kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

চিঠিটা পৌঁছবে না জানি

২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কেমন আছ?

কি, রাগ হলো? রাগ করো না প্লিজ। আমি তো জানি তুমি আমাকে ছাড়া ভালো থাকতেই পারো না।

কী করব বলো। প্রতিদিনই তোমাকে মনে পড়ে। প্রতিদিনই তোমায় লিখি। কিন্তু কাগজ-কলমের যে সাধ্য নেই আমার সঙ্গে তোমায় মেলায়।

জানো, আজ আকাশে বড্ড মেঘ। তোমার মনে আছে, এমন মেঘলা দিন আমরা কত উপভোগ করতাম। ওই যে সেই জারুলগাছটা। মনে আছে, ওর বাঁকানো ডালে বসে আমি মেঘ দেখতাম, আর তুমি নিচে নামার জন্য জোর করতে। হঠাৎ মেঘের গর্জনে যখন কেঁপে যেত চারপাশ।

তখন আমি এক লাফে নিচে চলে আসতাম। তখন তুমি মিষ্টি হেসে বলতে, ভিতু। সেদিন আমি সত্যি ভিতু ছিলাম। না, নিজেকে হারানোর জন্য না। নিজে হারিয়ে গেলে যে তোমাকে হারাব সে জন্যই ভয়।

মনে পড়ে, ওই পুকুরটার কথা। ওই যে ওই পুকুরটা, যার পাশে ছিল মৈত্রীদের শিউলিগাছটা। প্রতিদিন ভোরে স্যারের বাড়ি অঙ্ক করতে যাওয়ার সময় তুমি ওই গাছতলা থেকে ফুল কুড়িয়ে নিয়ে যেতে। কুয়াশা কাটিয়ে সবার আগে পৌঁছে, সফেদ ফুলগুলো দিয়ে লিখে ফেলতে আমার নাম। আমি পৌঁছেই এলোমেলো করে দিতাম সব। আর তুমি অভিমানে চোখ ফোলাতে।

বর্ষার দিনগুলোতে যখন চারদিক মেঘে ঢেকে যেত, ভরদুপুরকেও মনে হতো সন্ধ্যা। প্রকৃতিকে হার মানিয়ে আমরা ছুটে যেতাম স্কুলে। ভেজা কাঠবিড়ালিটাও গোল চোখে দেখত আমাদের। হয়তো অন্যদের মতো সে-ও ভাবত কত মনোযোগী ছাত্র আমরা। আর আজ তিন বছর হয়ে গেছে। বর্ষাকে হার মানানো জুটিটার দেখা হয় না আর। হয়তো হবেও না কখনো।

তোমার ডায়েরিটা আজও আছে আমার কাছে। ওটাই তো তুমি হয়ে রোজ কথা বলে আমার সঙ্গে। মনে আছে, তুমি একদিন বলেছিলে, ডায়েরিটা অনেক ভারী, তুমি ভার সইতে পারছ না, ভাসিয়ে দেবে নদীতে। আমি চোখ রাঙিয়ে বাধা দিয়ে আমার কাছে নিয়ে রেখেছিলাম। আজ আমার কাছেও ওটা অনেক ভারী হয়ে গেছে। আমার স্মৃতির পাপড়িগুলো নিংড়ে পানি শূন্য করে দিচ্ছে তোমার লেখা প্রতিটা পাতা।

দেখো তো কত পাগল আমি। তুমি যে কখনো উত্তর দিতে পারবে না, এটা জেনেও কেমন পাগলের মতো একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছি। তুমি তো আজ ওই আকাশে। কিভাবে শুনবে আমার কথা? জানো, এখন আর আমি কাঁদি না। এখন আর আমার চোখ ভেজে না।

শোনো না, মাঝেমধ্যে ঘুমের মধ্যে আসতে পারো না তুমি? এত অভিমান কেন? খুব দ্রুত আসবে বলে দিলাম। আর হ্যাঁ, ভালো থাকবে। আর আমায় নিয়ে ভেবো না। ভালো আছি। একটু বেশিই ভালো আছি।

 

মাহফিজুর রহমান

খুলনা


মন্তব্য