kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

আনন্দ তো আমিও ছড়াতে জানি

২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আনন্দ তো আমিও ছড়াতে জানি

এত বড় ক্যাম্পাস! অথচ এ মুহূর্তে আমার মনের মতো কেউ একজন নেই, কোথায় কোনো বন্ধুরূপী বা তার বেশি বা তার কম! গুচ্ছ কোনো সার্কেলও নেই, কোথায় মানব, কোথায় মানবী, একা একা পুরো বিকেলটা হেঁটে বেরোলাম, কী সুন্দর শহুরে ক্যাম্পাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

কত প্রাণ, কত কোলাহল, শুধু আমার কী যেন নেই! মাঝেমধ্যে অনেক ইচ্ছা হয় বিশেষ কেউ অল্প হলেও আমারও হোক, সময়গুলো রাঙিয়ে দিয়ে যাক। আনন্দ তো আমিও ছড়াতে জানি নিজেকে কেউ মেলে ধরতে উৎসাহ দিলে, মুগ্ধতার গল্পগুলোর রূপরেখা আমিও বলে যেতে পারি কাউকে শোনানোর মতো করে। তবে মনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা সে বা তারা কোথায়! মন কত কিছু চুপচাপ চেপে যায়। সময়গুলো একক ভাবনায় কল্পিত কোনো চরিত্রকে ভালোবাসতে ভালোবাসতে পার করে দিই। আর ছলছল চোখে আশপাশের জুটি কিংবা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দেখি। তাদের ব্যবচ্ছেদ করি, তারা কি আদৌ কাছের? কেউ কি আমাকে নিয়েও ব্যবচ্ছেদ করবে কোনো একসময়? কত শত গল্প একমনে করতেই থাকি, রোদ-বৃষ্টির ক্লান্তিতে রাস্তার ছোট ছোট ইটকে লাথি মারি, পিচঢালা পথকে অবারিত প্রশস্ত লাগে। কারণ তারা ঠিকই হয়তো জানে আমার একাকিত্বের হেঁটে আসা পথ কতটা লম্বা। আহ, কী চমকে আসা দুঃখ! পথগুলো তো বোবা, তারা কাউকে কিছুই জানতে দেয় না, দেবেও না। রংবেরং ফুল ছিঁড়ি, পাপড়ি ছিটাই, কখনো ফুল টুকিয়ে চুলের গোছায় আটকাই, কেউ কেউ অদূর থেকে আমাকে দেখে পাগল ভাবতেও পারে! ভাবলেই বা কি, তা তো আর আমি আঁচ করতে পারি না। আমি ভীষণ সৌভাগ্যবান, আমার চলার পথে সামাজিক বিশ্রী ঘটনারা কম আসে, বেশি ঠিক থাকি তো!

তবু দেয়ালে দেয়ালে হাতের স্পর্শ ছড়িয়ে হেলেদুলে বোকা মানুষের মতো হাঁটি, বটবৃক্ষ দেখে তার ছায়ায় নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক তাকিয়ে রই।

চায়ের সতেজতায় ভেবে উঠি আড্ডাবাজ প্রসঙ্গমুখর সেই প্রিয় কথাসঙ্গীটাকে যদি সত্যি সত্যি সামনে পেতাম! জমিয়ে বিকেল-সন্ধ্যাটা পেরিয়ে যেত, তারুণ্য যৌবনের ঠিক এ সময়টাই কেমন ঘোরলাগা, সেখানে আমি প্রতিদিনই একমনে বিড়বিড় করে উতরে আসি, থাক বাসায় গিয়ে সব কয়টি বই পড়ে ফেলব, দারুণ সব মুভি দেখব, বাসার নিত্য সব কাজে ডুবে যাব, মজার সব স্নাকস বানিয়ে খাব আর মনোকামনার অজস্র সমাহার খুঁজে আর বুঝে নিতে গুগল আর্থ, স্ট্রিট ভিউ, ইন্টারনেট অদৃশ্যজগৎ হয়ে আছেই...

জব হোক টাকা হোক! ঘুরব। জানি সেদিনও আমি একা একাই ঘুরব। কোনো প্রশ্রয়ের মিথ্যা জাদুতে যদি কেউ তখন এসে সঙ্গ দিতে চায়, বলব এলেই যখন, তবে কেন এত দেরিতে! আমার পাশে কি সত্যিই থাকবে?

নাহ! তোমার শাস্তি; হাঁটো আমার পিছু পিছুই হাঁটো! পাশের শূন্য স্থানটা মনই সামলিয়ে এসেছে এতকাল একা একা। মনই আমার বন্ধু। তুমি জাতীয়রা আমার কেউ নাহ!

 

সাবরিনা ফারিন প্রত্যাশা

শনির আখড়া, ঢাকা


মন্তব্য