kalerkantho


পোড়ামন ২
আনন্দ বাংলা

ঈদে আসছেন সুজন শাহ

৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



ঈদে আসছেন সুজন শাহ

পোড়ামন ২ ঈদের ছবি। মুখ্য চরিত্রে সিয়াম আহমেদ। হয়েছেন প্রয়াত অভিনেতা সালমান শাহের ভক্ত সুজন শাহ। যেভাবে হয়ে উঠলেন তাঁর গল্প শুনিয়েছেন মাহবুবর রহমান সুমনকে

 

একজন সিয়াম আহমেদ

সিয়ামের জন্ম ১৯৯০ সালে। পিরোজপুরে। মা-বাবার একমাত্র সন্তান। ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। পরে অবশ্য আইন পড়তে গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যে। ২০১২ সালে একটি মোবাইল ফোন কম্পানির বিজ্ঞাপন দিয়ে মিডিয়ায় আসেন। আলোচনায় আসেন ২০১৪ সালে, রেদওয়ান রনির ভালোবাসা ১০১ নাটক করে। পরে আরো বিজ্ঞাপন, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও নাটক করেছেন।

একটি রোমান্টিক ছবি পোড়ামন ২। পরিচালক রায়হান রাফি। জাজ মাল্টিমিডিয়া পরিবেশক।  সিয়াম ছাড়াও অভিনয় করেছেন পূজা চেরি, ফজলুর রহমান বাবু, বাপ্পারাজ প্রমুখ। শুটিং হয়েছে মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও পার্বত্য চট্টগ্রামে। এরই মধ্যে গেল কান চলচ্চিত্র উৎসবের ফিল্ম মার্কেটে এটি প্রদর্শিত হয়েছে। ঈদে সারা দেশে সাড়ম্বরে মুক্তি পাবে। উল্লেখ্য, পোড়ামন মুক্তি পেয়েছিল ২০১৩ সালে। সাইমন আর মাহি ছিলেন প্রধান পাত্র-পাত্রী। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ছবিটি ব্যবসাসফল ছিল। জাজ পাঁচ বছর পর আনল পোড়ামন ২। 

যেভাবে ছবিটায় সিয়াম

একদিন বান্দরবানে একটি নাটকের শুটিং করছিলেন সিয়াম। মাহফুজ আহমেদ ছিলেন পরিচালক আর ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি (ডিওপি) ছিলেন খায়ের খন্দকার। নাটকের শেষ দিকের একটি শট একটু সিনেমাটিক ছিল। মাহফুজ শটটি দেখার পর খুশি হয়েছিলেন। খায়ের বললেন, ‘শটটি ভালো দিয়েছ। আমার মনে হয় তুমি সিনেমায় চেষ্টা করতে পারো।’ তারপর হোটেলে ফিরে খায়ের বললেন, আমার এক ছোটভাই আছে। সে তোমাকে একটি গল্প শোনাতে চায়। সিয়াম বললেন, গল্প শুনব পরে, আগে ছোট করে বলুন নাটকটি কী নিয়ে? 

তখন খায়ের বললেন, নাটক নয়, এটি একটি সিনেমার গল্প।

আমার একটু সময় দরকার। বলেছিলেন সিয়াম।

‘ঠিক আছে সময় নাও। তবে গল্পটি শুনে দেখো। তোমার ভালো লাগবে।’ খায়ের বলেছিলেন।

তারপর সিয়াম ঢাকায় ফিরলেন। রায়হান রাফির কাছে গল্পটি শুনলেন। গল্পটি শুনে সিয়ামের কান্না পেয়ে গিয়েছিল। তখনই মনে হলো, দর্শকও কাঁদবে।  এরপর অডিশন হলো, ওয়ার্কশপ হলো। আব্বু-আম্মুর দোয়া নিয়ে অভিনয় করতে গেলেন সিয়াম।

সুজন হলেন সিয়াম

ছবিতে সিয়ামের নাম সুজন। গাঁয়ের লোকে ডাকে  সুজন শাহ। ওই গ্রামটিতে কোনো সিনেমা হল নেই। গরিবগুর্বো খেটে খাওয়া মানুষ সবাই। গাঁয়ের ছেলে সুজন সালমান শাহের খুব ভক্ত। অন্য গ্রামে যায় সিনেমা দেখতে আর নিজের গ্রামে ফিরে এসে লোকদের সালমান শাহের অভিনয় দেখায়। এর জন্য সে কোনো পয়সা নেয় না, গ্রামের লোক তাঁকে ভালোবাসে। ভালোবেসে নাম দিয়েছে সুজন শাহ। সুজন সব সময় হাসিখুশি থাকে, অন্যকেও আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করে।

সিয়ামের সালমান

১৯৯৮ সালে প্রথম সালমান শাহের কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমাটি দেখেন সিয়াম। সিনেমায় দেখা সালমানের স্টাইলগুলো স্কুলে গিয়ে কপি করে দেখাতেন। তারপর সালমানের আরো অনেক সিনেমা দেখেছেন। চরিত্রটিতে অভিনয় করতে গিয়ে দেখেছেন আরো ১৫টি। সিয়াম বলছিলেন, আমাকে সচেতনভাবেই সালমানের হুবহু নয়; বরং কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করতে হয়েছে। কারণ ভক্ত তো হুবহু পারে না। মোটামুটি কাছে যায়। এ ব্যাপারে পরিচালক আর কোরিওগ্রাফার অনেক সাহায্য করেছেন। আমি ফলো করেছিলাম আমার কাজিনদের। পিরোজপুরে গিয়ে দেখতাম তাঁদের কেউ মান্না স্যার (নায়ক মান্না), কেউ বা সালমান শাহের ভক্ত। তাঁরা নকল করতেন, আমার খুব মজার লাগত। আমাদের ফটোগ্রাফার যিনি ছিলেন, আলতাফ ভাই, সালমানকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর কাছ থেকেও শিখেছি।’

সিয়াম আরো বলছিলেন

সালমান অনেক লম্বা ছিলেন না, শরীরও খুব সুগঠিত ছিল না, মানে তিনি খুব নায়কোচিত মানুষ ছিলেন না। অথচ মানুষ তাঁকে ভুলতে পারে না। অভিনয় দিয়েই তিনি বাংলার মন জয় করেছিলেন। আমি যখন শুটিংয়ে গোল চশমা চোখে দিয়ে, মাথায় বেঁধে ব্যান্ডানা সালমান শাহের স্টাইল নিতাম লোকে বলত, দেখো সালমান শাহ সেজেছ। আমি বুঝলাম, সালমান একজনই। সাজা যায়, হওয়া যায় না।

 

 

 

 



মন্তব্য