kalerkantho


সাহস রিটার্নস

শিশুশিল্পী হিসেবেই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন রংপুরের ছেলে সাহস মোস্তাফিজ। ভাওয়াইয়া গেয়ে পরিচিতি পাওয়া এই শিল্পী বড় হয়ে এলেন আধুনিক গানে। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন, ছবি তুলেছেন নাভিদ ইশতিয়াক তরু   

৪ ডিসেম্বর, ২০১৪ ০০:০০



সাহস রিটার্নস

বাসা থেকে বেরিয়ে প্রায়ই দেখেন তাঁর মানিব্যাগে ১০০ টাকা বেশি! একদিন তো সাতসকালে মোবাইলে ৫০ টাকা এসে জমা! টেনশনে পড়ে গেলেন সাহস- এগুলো কী হচ্ছে! পরে জানতে পারেন এগুলো তাঁর নবম শ্রেণিপড়ুয়া বোন মনিফা মোস্তাফিজ মনের কাজ। টিফিনের জন্য বাসা থেকে সামান্য টাকা পায়। সেই টাকা জমিয়েই কি না ভাইয়ের জন্য এগুলো করে! পরে ছোট বোনের এই ভালোবাসার রহস্য উদ্ঘাটন করেন সাহস! 'তখন আমার নতুন অ্যালবামের (সাহস রিটার্নস) কাজ চলছিল। প্রতিদিন রেকর্ডিং স্টুডিওতে যেতে হয়। অনেক খরচ! ছোট বোন তার মতো করে চেষ্টা করেছে আমাকে যতটা হেল্প করা যায়। তার এই ভালোবাসায় আমি অভিভূত! সংগীতই আমাদের দুই ভাই-বোনের মনে এমন ভালোবাসার অনুভব জাগিয়েছে।'

সিডি চয়েসের ব্যানারে প্রকাশ পেয়েছে 'সাহস রিটার্নস'। তিন বছর বয়স থেকেই প্রথমে স্টেজ এবং পরে অ্যালবামের মাধ্যমে রংপুর অঞ্চলজুড়ে গান করলেও বড় হওয়ার পর এবারই প্রথম অ্যালবাম করলেন। আগে গাইতেন ভাওয়াইয়া। তবে এই অ্যালবামের একটি বাদে সব আধুনিক গান। একটি গানের ডাবল ভার্সনসহ অ্যালবামে গান রয়েছে ১২টি। কয়েকটির কথা ও সুর করেছেন সাহস নিজেই। এ ছাড়া রয়েছেন তাঁর বাবা এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, সুবীর নন্দী, মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, ফোয়াদ নাসের বাবু ও বাপ্পা মজুমদার। অ্যালবামের একমাত্র দ্বৈত গান 'প্রজাপতি সুর'-এ সাহসের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন ছোট বোন মন।

রেসপন্স কেমন? সাহস বলেন, '১১ বছর পর এই অ্যালবামটি দিয়ে সংগীতে ফিরেছি। একটু টেনশনে ছিলাম। সবার কাছ থেকে যে পরিমাণ ইতিবাচক মন্তব্য পাচ্ছি তাতে আমি হ্যাপি!'

ভাওয়াইয়া ছেড়ে আধুনিকে এলেন যে?- 'আসলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের সব কিছু বদলায়। ভাওয়াইয়া গান আমার প্রাণের সঙ্গে মিশে আছে। অন্য ধারার সংগীতও কিন্তু আমি দীর্ঘদিন ধরে রপ্ত করেছি। নতুনভাবে নতুন কিছু দিয়ে শুরু করলাম, এই আর কি! গানগুলো কিন্তু গতানুগতিক যে গান হয় তার বাইরে গিয়ে করা। গান তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের নিত্যদিনের বিভিন্ন অনুভূতি, টানাপড়েন, সুখ-দুঃখ- এ বিষয়গুলো তুলে আনার চেষ্টা করেছি। শ্রোতারা শুনলেই বুঝতে পারবেন'- বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সাহস।

ছোটবেলায় পাঁচ শতাধিক মঞ্চে গান করেছেন। দুটি একক অ্যালবাম করেছিলেন। দুটিই পেয়েছিল শ্রোতাপ্রিয়তা। 'আরমান' ছবিতে প্লেব্যাকও করেছিলেন। একবার ভারত সরকারের আমন্ত্রণে কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা ও বলরামপুরের তিনটি মঞ্চে প্রায় লাখো মানুষের সামনে ভাওয়াইয়া গান করেছিলেন। জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম হয়েছিলেন দুবার- এমন আরো অনেক অর্জন খুদে সাহসের ভাণ্ডারে জমা। সামনের দিনগুলোতে গান নিয়ে সাহসের স্বপ্ন কী?- 'ছোটবেলার সব অর্জন এবং পাওয়ার মধ্যে এক ধরনের আনন্দ ছিল, যার অর্থ আমি হয়তো ঠিকমতো বুঝতেও পারিনি। এখন বড় হয়েছি। এখনকার যেকোনো অর্জন বা প্রাপ্তির গুরুত্বও আমার কাছে অন্য রকম। গানের মাধ্যমে নিজেকে নতুন রঙে সাজাতে চাই।'



মন্তব্য