kalerkantho

ফেসবুক থেকে পাওয়া

৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেসবুক থেকে পাওয়া

টাকা ছাড়া ঢাকা

বাড়ি থেকে ঢাকা আসব। সকাল ৯টায় বাস ছেড়েছে চুয়াডাঙ্গা থেকে। বাসে ওঠার আগে আম্মু এক প্রকার জোর করেই ভাত খাইয়ে দিলেন। মেসে থাকি, কি না কী খাই, তাই। বাস ছাড়ার পরই বমি হলো, মাথাটাও কেমন যেন ঘুরাচ্ছিল। বুঝলাম পেটে গরম ভাত সহ্য হয়নি। ঝিনাইদহ এসে একটা বিরতি দিল বাস। নেমে হাত-মুখ ধুয়ে নিলাম। আবার বাস ছাড়ার মিনিট দশেক পর মনে হলো মানিব্যাগ ফেলে এসেছি। কোথায় ফেলে এসেছি বুঝতে পারলাম না। বাড়িতে বললে নির্ঘাত বকুনি খেতে হবে। যাই হোক, খালি পকেটে ঢাকা যাচ্ছি এই প্রথম, নিজেকে কেমন যেন অচেনা লাগছে। মাওয়া-কাউরাকান্দি ফেরির কাছাকাছি এসে দেখি প্রচণ্ড জ্যাম। বাসের সুপারভাইজারকে জিজ্ঞেস করলাম—ভাই কতক্ষণ লাগতে পারে?

‘যে জ্যাম দেখছি মামা, ঘণ্টা তিনেকের কমে হইবে না।’ বলেই তিনি বাস থেকে নেমে গেলেন। আমি সুপারভাইজারের সিটে গিয়ে বসলাম। একটু পর দেখি তিন-চারজন হিজড়া আমাদের বাসের দিকে আসছে। আমার তো পিলে চমকানোর অবস্থা। আমার কাছে টাকা নেই—এটা বললে ওরা বিশ্বাস করবে না। তারা বাসে উঠে আমার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করেই ভেতরে ঢুকে গেল। সবার কাছ থেকে টাকা তোলা শুরু করল। যা বুঝলাম, ওরা আমাকে সুপারভাইজার ভেবে টাকা চায়নি। এ ঘটনায় মন কিছুটা হলেও ভালো হলো। পরে সেই বাসে করেই ঢাকা পৌঁছলাম।

আল সানি

সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি

 

দুই বছর পর দেখা

দিন দশেক আগে কথা হয়েছিল। প্রেরণা বলেছিল, ‘এই, দেখা করবা?’

—কবে?

—এটা কিন্তু কোনো অনুরোধ নয়, জাস্ট প্রপোজাল। তুমি কনসিডার করতে পারো, না-ও পারো।

আমি হেসেই বললাম, ‘ঠিক আছে, জানাব।’

প্রেরণা বলল, বুধবার একটা পরীক্ষা আছে। এরপর ফ্রি। ওই সময়টাতে দেখা করা যায়। দুই বছর পর আমাদের দেখা হবে। তাই বুধবার সকাল থেকে একটা ভালোলাগা কাজ করছিল মনে। আমি ভেতরে ভেতরে তৈরি হচ্ছি প্রেরণার সঙ্গে দেখা করার জন্য। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই গন্তব্যে পৌঁছলাম। প্রেরণাও ঠিক সময়েই এলো। মুখে তার হাসির ছাপ। চোখে এদিক-ওদিক কাউকে খুঁজছে। অসম্ভব সুন্দর লাগছিল ওকে। দূর থেকে দাঁড়িয়ে প্রেরণাকে দেখছি। মুখে মাস্ক পরে দাঁড়িয়ে আছি দেখে চিনতে পারেনি। ইচ্ছা হচ্ছিল দূর থেকেই দেখি। একটু পরে সামনে গেলাম। প্রেরণা আমাকে দেখে আনন্দে লাফিয়ে উঠল।

একটা বেঞ্চে গিয়ে বসলাম আমরা; কিন্তু মুখ দিয়ে কোনো কথায় বের হচ্ছিল না। আমার গলা যেন শুকিয়ে আসছিল।

খেই হারিয়ে আমি শেষ কথাটাই শুরুতে বলে ফেললাম—আমাকে যেতে হবে।

প্রেরণা হঠাৎ কথা ভুলে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। বলল, দুই বছর তো কম সময় নয়, কত কথা জমেছে!

—আমি শুধু তোমাকে দেখতে এসেছি।

—আমি কিন্তু অন্য কারণে এসেছি। তোমার চুলে আরেকবার আঙুল বোলাতে চাই।

ইচ্ছা হলো প্রেরণাকে বুকে টেনে নিই। মনে মনে বললাম, ‘আমিও তোমার হাতটা ধরতে চাই।’ যাই হোক, ব্যাগ থেকে একটা বক্স বের করল সে। বলল, ‘বাসায় গিয়ে খুলে দেখবা।’

—এইখানে দেখি?

 —না, বাসায় গিয়ে দেখবা।

বাসায় ফিরে বক্স খুলে দেখলাম একটা চিরকুট। তাতে লেখা ‘হারিয়ে গেলে তোমার আমাকে খুঁজতে হবে না, আমি তোমাকে খুঁজে নেব, তোমার প্রতিটি পথ আমার চেনা।’

 

আতিকুর রহমান

ইংরজি বিভাগ, ফেনী সরকারি কলেজ

 

সে বলেছিল

সে ফোন করে বলেছিল, নদীর তীরে আসার কথা।

বৈকালিক হাওয়ায় প্রতিদিনই আসি। সে আসে না। ফোন অফ।

নদীর থইথই জল দেখি।

ঢেউয়ের ভাঁজে ভাঁজে দুলতে দেখি  ফুল।

উড়তে দেখি বালি হাঁস, পানকৌড়ি আর মাছরাঙাদের।

ডিঙি বেয়ে চলতে দেখি জেলে মাঝি দলের।

কত দিন পর আজ দেখি

নদীর জলে আমার প্রতিচ্ছায়ার পাশে যুগলবন্দি হাসিমাখা মুখে দাঁড়িয়ে দুজন।

ফিরে চাইতে মুচকি হেসে সে বলল,

কেমন আছ? আমরা বেড়াতে এসেছি।

আমি ছলছল চোখে অপলক ছিলাম। বলতে পারিনি কিছু।

শরীফ সাথী

মন্তব্য