kalerkantho


উৎসব

নওরোজ বাইরাম

সৈয়দ আশফাকুল হাসান   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০



নওরোজ বাইরাম

ফারসিতে নও মানে নতুন, আর রোজ মানে হলো দিন। আজারবাইজানেও নওরোজ বড় উৎসব। আজারবাইজানিদের উৎসবের নাম নওরোজ বাইরাম। বাইরাম মানে ছুটি। মার্চের ২১ তারিখে নওরোজ। উৎসব হয় ২০, ২১, ২২ মার্চ মানে তিন দিন।

 

নওরোজের শুরু

জরথুস্ট্রবাদের সঙ্গে নওরোজের যোগ আছে। আদি আজারবাইজানেরই কোনো জায়গা থেকে জরথুস্ট্রবাদের প্রচার শুরু হয়েছিল। খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০-৫০০ বছরের মধ্যে এ ধর্মমতের উদ্ভব ও প্রসার। ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল। তবে ব্যাবিলনে নাকি তিন হাজার বছর আগেও নওরোজ উৎসব হতো। হতো নাকি ১২ দিন ধরে!

 

এখনো আগের মতোই

আজারবাইজানিরা পুরনো দিনের মতোই এ উৎসব পালন করে। তাদের লোককথা মতে, মাসের প্রথম সপ্তাহে পানি আত্মাকে শুদ্ধ করে, দ্বিতীয় সপ্তাহে আগুন করে, তৃতীয় সপ্তাহে করে মাটি, আর বায়ু করে চতুর্থ সপ্তাহে। আজারবাইজান নামের অর্থও আগুনের ভূমি। উৎসবের দিনগুলোয় আজারবাইজানিদের অন্য রকম সময় কাটে। এ সময় তারা কেউ কাউকে খারাপ কথা বলে না, খারাপ কাজেও জড়ায় না। পুলিশের খাতা থেকে জানা যায়, এ সময় আজারবাইজানে অপরাধ নেমে আসে শূন্যের কোটায়।

 

সব এমন

বাড়িঘর পরিষ্কার করার মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়। নতুন কাপড় পরার চলও আছে। আত্মীয়-স্বজনরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবরও করে। উপহার বিনিময় করে পরস্পরে। উৎসব শুরুর দিন পরিবারের সবাই একটি খাবার টেবিল ঘিরে জড়ো হয়। পারিবারিক এই ভোজে হাফত-সিন পরিবেশন করা হয়। এটি গম, বার্লি, মুগের দানা ইত্যাদি সাত পদ মেলানো খাবার। আরো থাকে নতুন চাল দিয়ে তৈরি পুডিং, রসুনের আচার, আপেল, লাল রঙের ফল ইত্যাদি। কাছাকাছি রাখা হয় ধর্মীয় বই, আয়না, জ্যান্ত গোল্ডফিশ, একটি কুপি, নকশা করা ডিম, ফুল ইত্যাদি। শুরুতে অবশ্য পোলাও খেতে হয়। এরপর আগুনের ওপর দিয়ে সাতবার লাফ দেওয়ার চল আছে। তখন অংশগ্রহণকারীরা বলতে থাকে, ‘আগুন তোমার লাল দাও, আমার হলুদ নাও।’ হলুদকে বিবর্ণ ধরা হয় আর তা ত্যাগ করার আগ্রহ থাকে তাদের। আগুনের লালকে ধরা হয় শক্তির প্রতীক। এরপর রং করা ডিম একে অন্যের দিকে ছুড়ে মারে। ছোটরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের টুপি রেখে আসে। বড়রা সেটি চকোলেট দিয়ে ভর্তি করে দেয়।

 

আয় বাড়ি আয়

আজারবাইজানিরা মনে করে, নওরোজ ঘরে আসার উপলক্ষ। এ সময় যারা ঘরে আসবে না, তারা সাত বছর বাড়ি ছাড়া থাকবে। পরিবার হচ্ছে আজারবাইজানি সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। নওরোজ পারিবারিক বন্ধন শক্ত করে। নওরোজে মেয়েরা দল বেঁধে মিষ্টি তৈরি করে। বাদাম ভাঙাও উৎসবের অংশ। এখানে বাদাম কঠিন জীবনের প্রতীক। কঠিন আবরণ ভাঙতে পারলে জীবন সহজ হয়, পুরস্কারও মেলে।



মন্তব্য