kalerkantho

সুপ্রভাত বাংলাদেশ

সকালে পত্রিকা বিকালে বই

নিজে বেশি দূর পড়তে পারেননি কামাল হোসেন। জীবিকার তাগিদে পত্রিকা বিলি করেন আর বিকেলের অবসরে বই পড়া আন্দোলন চালান। ময়মনসিংহের ত্রিশালে কামালের বাড়ি। তাঁর খবর পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ নোমান

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সকালে পত্রিকা বিকালে বই

কামালের বয়স ত্রিশও হয়নি। তাঁরা চার ভাই, এক বোন। বাবা সংসার টানতে পারছিলেন না। তাই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েই কাজের খোঁজ করতে লেগেছিলেন। গিয়েছিলেন পত্রিকার এজেন্ট আবুল খায়ের বাদশার কাছে। চেয়েছিলেন চাকরি। বাদশা বলেছিলেন, ‘পত্রিকা বিলি করার কাজ দিতে পারি।’ কামাল সে কাজই নিলেন। সেটা ২০০৭ সাল। কাজের একটা ব্যবস্থা হওয়ার পর তিনি তরুণদের কথা ভাবতে থাকলেন। ভাবছিলেন তাদের মাদক থেকে দূরে রাখার কথা। প্রথমে ২০১০ সালে গড়ে তুললেন কোনাবাড়ী স্পোর্টিং ক্লাব। সংগঠনটি খেলাধুলায় উৎসাহ জোগায়, সমাজসেবার কাজও করে। মাসব্যাপী কোনাবাড়ী প্রিমিয়ার লীগ আয়োজন করে। বছরে দুবার শিক্ষা সফরের ব্যবস্থা করে।

 

তারপর লাইব্রেরি

সুরুজ মণ্ডলের জমি ভাড়া নিয়ে বন্ধুবান্ধবরা মিলে মাটি কাটা শুরু করেন। তারপর একটি টিনের ঘর তোলেন। মেঝে পাকা করার জন্য বিত্তবানদের সহযোগিতা নিয়েছেন। সেটা ২০১৫ সাল। পাঠাগারের নাম রাখেন জ্ঞানকোষ পাঠাগার। এটি একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি। পাঠাগারে এখন হাজারের বেশি বই আছে। পাঠাগারের জন্য চেয়ারও কিনেছেন। কেউ কেউ অবশ্য পাঠাগারের সামনের খোলা জায়গায় বসেও বই পড়ে।

 

কামালের এক দিন

প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই বিছানা ছাড়েন কামাল।  দেরি না করে বেরিয়ে পড়েন। ঢাকা থেকে আসা গাড়িগুলোর অপেক্ষায় থাকেন, যেগুলো পত্রিকা পরিবহন করে। পত্রিকা পাওয়ার পর সেগুলো বান্ডেল করার কাজে লেগে যান। বান্ডেলের ওপর বিভিন্ন এলাকার নাম লেখেন। তারপর তাঁর দলের কর্মীদের হাতে তুলে দেন বিতরণের জন্য। নিজে ছোটেন পৌর এলাকায় পত্রিকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। দুপুর ১টা পর্যন্ত বিলি ও টাকা কালেকশনের কাজ করেন। তারপর বাড়ি ফিরে গোসল আর খাওয়াদাওয়া সেরে স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান।

 

বিকেলটা বইয়ের সঙ্গে

বিকেল হওয়ার আগেই আবার বেরিয়ে পড়েন। কোনো দিন বই সংগ্রহ করেন, কোনো দিন তরুণদের সঙ্গে বসে নতুন কোনো কর্মসূচি পরিকল্পনা করেন। সন্ধ্যা হওয়ার আগেই সমবয়সী কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে স্কুল-কলেজ বা মাদসাসাপড়ুয়া ছাত্রদের নিয়ে পাঠাগারে বসেন। সবাই মিলে ঘণ্টাখানেক পাঠচক্রে কাটান। কোনো কোনো দিন অবশ্য খেলার মাঠে গিয়ে শরীরচর্চা করেন। 

কামালের পরিকল্পনা

কামাল মাদক ঘৃণা করেন। বললেন, ‘মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণসমাজকে বাঁচাতেই মূলত এত সব উদ্যোগ। সবাই যদি এমন সব সেবামূলক কাজে এগিয়ে আসে তাহলে দেশ মাদকমুক্ত হবে। আমি আরো চাই অর্থাভাবে যেন কোনো ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ না হয়।’

কামালের কাজে খুশি আবুল খায়ের বাদশা। বললেন, ‘কামাল আমার স্টলে যোগ দেওয়ার পর আমি টেনশনমুক্ত থাকি। সব কাজই সে দায়িত্ব নিয়ে করে। তাঁর মধ্যে ক্লান্তি দেখি না।’

মন্তব্য