kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

ক্ষণিকের বৃষ্টি

১২ মে, ২০১৮ ০০:০০



ছোটবেলায় দুটি গান খুব শুনতাম, শ্রীকান্ত আচার্যের ‘আমার সারাটি দিন,

মেঘলা আকাশ বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’, আর হৈমন্তী শুক্লার ‘ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়ো না।’

এই গান দুটি এতটাই ভালো লেগেছিল যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম, যদি বিয়ে করি তাহলে বৃষ্টি নামের কোনো মেয়েকেই করব, যাতে সারা দিন এই দুটি গান ওর সামনে গুন গুন করে গাইতে পারি। যেহেতু নিজের নাম আছে, সেহেতু আমাকে সে আরো ভালোবাসবে। স্কুল লাইফ শেষ করলাম বৃষ্টিবিহীন মরুভূমিতে, মানে বৃষ্টি নামের কাউকে পেলাম না। ভাবলাম একটা নামিদামি কলেজে ভর্তি হব, তাহলে কাউকে খুঁজে পাব। কিন্তু বর্ষা পেলাম, বারিষ পেলাম কিন্তু বৃষ্টিকে আর পেলাম না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। মেঘ, আকাশ, বাতাস—সবই আছে, কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা নেই। এভাবেই দিন চলে যায়। চাতক পাখির মতো বৃষ্টির আশায় বসে থাকি। বন্ধুবান্ধবরা প্রেমট্রেম করে বাচ্চার নামধাম ঠিক করে ফেলে। অথচ আমি সেই অতিমানবীর আশায় বসে থাকি। একদিন বিকেলে ক্লাস শেষ করে আসছি, হঠাৎ পেছন থেকে একজন ডাক দিল—এই বৃষ্টি, দাঁড়াও। পেছন ফিরে দেখি, ভীষণ সুন্দরী একজন। এই মেয়েকে আগে কোনো দিন দেখিনি! এই তাহলে আমার সেই বৃষ্টি? কিছু বলার আগেই হঠাৎ একটি ছেলে মেয়েটির হাত ধরে হাঁটা শুরু করে। আহা! এমন ক্ষণিকের বৃষ্টি তো আমি চায়নি।

মনের অজান্তেই রুনা লায়লার একটা গান জেগে ওঠে—‘এত দিন পরে কাছে এলে,

ওগো এখনি কেন যাবে চলে...।’

আল সানি

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।



মন্তব্য