kalerkantho


প্রথম দানেই বাজিমাত!

প্রথম অ্যালবামেই বাজিমাত। এমন কিছু অ্যালবাম আর শিল্পীর গল্প নিয়ে এই ফিচার, লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন   

২৩ অক্টোবর, ২০১৪ ০০:০০



১৯৮১ সালে 'হিটস অব এম এ শোয়েব-ভলিউম ওয়ান' অ্যালবামটি দিয়ে সংগীতের নতুন যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। সেটিই ছিল ক্যাসেট আকারে এ দেশের কোনো শিল্পীর প্রথম অডিও অ্যালবাম। তার ঠিক মাসখানেক বাদেই আসে কুমার বিশ্বজিতের 'বেস্ট হিটস অব কুমার বিশ্বজিৎ'। টেলিভিশন ও রেডিওতে গাওয়া গানের পাশাপাশি নতুন কিছু গান নিয়ে অ্যালবামটি সাজান তিনি। দুটি অ্যালবামই শ্রোতারা লুফে নেয়। তবে সম্পূর্ণ নতুন গান নিয়ে অ্যালবাম বের করে রাতারাতি তারকা বনে যান তপন চৌধুরী। স্বনামে প্রকাশিত তাঁর প্রথম অ্যালবামটি আসে ১৯৮৪ সালে। যে অ্যালবামের 'পলাশ ফুটেছে শিমুল ফুটেছে'সহ প্রায় সব গানই পায় জনপ্রিয়তা। একই বছরের অ্যালবাম শুভ্র দেবের 'হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা'। এই অ্যালবামটিও বেশ জনপ্রিয়তা পায়। শুভ্র দেব বলেন, 'সেই দিনগুলোর কথা মনে হলে এখনো অদ্ভুত একটা ভালো লাগা কাজ করে। ওই অ্যালবামটি দিয়েই আমি আজকের অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি!' প্রথম অ্যালবাম দিয়ে গায়িকাদের মধ্যে প্রথম বাজিমাত করেন বেবী নাজনীন। ১৯৮৭ সালে সারগাম থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম সেলফ টাইটেল। ঠিক দুই বছর পরই এই তালিকায় নাম লেখান ডলি সায়ন্তনী। ১৯৮৯ সালে বের হওয়া ডলির 'হে যুবক'-এর 'রংচটা জিন্সের প্যান্ট পরা, জলন্ত সিগারেট ঠোঁটে ধরা'- ঝড় তোলে লাখো প্রাণে। ডলির অ্যালবামের রেশ না কাটতেই ১৯৯০ সালে রবি চৌধুরী নিয়ে আসেন 'প্রেম দাও'। এই অ্যালবামের সব গানই তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। পরের বছরই আসে আদনান বাবুর 'রং নাম্বার'। 'রং নাম্বার', 'মৌচাক মার্কেটে'সহ এ অ্যালবামের কয়েকটি গান মুখে মুখে ফেরে। 'তোমার কোনো দোষ নেই' দিয়ে মনির খানের আত্মপ্রকাশ ১৯৯৫ সালে। এই অ্যালবামটিও শ্রোতা হৃদয়ে জায়গা করে নেয় দ্রুত। স্মৃতিটা এখনো টাটকা মনির খানের কাছে, 'কখনো ভাবিনি অ্যালবামটির মাধ্যমেই গানের জগতে এভাবে স্থায়ী হয়ে যাব।'

মনির খানের জোয়ার থাকতে থাকতেই ২০০১ সালে 'ও প্রিয়া তুমি কোথায়' নিয়ে হাজির হন আসিফ। অ্যালবামের ১২টি গানের সবকটি মুখে মুখে ফেরে। বছর তিনেক আগে আসিফ জানান, তখন পর্যন্ত এই অ্যালবামটি ৫০ লাখ কপির বেশি বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বিক্রীত অ্যালবামগুলোর একটি এটি। এরপর টানা ১০ বছর চলে আসিফ রাজত্ব! 'মাববী কি ছিল গো ভুল'-এর (২০০২) মাধ্যমে আসিফের ঘাড়েই নিঃশ্বাস ফেলছিলেন আতিক হাসান। টানা কয়েকটি অ্যালবামে সাফল্যও পেয়েছিলেন। তারপর হঠাৎ করেই উধাও! মধ্যে 'একটা চাদর হবে'র মাধ্যমে আলোচিত হন জেনস সুমন। তবে সাফল্য ধরে রাখতে পারেননি। ২০০৫ সালে অর্ণব প্রকাশ করেন নিজের প্রথম একক 'চাই না ভাবিস'। অ্যালবামের 'সে যে বসে আছে' গানটি দারুণ দোলা দেয় তরুণ মনে। সংগীতাঙ্গনে নিজের একটা অবস্থানও তৈরি হয় অর্ণবের। সংগীত পরিচালক হিসেবে আগেই আলোচনায় আসা হাবিব ২০০৬ সালে প্রকাশ করেন নিজের প্রথম অ্যালবাম 'শোনো'। এই অ্যালবামটিও দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। এটি দিয়ে গায়ক হিসেবেও নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন হাবিব। তাঁর পরই বালামের পালা। মিক্সড অ্যালবাম 'প্রেম শিকারী' দিয়ে আগেই জানান দেওয়া বালাম ২০০৭ সালে প্রকাশ করেন প্রথম একক 'বালাম'। অ্যালবামটির মাধ্যমে প্রায় তিন দশক পর আবারও নিজ নামে অ্যালবামের নামকরণের শুরু। এ অ্যালবামের 'এক মুঠো রোদ্দুর', 'তোমার জন্য', 'লুকোচুরি'সহ সব গানই শ্রোতার মন জয় করে। এটির সাফল্যের কারণে পরের অ্যালবামটিই সংগীতার কাছে ৩০ লাখ টাকায় বিক্রি করে অডিও বাজারে রেকর্ড গড়েন বালাম। একই বছর প্রকাশ পায় শিরিনের 'পাঞ্জাবিওয়ালা'। অ্যালবামটির টাইটেল গানটি চারদিকে ছড়িয়ে যায় দ্রুত। পরের বছরই 'বন্ধু ভাবো কি' অ্যালবামটি প্রকাশ করে সংগীতাঙ্গনে নিজের প্রতিভার জানান দেন তপু। পান শ্রোতাদের ভালোবাসাও। মধ্যে 'হৃদয় মিক্স' দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও হৃদয় খানের প্রথম একক 'বল না' আসে ২০০৯ সালে। একই বছর আসে কাজী শুভর 'সাদামাটা'। বিক্রির দিক থেকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে এই দুই অ্যালবামের। ২০১০ সালেও প্রথম এককের মাধ্যমে একজোড়া শিল্পী অডিও অঙ্গনে সাড়া ফেলেন। এর মধ্যে শফিক তুহিনের 'স্বপ্ন এবং তুমি' ও 'এর বেশি ভালোবাসা যায় না' তো রীতিমতো ডায়ালগে পরিণত হয়। আর পড়শীর গোটা 'পড়শী' অ্যালবাটিই ঠাঁই করে নেয় শ্রোতা হৃদয়ে।

২০১২ সালে প্রথম অ্যালবাম বের করে চারজন শিল্পী আলোচনায় আসেন। তাঁদের মধ্যে অ্যালবাম বিক্রিতে শীর্ষে ছিলেন বেলাল খান। তাঁর 'আলাপন' অ্যালবামের বেশির ভাগ গানই প্রশংসা কুড়ায়। আর 'কাটে না যে বেলা, একাকী একেলা' গানটি পায় আশানুরূপ জনপ্রিয়তা।

 

 



মন্তব্য