kalerkantho


জবাব দাও

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলে?

বাহ দারুণ। কিন্তু...

কী নিয়ে পড়ছ তুমি? ও আচ্ছা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং? বাহ, বেশ।

দোয়া করি ইঞ্জিনিয়ার হও, কিন্তু মা তুমি যে একটু বেঁটে। উচ্চতাটা বেমানান খুব।

কী বললে? বেশ ভালো ছবি আঁকতে পারো। রঙের ছড়াছড়ি তবে তোমার গায়ের রংটা যে খুব ময়লা!

একটু ফরসা না হলে কি আর এই যুগে চলে বলো!

লিখতে জানো? বই লিখেছ! লেখিকা হবে? আহা, কি গুণী মেয়ে! কিন্তু স্বাস্থ্যটা একটু বেশিই তোমার। আরেকটু চিকন না হলে কি আর লোকের মনে ধরবে?! ভাবি, আপনার মেয়েটি বেশ লক্ষ্মী। ভালোই গুণ আছে, শিক্ষাও আছে। তবে কি আমাদের বংশেরও তো একটা ধারা আছে! ছেলের বউকে যদি ১০ জনের সামনে না আনতে পারি তবে শিক্ষা আর গুণ দিয়ে কি হবে বলুন!

এই মেয়ে, নিজের গায়ের রং, উচ্চতা, স্বাস্থ্য—এসব নিয়ে এত মন খারাপ করে থাকো কেন? সবই তো আল্লাহর ইচ্ছা, তবে হ্যাঁ তোমার উচ্চতাটা আসলেই একটু কম।

হে সমাজ, আমি তো নিজের যা আছে তা নিয়েই খুশি থাকতে চাই। আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা, আমার প্রতিভা, আমার শক্তি দিয়ে ঢেকে দিতে চাই উচ্চতা, গায়ের রং আর স্বাস্থ্যের কলঙ্ক। তবে তোমরা কেন বারবার আমায় বুঝিয়ে দাও শারীরিক গঠনটাই আসল? আমি তো আমার গায়ের কালো রঙে ঝলসে দিতে চেয়েছি কাপুরুষদের মুখ। তবে তুমি কেন বারবার বলো সাত দিনে ফরসা হতে হবে, ফরসা না হলে বিয়ে হবে না, ফরসা হলে বংশের মান রক্ষা পাবে। আমি তো এই বামন দেহ নিয়েই আকাশ ছুঁতে চেয়েছি, কারণ আমি ভেবেছি আকাশ ছুঁতে উচ্চতা নয়, বুদ্ধি লাগে। তবে তুমি কেন আমায় বুঝিয়েছ বামন হয়ে আকাশ পানে হাত বাড়ানো মানা? আমি তো চেয়েছি এই মোটা শরীরে বহু ক্রোশ পথ পাড়ি দিতে। ভেবেছি পথ পাড়ি দিতে চাই সাহস, স্লিম ফিগার নয়। তবে তুমি কেন বারবার বুঝিয়েছ জিরো ফিগার না হলেই নয়! সবই তো ঠিক আছে, তবে কথার শেষে কেন কিন্তু থেকে যায়? জবাব দাও সমাজ। একটি মেয়ের উচ্চতা, গায়ের রং, স্বাস্থ্য কেন তার পরিচয় হয়? জবাব দাও।

নিশীতা মিতু

 


মন্তব্য