kalerkantho


ছড়িয়ে দিই বাংলাদেশ

বাংলা চ্যানেলে সাম্পানা

ভারতের পুনের ছেলে সাম্পানা। বয়স ১৭ মোটে। ৩০ মার্চ বাংলা চ্যানেল সাঁতারে নতুন রেকর্ড গড়ে সাম্পানা। টানা দুবার সে চ্যানেল পাড়ি দিয়েছে। ২ এপ্রিল হোটেল রিজেন্সিতে তাকে সংবর্ধনা দেয় এভারেস্ট একাডেমি। সেখানে সাম্পানার দেখা পেয়েছিলেন পিন্টু রঞ্জন অর্ক

৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বাংলা চ্যানেলে সাম্পানা

রেকর্ড গড়ার পর

পুরো নাম সাম্পানা রমেশ সেলার। একাদশ শ্রেণির ছাত্র। বাবা পুনে পুলিশের ডেপুটি কমিশনার। মা গৃহিণী। বড় বোন নিদি সেলারও সাঁতারু। ছোটবেলা থেকেই জলের সঙ্গে তার মিতালি। সাম্পানার বয়স তখন সাড়ে চার কি পাঁচ। পুনের শার্ক সুইমিং একাডেমিতে সাঁতারের প্রশিক্ষণ নিতে যেত বড় বোন নিদি। কখনো মায়ের হাত ধরে, কখনো বা দিদির সঙ্গেই সেখানে যেত সাম্পানা। সুইমিং পুলে অন্যদের সাঁতার কাটতে দেখে সাম্পানা জলে নামতে চাইত। কিন্তু বড়রা নামতে দিত না। অনেক দিন তো কান্নাও জুড়েছে। একাডেমির কোচ জিতেন্দ্র খাসনিসের একদিন সাম্পানার কান্না শুনে এগিয়ে আসেন। সুযোগও দিলেন সাম্পানাকে। দেখলেন দ্রুত সাঁতার কাটতে পারে ছেলেটি। এরপর থেকে হাতে-কলমে শেখাতে থাকলেন। একসময় ফলও মিলতে শুরু করল। দেশের মধ্যে কয়েকটি পুরস্কার জিতল সাম্পানা। সিঙ্গাপুর আর মালয়েশিয়া থেকেও আনল পুরস্কার। আর গেল ফেব্রুয়ারিতে অল ইন্ডিয়া ওপেন ফ্রি সুইমিং কম্পিটিশনের ৩৯ কিলোমিটার ইভেন্টে দ্বিতীয় হয়েছে সাম্পানা।

ভারতের প্রায় সব চ্যানেলে সাঁতার কাটা হয়ে গেছে সাম্পানার। বাংলা চ্যানেলের কথাও শুনেছে অনেকবার। গেল জানুয়ারিতে কোচ জিতেন্দ্র যোগাযোগ করেছিলেন এভারেস্ট একাডেমির চেয়ারম্যান মুসা ইব্রাহীমের সঙ্গে। সব শুনে মুসা স্বাগত জানালেন। ২৭ মার্চ তাঁরা বাংলাদেশে এসেছিলেন বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেবে বলে। টেকনাফের শাহপরী দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিনস পর্যন্ত চ্যানেলটির দৈর্ঘ্য ১৬.১ কিলোমিটার। উল্লেখ্য, বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন কাজী হামিদুল হক ২০০৬ সালে। হামিদুল হক ছিলেন কীর্তিমান আলোকচিত্রী ও স্কুবা ডাইভার।

৩০ মার্চ ছিল সেদিন। ঘড়িতে বেজেছিল ৫টা ৪০ মিনিট।  এভারেস্ট একাডেমি অন্য সাঁতারুদের নিয়ে পৌঁছেছিল ফিশারিজ ঘাটে। অন্যরা যখন টেকনাফের ফিশারিজ ঘাট থেকে সাঁতার শুরু করেছিল, সাম্পানা তখন সাঁতার শুরু করেছিল উল্টো দিক থেকে, মানে সেন্ট মার্টিনস জেটি থেকে। সাম্পানাকে গাইড করছিল দুটি বোট। বোটে ছিলেন কোচ জিতেন্দ্র, মুসা ইব্রাহীম, ফিজিওথেরাপিস্ট নূর আহমদ, উদ্ধারকর্মী কামাল হোসেন ও আরো কয়েকজন।  সাম্পানা শুরু করেছিল ধীরলয়ে। পরে গতি বাড়ায়। মোট পাঁচ ঘণ্টা লেগেছিল সাম্পানার ফিশারিজ ঘাটে পৌঁছাতে। তারপর ১০ মিনিট জিরিয়ে নিয়েছিল সাম্পানা। আবার শুরু করেছিল সাঁতার।  এবার গন্তব্য সেন্ট মার্টিনস জেটি। আগেরবারের চেয়ে এক ঘণ্টা সময় কম নিয়ে ৪ ঘণ্টায় ফিনিশিং পয়েন্ট টাচ করেছিল সাম্পানা। এর মধ্য দিয়েই রেকর্ড বইয়ে নাম লেখাল সাম্পানা। প্রথমবারের মতো টানা দুবার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেওয়া প্রথম ব্যক্তি সাম্পানা। করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিল সবাই।

সাম্পানা বলল, একবারের কথাই কিন্তু ভেবে এসেছিলাম। কিন্তু কোচ বললেন, সাম্পানা, একবার পারলে দুইবার কেন নয়?’ শুনে শুরুতে কিছুটা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। পরে মনে মনে জেদ চেপে গিয়েছিল। প্রথমবার সময় একটু বেশি লেগেছিল। সাঁতার শুরু করার কিছুক্ষণ পর দুবার বমি হয়েছিল। তবে কাউকে বুঝতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত সবই ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছিল। তাই ভালো লাগছে।’ সাম্পানা চায় শিগগিরই আরেক দফা বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে। সে দফায় টানা চারবার পাড়ি দেবে। 

কোচ জিতেন্দ্র জানালেন, ‘কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছে সাম্পানা। এখানে আসার আগে দৈনিক ৬ ঘণ্টা করে সাঁতার কেটেছে সে। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলে, ‘এখানকার মানুষের আতিথেয়তায় আমরা অভিভূত। আয়োজকরা কিছুরই কমতি রাখেনি।’



মন্তব্য