kalerkantho


গর্বিত বাংলাদেশ

ডলি বেগমের সঙ্গে দেখা

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ডলি বেগমের সঙ্গে দেখা

ডলি বেগমের বাসায় লেখক

কানাডার নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টির ডলি বেগমের কথা অনেকেই মনে করতে পারবেন। অন্টারিওর তিনি এমপিপি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কেউ ডলির আগে এমন গৌরব অর্জন করেননি। কয়েক দিন আগে তাঁর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন শামীম আল আমিন

 

লিফটে ১২ তলায় উঠলাম। ডলিকে দেখি ফ্ল্যাটের দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। হাসিমুখে ভেতরে নিয়ে গেলেন। বসার জায়গা দেখিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ব্যস্ত দিন গেল।’ ডলি বেগম এমপিপি (মেম্বার অব প্রভিনশিয়াল পার্লামেন্ট) ওই দিনই পার্লামেন্টে প্রথম বক্তৃতা দিয়েছেন। তাই দিনটি তাঁর জন্য বিশেষ ছিল। তবে আমি নিউ ইয়র্ক থেকে এসেছি শুনে অনেক রাত হয়ে গেলেও আর না করেননি।

ছিমছাম ছোট্ট ফ্ল্যাট। এটি ডলির অফিসও। মাত্র ২৯ বছর বয়স। গেল দিনগুলোয় অনেকবার মিডিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাই বসার ঘরে টিভি সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য আলাদা জায়গা রেখেছেন। আমরাও ক্যামেরায় তাঁকে ধরব জেনে চেয়ার-টেবিল গোছগাছ করতে লাগলেন। বাড়তি আলোর ব্যবস্থাও করা হলো। ছোটমোটো একটা স্টুডিও তৈরি হয়ে গেল। দিনে স্যুট পরেছিলেন। এক্ষণে বাঙালি ধরনের পোশাকে হাজির হলেন। তাঁকে স্নিগ্ধ ও আন্তরিক দেখাল।

 

একজন ডলি বেগম

সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতিবিদ। গেল জুনের নির্বাচনে টরন্টোর (অন্টারিওর রাজধানী) স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসনে প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির গ্যারি এলিসকে হারিয়েছেন। গ্যারি অনেক দিনের এমপিপি। ডলি তাঁকে হারিয়েছেন বিপুল ভোটে। ডলি পেয়েছেন প্রায় ২০ হাজার ভোট, যা মোট ভোটের ৪৫ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার থেকে ডলি মা-বাবার সঙ্গে কানাডা আসেন। বলছিলেন, ‘আমি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছি অনেক দিন ধরে। তবে বড় কোনো পদে যাব এমনটি ভাবিনি। শুধু ভেবেছি কাজ করে যেতে হবে।’ ডলির জন্ম ১৯৮৯ সালে। বাবার নাম রাজা মিয়া আর মা জবা বেগম। ভাইয়ের নাম মহসিন মিয়া। বলছিলেন, ‘১১ বছর বয়সে কানাডায় চলে আসি। ইংরেজি জানতাম না। প্রথম প্রথম অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। সেদিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না।’ ডলি মৌলভীবাজারের মনুমুখ বাজরাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। পরে মনুমুখ পিটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়েছেন ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। কানাডায় এসে ২০১২ সালে টরন্টো ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক হয়েছেন। পরে ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডন থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর হয়েছেন। পড়ালেখা শেষ করে সিটি অব টরন্টোতে প্রায় ১০ মাস কাজ করেন। রিচার্স অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন দ্য সোসাইটি অব এনার্জি প্রফেশনালসে। অন্টারিও প্রদেশের কিপ হাইড্রো পাবলিক ক্যাম্পেইনের প্রধান সমন্বয়কও ছিলেন। ছিলেন স্কারবরো হেলথ কোয়ালিশনের সহপ্রধান।

 

জানতে চাইলাম

এমপিপি হয়ে কেমন লাগছে?

খুব ভালো লাগছে। বলে বোঝাতে পারব না। আমার নির্বাচনী প্রচারণায় অনেকে কাজ করেছেন। অনেকে দোয়া করেছেন। এসে বলেছেন, তোমার জন্য মসজিদে আজ দোয়া হয়েছে। কেউ গেছেন মন্দিরে, কেউ বা গির্জায়। তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

দেশে যাবেন কবে?

খুব শিগগিরই যেতে চাই। দেশে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনের দোয়া নিয়ে আসব, যেন আমাকে দেওয়া দায়িত্ব ভালোভাবে করতে পারি।

আপনি তো সব মানুষেরই এমপিপি?

হ্যাঁ, এটা ভুলে গেলে চলবে না—স্কারবরো সাউথওয়েস্টে অনেক মানুষের বাস। কে কোন দেশ থেকে এসেছে বা কার কী গায়ের রং—এসব বিবেচনায় আনা যাবে না। সবার জন্যই সমানভাবে কাজ করতে হবে।

 

ডলি চান

স্কারবরোর লোক সহজেই যেন তাঁর কাছে পৌঁছতে পারে, তাঁর ত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারে, তাঁকে পথ দেখাতে পারে—এটাই ডলির চাওয়া। ডলির নির্বাচনী স্লোগান ছিল—‘আমাকে নির্বাচিত করুন। আমি আপনাদের আশাহত করব না।’ পরিবারের সমর্থন পেয়েছেন ডলি, বিশেষ করে ছোট ভাই মহসিনের। বলছিলেন, ‘মহসিন খুবই চমৎকার মানুষ। আমাকে সব সময়ই হেল্প করে।’ তবে এটাও সত্য এপ্রিলে ডলি মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশায় বুক বেঁধে ছিল। তাই তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর টরন্টোর রাস্তায় আনন্দ মিছিল হয়েছে, যেটা কানাডায় খুব কমই ঘটে। প্রবাসীরা মনে করেন, মৌলভীবাজার থেকে এসে ডলি যদি পারেন; তাহলে আরো অনেকে পারবেন। ডলি তরুণদের পথ দেখিয়েছেন। ডলি বললেন, ‘তরুণদের হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। লেগে থাকলে সফল হওয়া যায়।’ ডলি বেগম বিশ্বাস করেন, সোশ্যাল ডেমোক্রেসিতে। নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারটিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

 

আরো জানতে চেয়েছিলাম

ডলি আত্মবিশ্বাসী ও বিনয়ী। জানতে চেয়েছিলাম, কত দূর যেতে চান আপনি?

আপাতত লক্ষ্য—দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা। মানুষ অভিযোগ করে, রাজনীতিবিদরা দেওয়া প্রতিশ্রুতি ক্ষমতায় গিয়ে ভুলে যান। কেন হয় এটা জানেন? কারণ তিনি তখন ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনতে থাকেন। আরো সফল হতে চান। উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁকে পেয়ে বসে। ফলে বর্তমানের কাজটা করতে পারেন না। আমি ওই পথে যেতে চাই না। আসলে কাজ করলে, কাজই মানুষ গন্তব্যে নিয়ে যায়।

 



মন্তব্য