kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

ও বুড়িগঙ্গা মোর

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ও বুড়িগঙ্গা মোর

‘সতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে’, কিংবা ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে’, এমন কোনো কালজয়ী কবিতা নেই আমার এই প্রিয় নদীটি নিয়ে। নেই তিতাস একটি নদীর নাম বা পদ্মা নদীর মাঝির মতো উপন্যাস। তাতে কি, এই ছোট বুড়িগঙ্গায়ই আমার শৈশব জড়িয়ে আছে। এই নদী আমার প্রেম। পালতোলা নৌকা, মাছের লাফালাফি, দামাল ছেলের উথাল-পাথাল সাঁতার, গাঁয়ের বধূর কলসি কাঁখে জল নিয়ে যাওয়া আমি দেখেছি এই নদীতেই। কি ভ্রু কুঁচকাচ্ছেন? আপনার দেখা বুড়িগঙ্গার সঙ্গে ঠিক মিলছে না? কী বলব বলুন, এটা তো এখন নাগরিক নদী, কখনো-সখনো রাজনৈতিক নদীও।

চরম লোলুপতার শিকার আমার এই বুড়িগঙ্গা। বুড়িগঙ্গা শুনলে অনেকের মনেই এখন ভেসে ওঠে আবর্জনা, আদম সন্তানে উপচে পড়া লঞ্চ, কয়লার মতো কালো পানি ইত্যাদি।  কিন্তু জানেন, একদিন এমন ছিল না! বুড়িগঙ্গারও ছিল দেখার মতো জৌলুস। এর দুই তীরে ছিল সবুজ ক্ষেত,  সমুদ্রের মতো কাশবন, এখানে-সেখানে নদী ভেঙে গিয়ে জন্ম নেওয়া খাল, আর সেই খাল ধরে গেলে ছোট ছোট গ্রাম। এই নদীতে নবাবরা বেড়াতেন বেগমদের নিয়ে। জয়নুল তাঁর জাদুর পেনসিল আর আঁকার খাতা নিয়ে বেড়াতেন এই নদীর ধারে। জহির রায়হানের লেন্স খুঁজে বেড়াত কোনো মেজিক্যাল ভিউ, শামসুর রাহমান বাঁধতেন কবিতার অন্ত্যমিল। এই নদী একটি রাজধানী প্রসব করেছে। বাণিজ্য, প্রতিমা বিসর্জন, সাঁতার, বাইচ—কত কিছুর সাক্ষী এই বুড়িগঙ্গা। একাত্তরে কি বুড়িগঙ্গার জল লাল হয়নি? কেন তবে আজ কালো জলের বোঝা বইতে হচ্ছে তাকে? আমার ভয় হয়, আমার  নদীটি একদিন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু নদী মায়ের মতো। আমি সন্তান হয়ে কিভাবে সইব?

আহাদ আদনান

মাতুয়াইল, ঢাকা।



মন্তব্য