kalerkantho


এই দীপু সেই দীপু

'দীপু নাম্বার টু'র সেই অরুণ সাহা আবারও ফিরে এসেছেন   

১৮ জুন, ২০১৫ ০০:০০



এই দীপু সেই দীপু

১৯৯৬ সালে মুক্তি পায় মোরশেদুল ইসলামের 'দীপু নাম্বার টু'। ছবির দীপু সহজ-সরল অভিব্যক্তি দিয়ে মন জয় করে নিয়েছিল। মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, সেই গল্প এখন কেন? কারণ, দীপু চরিত্রের সেই অরুণ সাহা আবার অভিনয়ে ফিরেছেন। জীবনানন্দ দাশের কবিতার লাইন ধরে জিজ্ঞেস করতে হলো 'এত দিন কোথায় ছিলেন?' প্রশ্ন শুনে হাসি। হ্যাঁ, সেই দীপুই যেন হাসছেন। তারপর বলতে শুরু করলেন হারিয়ে যাওয়ার গল্প। নটর ডেম থেকে এইচএসসি পাস করে ভারতের দিল্লি ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে ভারত, জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরি করেন বেশ কিছুদিন। ২০১১ সালে দেশে ফিরে আসেন। ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করেছেন। 'দীপু নাম্বার টু'র কারো সঙ্গে দেখা হয়নি? "মাস দুয়েক আগে হঠাৎ করেই শুভাশিসের (দীপু নাম্বার টু-এর তারেক) সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর পর দেখা। ও তো এখন পুরোদস্তুর পরিচালক। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'কাটুস কুটুস' নির্মাণ করেছে। ও উৎসাহ দেয় অভিনয়ে ফেরার। ওর মাধ্যমেই কয়েকজন পরিচালক যোগাযোগ করেন। এভাবেই সুমন ধরের টেলিছবি 'খোলা দরজা'য় অভিনয় করলাম।" বললেন অরুণ।

শরাফ আহমেদ জীবনের নির্মাণে একটি হ্যান্ডসেটের বিজ্ঞাপনেও মডেল হয়েছেন। এ মাসের শেষের দিকে প্রচার শুরু হবে।

তাহলে কি অভিনয়ে নিয়মিত পাওয়া যাবে, নাকি আবার ডুব? "তার আগে কিছু কথা বলতে চাই, দেশে আসার পর মিউজিক নিয়েও বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। বিটিভিতে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল মিউজিকের অনুষ্ঠান 'চির শিল্পের বাড়ি'সহ বেশ কয়েকটি গানের অনুষ্ঠাতে গাইতাম। গান নিয়ে আমার অনেক প্ল্যান আছে। আয়ারল্যান্ডে 'নিউপার্ক মিউজিক সেন্টার'-এ অ্যাডমিশন নিয়েছি। আগস্টেই সেখানে যাব। তবে কোর্সটা শেষ করে আবার দেশে ফেরার ইচ্ছে আছে।"

অভিনয়? 'হ্যাঁ, এর মধ্যে ভালো গল্পের ভালো চরিত্র পেলে অবশ্যই করব। বিদেশ থেকে ফিরেও করার ইচ্ছে আছে।'

মনে পড়ে 'দীপু নাম্বার টু'র সেই সব স্মৃতি? 'হুবহু বলে দিতে পারি সব। সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালীন শুটিং শুরু, অষ্টমে শেষ। প্রায় দেড় বছরের শুটিং। ছবির প্রায় ৯৫ শতাংশ দৃশ্যেই তো আমি। তখন বেশ ধকল গেছে। বন্ধুদেরও মনে পড়ে। কারো সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই। ফেসবুকে আলাপ হয় অনেকের সঙ্গে। সবাই পেশাগত কাজে ব্যস্ত। বুলবুল আহমেদ, আবুল খায়ের, গোলাম মোস্তফা, ববিতা মেম-সবাইকে মিস করি। মোরশেদুল ইসলাম আঙ্কেলের সঙ্গে দেখা হয় অবশ্য মাঝেমধ্যে।' বললেন অরুণ।

বিদেশে থাকলেও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। আক্ষেপ নিয়ে বলেন, 'এখন সবকিছু এত এগোচ্ছে কিন্তু আমাদের চলচ্চিত্রের মান পড়ে যাচ্ছে।' বাংলাদেশে এসে সর্বশেষ 'মেঘমল্লার' দেখেছেন।



মন্তব্য