kalerkantho


মুক্তির আগেই পুঁজি ঘরে!

কাল মুক্তি পাবে দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘চল পালাই’। ছবির পাত্র-পাত্রী শাহরিয়াজ, শিপন ও তমা মির্জাকে নিয়ে কালের কণ্ঠে হাজির হন পরিচালক। জমে ওঠে আড্ডা। সেই আড্ডায় ছিলেন সুদীপ কুমার দীপ। ছবি তুলেছেন শুভ্র কান্তি দাশ

৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মুক্তির আগেই পুঁজি ঘরে!

‘স্বল্প বাজেটে বৃহত্ প্রচেষ্টা’—এই স্লোগান মাথায় নিয়ে ‘চল পালাই’ নির্মাণ করেছেন দেবাশীষ বিশ্বাস। ঢালিউডের বাণিজ্যিক ছবিগুলোর গড় বাজেট এখন এক কোটি টাকা।

‘চল পালাই’ ছবির বাজেট শুনলে অবাক হওয়ারই কথা—মাত্র ৪০ লাখ টাকা! দেবাশীষ বলেন, ‘অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। তবে পর্দায় সেটা ধরতে পারবে না দর্শক। কী নেই ছবিতে! নাচ, গান, মারপিট—সবই আছে। লোকেশনেও আছে বৈচিত্র্য। ’

এত কম বাজেটে সম্ভব হলো কী করে? খুলে বললেন দেবাশীষ, ‘ইন্ডাস্ট্রির ৯০ শতাংশ ছবিই এখন মুখ থুবড়ে পড়ছে। যে কয়টি ছবি ব্যবসা করছে সেগুলো নামমাত্র—হিট, সুপারহিটের তকমা পাচ্ছে না কোনোটিই। এই সময় আমাদের উচিত প্রযোজকদের বাঁচানো, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। প্রযোজককে কথা দিয়েছিলাম, যত কম খরচে পারি ছবি বানিয়ে দেব। সে কথা রেখেছি।

আমি পারিশ্রমিক নিইনি, কলাকুশলীদেরও অনুরোধ করেছি, যে যতটুকু পারে যেন ছাড় দেয়। শিপন, শাহরিয়াজ ও তমার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা টাকার পিছে না ছুটে ভালো কাজে সহযোগিতা করেছে। গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী থেকে শুরু করে ড্রেসম্যান, ট্রলি বয়, নৃত্য পরিচালকও আমাকে সহযোগিতা করেছেন। সে কারণেই এত কমে ছবিটি নির্মাণ করতে পেরেছি। ’

ছবির ট্রেলারের শেষ দৃশ্যে শাহরিয়াজের হাসি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। শাহরিয়াজ বলেন, ‘এই হাসি কিন্তু স্ক্রিপ্টে ছিল না। শুটিং স্পটেই সংযোজন করেছেন দেবাশীষদা। ডাবিংয়ের সময় দেখলাম। তখন মনে হয় হাসিটা সত্যিই দরকার ছিল। ’ ছবির আরেক অভিনেতা শিপনের প্রশংসা করলেন পরিচালক, “দর্শক এত দিন যে শিপনকে দেখেছে ‘চল পালাই’তে তারা অন্য এক শিপনকে পাবে। দারুণ সাবলীল অভিনয় করেছে। ”

ছবির নায়িকা তমা মির্জা। তাঁকে নিয়েই পালাতে চান শাহরিয়াজ আর শিপন। কিন্তু তমা কি রাজি? ‘না। শুটিংয়ের সময় ওরা আমাকে অনেক জ্বালিয়েছে। কোনোভাবেই ওদের সঙ্গে আর পালাতে রাজি নই’—হাসতে হাসতে বললেন নায়িকা।

আগের ছবি ‘গেম রিটার্নস’-এ দারুণ প্রশংসিত হয়েছেন তমা। মনে করছেন ‘চল পালাই’ মুক্তির পর সেই প্রশংসা আরো কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, ‘সেরাটা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ট্রেলার দেখে অনেকেই আমার প্রশংসা করেছেন। ডাবিংয়ের সময় নিজের কাছেও মনে হয়েছে দারুণ ছবি হয়েছে। বাকিটা দর্শক বলবে। ’

প্রায় ৮০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ‘চল পালাই’। দেবাশীষ চাইলে নাকি শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে পারতেন ছবি। কয়েকটি বিষয় চিন্তা করে তা করেননি। কী সে বিষয়? জানালেন শিপন, “বাংলাদেশের ৫০টি প্রেক্ষাগৃহ আছে, যারা ভালো অঙ্কের টাকা দিয়ে ছবি চালায়। বাদবাকিরা নামমাত্র টাকা দেয়। কিন্তু ছবি হিট করলে আবার তারাই বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে চালায়। আমরা জানি, ‘চল পালাই’ দর্শক পছন্দ করবে। আর সে কারণেই দ্বিতীয় সপ্তাহের অপেক্ষা করছি। তখন রেন্টাল আরো বেশি নেওয়া যাবে। ”

মুক্তির আগেই ছবির টাকা উঠে এসেছে, তথ্যটা দিলেন পরিচালক, ‘গান আর স্যাটেলাইট স্বত্ব বিক্রি করে ভালো দাম পেয়েছি, দুটি মিলিয়ে ২০ লাখ এসেছে। প্রেক্ষাগৃহ থেকে এরই মধ্যে পেয়েছি ২০ লাখ। এইতো ৪০ লাখ! আমার খরচ উঠে গেছে। বাকি যা আসবে তা-ই লাভ। প্রযোজকও বাঁচলেন, আমিও ঝুঁকিমুক্ত পরিচালকের উপাধি পেয়ে গেলাম। হা হা হা। ’


মন্তব্য