kalerkantho


প্রাচীন পৃথিবী

পারস্যের কানাত

পারস্য বললে প্রাচীন কথাটি উঠে আসে আগে। সভ্যতার ইতিহাসে পারস্যের দান কমও নয়। একটি যেমন কানাত। লিখেছেন শিমুল খালেদ

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পারস্যের কানাত

ইস্ফাহানের পাহাড়ি কানাত

মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ইরান। পারস্য উপসাগরের তীরের দেশ। সমতল নয়; বরং অনেক পাহাড় আছে এর গায়ে। পাহাড়গুলো পারস্য উপসাগর আর ওমান সাগরের তীরে এসে মরুভূমিতে মিশেছে। দেশটির মোট আয়তনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ মরুভূমি। এমন দুর্গম হওয়ার পরও দেশটি সভ্যতায় দারুণ সব অবদান রেখেছে। প্রমাণ তো ইউনেস্কোর খাতায়ই লেখা আছে। ইরানের ২১টি স্থাপনা বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা পেয়েছে। ইরানকে পার্সিয়া বা পারস্য বলে ডাকত আগে লোকে। ১৯৩৫ সালে পারস্যের নাম হয় ইরান।


মরুর কানাত


কানাত

প্রায় তিন হাজার বছর আগে ফিরে যেতে হয় কানাতের কথা উঠলে। কানাত দেখে গবেষকরা অবাক হন। চমকে যান পারস্যের তখনকার উন্নত প্রযুক্তির কথা ভেবে। সেকালের পারস্যে পানীয় জলের খুব অভাব ছিল। মানুষ কষ্টে দিন কাটাত। তাই রাজা ডেকে পাঠালেন বিজ্ঞানী আর প্রযুক্তিবিদদের। তাঁরা ভেবে ভেবে কানাত গড়ার ফয়সালা দিল। মরুভূমির নিচ দিয়ে খোঁড়া হলো খাল। পাহাড় ডিঙিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো লোকালয় পর্যন্ত। বলা গেল যত সহজে কাজটি ছিল তার চেয়ে ঢের কঠিন। সময় যেমন লেগেছিল, খরচও হয়েছিল অনেক। প্রথমে মরুর বুকে কিছু দূর পরপর গর্ত তৈরি করা হয়েছিল। মানুষ সে গর্তগুলো দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ত। খাল খুঁড়ে চলত। খোঁড়া হতো বেশ গভীর করেই, যেন ওপরের তাপে পানি শুকিয়ে না যায়। একপর্যায়ে এক গর্তের মানুষ চলে আসত আরেক গর্ত পর্যন্ত। এভাবে সব গর্ত খোঁড়া হয়ে গেলে তৈরি হয়ে যায় মরুর কানাত। বালু ও নুড়ি পাথরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া পানি ছিল বিশুদ্ধ ও পরিষ্কার। মরু পার হওয়ার পর পাওয়া যেত পাহাড়। পাহাড়গুলো আবার কঠিন শিলা পাথরে তৈরি। পাহাড়ে তৈরি করা হয়েছিল সুড়ঙ্গ। তত বড় হতো সুড়ঙ্গ, যতক্ষণ না পানি মিলত। হাতুড়ি আর শাবল ছিল খোঁড়ার সম্বল। সুড়ঙ্গে নামার জন্য ব্যবহৃত হতো কাঠের তৈরি চাকা। সুড়ঙ্গ দিয়ে পানি বইয়ে দেওয়ার পর কানাত পুরো হয়ে যেত। কানাতের শেষ মাথায় থাকত পানির ট্যাংকি, মানে সংরক্ষণাগার। কানাত দেখভালের জন্য প্রচুরসংখ্যক কর্মী নিয়োজিত থাকত। বছর বছর মেরামতির কাজও চলত। কানাতের পানি ব্যবহৃত হতো কৃষিকাজেও।  কানাত তৈরির ফলে পারস্যের কৃষির দারুণ উন্নতি ঘটে। মানুষের কষ্ট দূর হয়।

 

সবচেয়ে বয়স্কটি খোরাসানে

শহরটির নাম জারখ। এটি খোরাসানের একটি শহর। সবচেয়ে পুরনো আর দীর্ঘ কানাত পাওয়া গেছে জার্কে। তবে বেশি প্রসিদ্ধ ওই খোরাসানেরই গোনাবাদ কানাত। এটি ইউনেসকো তালিকাভুক্ত করে ২০০৭ সালে। আর ২০১৬ সালে এসে আরো ১০টি কানাতকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তকমা দেওয়া হয়। তাই সব মিলিয়ে ১১টির এ খেতাব জুটেছে। পরে কিন্তু আরো অনেক দেশে কানাত ছড়িয়েছে। সেগুলোর মধ্যে আছে এখনকার মরক্কো, স্পেন, আলজেরিয়া, লিবিয়া আর  আফগানিস্তান।



মন্তব্য