kalerkantho

হঠাৎ গায়ক

'বডিগার্ড' ছবির 'আই লাভ ইউ' থেকে 'ব্যাং ব্যাং'-এর    

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



হঠাৎ গায়ক

আশুতোষ গাঙ্গুলী থেকে নিজের নাম অ্যাশ কিং রাখার কারণ তাহলে লেডি গাগা! গাগার অভিষেক সিঙ্গেল 'জাস্ট ডান্স'-এর রিমিক্স ভার্সনে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আশুতোষও। পরে গানটি গাগার অ্যালবামের এশিয়ান ভার্সনেও অন্তর্ভুক্ত হয়। সিডিতে এত বড় নাম লেখার জায়গা নেই, তাই আশুতোষ গাঙ্গুলী হয়ে গেলেন 'অ্যাশ কিং'। শিকড় কলকাতায় হলেও অ্যাশ লন্ডনপ্রবাসী। বাবা শংকর গাঙ্গুলী ছিলেন গায়ক ও সুরকার। ষাটের দশকে নিয়মিত কাজ করেছেন রবিশংকরের সঙ্গে। পরে থিতু হন লন্ডনে। বাবা আর রবিশংকরের সূত্রে ছোটবেলায় নিজেদের ওয়েম্বলির বাড়িতে জর্জ হ্যারিসনকেও দেখেছেন অ্যাশ। বাবার মতো দাদাও বিখ্যাত। সংগীতে পারিবারিক ঐতিহ্য থাকলেও কখনোই গানে আসতে চাননি অ্যাশ। 'ছোটবেলা থেকে প্রায় সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজাতাম। কোনো অনুষ্ঠানে বন্ধুদের সঙ্গে গাইতাম। ব্যস, এতেই খুশি ছিলাম, গায়ক হব ভাবিনি'-বলছেন শিল্পী। এ অবস্থা থেকে অ্যাশ কিংকে প্লেব্যাক সিঙ্গার বানানোর দায়িত্ব নিলেন অরিজিৎ সিং। অরিজিৎ নিজেও তখন গাওয়া শুরু করেননি, কাজ করেন সংগীত পরিচালক প্রীতমের সহকারী হিসেবে। 'আমার এক বন্ধুর মাধ্যমে লন্ডনে অরিজিতের সঙ্গে দেখা হয়। আমার গলা শুনে বলে-প্লেব্যাক করলে খুব ভালো হবে। এরপর থেকেই যোগাযোগটা ছিল'-বলেছেন অ্যাশ। তবে বলিউডে অ্যাশের প্রথম প্লেব্যাক অবশ্য এ আর রহমানের হাত ধরে। ২০০৯ সালে 'দিল্লি ৬'-এর জন্য গাইলেন 'দিল গিরা দাফাতন'। এ বছর তামিল 'আই' ছবিতে আবারও এ আর রহমানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা হয়। তবে শিল্পী পরিচিতি পান প্রীতমের হাত ধরে, 'বডিগার্ড' ছবির 'আই লাভ ইউ' দিয়ে। গানটির জন্য আইফা অ্যাওয়ার্ডে সেরা প্লেব্যাক সিঙ্গারের মনোনয়নও পেয়েছিলেন। এরপর 'মেহেরবান', 'চুপ চুপকে' অ্যাশ কিংয়ের গাওয়া প্রায় সব হিন্দি গানই জনপ্রিয়। বাদ ছিল বাংলা। সেটাও পূরণ হলো 'বোঝে না সে বোঝে না' ছবির 'কঠিন' দিয়ে। এরপর সব শেষ 'উড়ে গেছে'। ছয় বছরের ক্যারিয়ারে এ আর রহমান, প্রীতম ছাড়াও অ্যাশ কিং কাজ করেছেন অমিত ত্রিবেদী থেকে শান্তনু মৈত্রীর মতো সুরকারদের সঙ্গে। এমটিভি 'আনপ্লাগড'-এ প্রশংসা পেয়েছে তাঁর গান। তবু অ্যাশ কেন এত কম গাইছেন? সিনেমার গানের বাইরে তাঁর কোনো একক অ্যালবামও নেই। 'আসলে লন্ডনে থাকার কারণে অনেক কাজই মিস হয়েছে। প্রথম দিকে গান নিয়ে ততটা সিরিয়াসও ছিলাম না। তবে এখন নিজের একটা ভক্তগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। চেষ্টা করছি গানে নিয়মিত হতে'-বলেছেন অ্যাশ কিং।



মন্তব্য