kalerkantho


গল্প চালাও, ফিল্ম বানাও

'স্টপ নট বাংলাদেশ' আয়োজন করে ক্যাম্পাসভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা বানানোর প্রতিযোগিতা 'গল্প চালাও, ফিল্ম বানাও'। গ্রে অ্যাডভার্টাইজিং ও কারখানা প্রডাকশনের সহযোগিতায় দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত ১০ শিক্ষার্থী ১০টি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা বানান। ১০ মিনিটের সিনেমাগুলো ১৮ নভেম্বর ফেসবুকে মুক্তি দেওয়া হয়। এই ১০ তরুণকে নিয়ে লিখেছেন সাইমুম সাদ   

২০ নভেম্বর, ২০১৪ ০০:০০



গল্প চালাও, ফিল্ম বানাও

ফখরুল আমান ফয়সাল

পড়ছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে। প্রচুর মুভি দেখেন। হিন্দি ছবির পোকা। লেখালেখিতেও আগ্রহ। একসময় লিখে ফেললেন গল্প 'শেষের পরের চিঠি'। এক দম্পতির জীবনের চড়াই-উতরাইয়ের গল্প।

আর এ এহসান

সিনেমা নিয়েই পড়ছেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাশিয়ান ও ইরানি ছবির প্রতি ঝোঁক। ছবি দেখতে দেখতেই একসময় ভাবলেন নিজেই একটা ছবি বানাবেন। ডায়েরির সাধারণ কাহিনীকে উপজীব্য করে বানিয়ে ফেললেন 'আ ডায়েরি ফ্রম পাস্ট'। এতে কাজের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী স্বাগতা।

আমিনুল ইসলাম ইসহাক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলার শিক্ষার্থী। ঘুরতে ভালোবাসেন। মানুষের জীবনের নানা বাস্তবতাকে নিজের চোখে দেখেন। চোখে দেখা কাহিনী নিয়েই নির্মাণ করেছেন একটি ছবি। গল্পটা বন্ধু সুশান্ত হালদার ও ইসহাক দুজন মিলে লিখেছেন। তবে সিনেমার নামটা এখনো ঠিক করতে পারেননি। দুটি শিশুকে ঘিরে গল্প। ধনী পরিবারের শিশুটি সকালে বাবার গাড়িতে স্কুলে যায়, পথশিশুটি রোজ রোজ সকালে ফুল বিকোতে বেরোয়।

ইয়াসিন শাফি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈয়দ জুবায়েরের গল্প নিয়ে সিনেমা বানিয়েছেন চবি চলচ্চিত্র সংসদের সদস্য ইয়াসিন শাফি। গ্রামীণ জীবনের পটভূমির ছবিটির নাম 'মরণঢুলি'। একজন ঢুলির জীবনের নানা চড়াই-উতরাই উঠে এসেছে। এতে এক চা বিক্রেতা চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিশু সাব্বির। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর ও শাহবাগে শুটিং হয়েছে।

আসিফ অনিক

কলকাতার ছবির প্রতি আলাদা দুর্বলতা। ছবি দেখে দেখে নিজের মধ্যে ডিরেক্টর হওয়ার বাসনাটা জেগে ওঠে। আগপাছ না ভেবে বানিয়ে ফেললেন 'আংটি রহস্য'। সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে পড়ছেন অনিক।

ইমন ফয়সাল

পড়ছেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের কম্পিউটার সায়েন্সে। এমন কাঠখোট্টা বিষয়ে পড়েও অনেকটা মনের জোরেই বানিয়েছেন 'এক কাপ চা'। সিনেমায় দেখা যাবে চা খেতে খেতেই নায়ক-নায়িকার সম্পর্কের শুরু। এরপর কাপের পর কাপ চা চলবে।

ঈশিকা নাজমুন জুয়েনা

একজন ট্রাফিক পুলিশের জীবনের গল্প ফ্রেমবন্দি করতে চেয়েছেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এ শিক্ষার্থী। সিনেমার নাম 'ট্রাফিক ফোবিয়া'। ১৭ ও ১৮ অক্টোবর রাজধানীর মগবাজার চৌরাস্তা ও কারওয়ান বাজারে শুটিং করেছেন। রাস্তার অবর্ণনীয় জ্যাম আর রোদে পুড়ে শুটিং করতে ১০ জনের ইউনিটের ওপর দিয়ে বেশ হ্যাপা গেছে। হ্যাপার চোটে প্রথম দিনই সাতজন লাপাত্তা হয়ে যায়। শেষমেশ তিনজনকে দিয়েই শুটিং শেষ করেন।

হাসান যোবায়ের

মজার ও রোমান্টিক একটি গল্প নিয়ে 'ফিরে এসো ফারিয়া' নির্মাণ করেছেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষার্থী। গল্পে দেখা যাবে একজন একটি ঘুড়ি কুড়িয়ে পাবে। তাতে লেখা আছে, 'ফিরে এসো ফারিয়া'। ছেলেটি ঘুড়ির একটি ছবি ফেসবুকে আপলোড করে। এরপর থেকেই স্যোশাল মিডিয়ার ঝড় ওঠে। বেশ কয়টি ইভেন্ট খোলা হয়। ফারিয়াকে খুঁজে পেতে মানববন্ধন পর্যন্ত করা হয়।

হোসেন নাবিল

ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির ছাত্র। তাঁর ছবির গল্প একটা ফুল ও চিরকুটকে ঘিরে। নাম দিয়েছেন 'জার্নি অব এ ফ্লাওয়ার'। সোনিয়া নামে একটি মেয়েকে ভালোবাসে সিনেমার নায়ক হিরণ। ফুলের মধ্যে একটা চিরকুট লিখে তার কাছে পাঠিয়ে দেয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ফুলটি আরেকজনের হাতে পড়ে। এভাবে ফুলটি হাতবদল হতে হতে এক দম্পতির কাছে পৌঁছে। ঘটনাটা তখন ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

ইব্রাহিম বিন মওদুদ

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সুযোগটা কিছুতেই হাতছাড়া করেননি। শখের সিনেমাটির নাম দিয়েছেন, 'মিলু আর কখনো সাইকেল হারায়নি'। গল্পটা সাইকেলকে নিয়ে। নায়ক মিলু একবার সাইকেলটা হারিয়ে ফেললে মা তাকে বকা দেন। অভিমানে ছেলেটি আত্মহত্যা করতে যায়। সেখানেই ঘটতে থাকে এক ভুতুড়ে কাহিনী। এক মৃত তরুণী তাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচায়। মিলু ফিরে আসে জীবনের পথে।

 

 



মন্তব্য