর বিজয় দিবসের নাটক ‘১৭ই ডিসেম্বর’-এ। নাটকটি নিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত নিশাত—‘বান্নাহ ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা ছিল খুব।

এখানে আমার চরিত্রটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবু আশা, ভাইয়ার পরবর্তী কাজেও সুযোগ পাব। ’

ধারাবাহিক ‘ছলেবলে কৌশলে’কেই নিজের সেরা কাজ বললেন। কারণ? ‘এই ধারাবাহিক করতে গিয়েই অনেক সিনিয়র অভিনেতার সঙ্গ পেয়েছি। গ্রাম থেকে পালিয়ে ঢাকায় আসা এক মেয়ের চরিত্র আমার। বাবা-মা নেই। মামা-মামির সঙ্গে থাকি। ’

বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন—ম্যাটাডোর, সিঙ্গার রেফ্রিজারেটর, মার্কস ও দৈনিক কালের কণ্ঠ উল্লেখযোগ্য। তবে কালের কণ্ঠ’র প্রমোশনাল বিজ্ঞাপনের মডেল হওয়াটাকে বেশি এগিয়ে রাখলেন নিশাত, ‘স্বামীর হাতে নির্যাতিত এক মেয়ের চরিত্র করতে হয়েছে এখানে। অভিনয়ের অনেক সুযোগ পেয়েছি চরিত্রটাতে। শুটিংয়ের সময় কেঁদেছিলামও। ’

জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার মিরপুরে। ছোটবেলায় ছিলেন ভীষণ লক্ষ্মী মেয়ে। প্রচণ্ড রাগ হলেও চুপ করে থাকতে পছন্দ করতেন। যত বড় হচ্ছেন তত দুষ্টু হচ্ছেন, স্বীকার করলেন নিজেই।

বাবা মারা গেছেন বছরখানেক আগে। ভাই-বোন থাকেন বিদেশে। পরিবার বলতে বাংলাদেশে শুধুই মা। ‘তিনি বরাবরই আমাকে সাপোর্ট দিয়ে আসছেন। আমার যত রকমের আবদার সব মিটিয়েছেন। শোবিজে কাজ করার শুরুতে আত্মীয়স্বজন পাশে ছিল না। যখন কিছু ভালো কাজ করতে পারলাম, এর পর থেকে সবাই খুব উত্সাহ দিচ্ছে’—বললেন নিশাত।

তাঁর জীবনে দুটি দুর্ঘটনা, একটি বাবার মৃত্যু, অন্যটি ছোটবেলার সড়ক দুর্ঘটনা। ক্লাস ফাইভে পড়তেন তখন। কক্সবাজার যাওয়ার পথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঘটে দুর্ঘটনাটি। ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে তাদের গাড়িটা দুমড়েমুচড়ে যায়। ট্রাকে ছিল রড, সেই রড ঢুকে যায় তাঁদের গাড়িতে। পরিবারের দুই সদস্য সঙ্গে সঙ্গেই মারা যায়, অন্যরা সবাই রক্তাক্ত! সেই ভয়ংকর দুর্ঘটনার খবর দেশের প্রায় সব গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল। এ ঘটনার পর পথ চলতে খুব ভয়ে থাকেন নিশাত।

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ করছেন। পড়াশোনার পার্ট শেষ করে অভিনয়ে নিয়মিত হতে চান, যেতে চান বহুদূর। আর চান গরিব-দুঃখীদের জন্য কিছু একটা করতে। নিজের একটা গুণের কথা জানালেন—‘মিথ্যা বলতে পারি না। ’ আর খারাপ দিক? ‘আমার রাগটা এখন খুব বেড়েছে। ’


মন্তব্য