kalerkantho


বিশ্ববিচিত্রা

বাইবেল জাদুঘর

একটি গ্রন্থ ঘিরে একটি আস্ত জাদুঘর। গ্রন্থটি হলো বাইবেল। ওয়াশিংটনে নভেম্বরের ১৭ তারিখে চালু হয়েছে মিউজিয়াম অব দ্য বাইবেল। খবর নিয়েছেন আহমেদ বায়েজীদ

২ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বাইবেল জাদুঘর

গ্রিন পরিবার ভবনটি কিনেছিল ১৯২৩ সালে। তখনো স্টিভ গ্রিনের জন্ম হয়নি।

ভবনটি ছিল সাদা কথায় একটি হিমাগার। গ্রিনরা ছিল প্রোটেস্ট্যান্ট ধারার যাজক। স্টিভের বাবার জন্ম ১৯৪১ সালে। বাবার নাম ডেভিড গ্রিন। লোকে বলে, ৬০০ ডলার ঋণ নিয়ে ডেভিড গ্যারেজে ছবির ফ্রেম তৈরির কারখানা চালু করেছিলেন। তারপর ১৯৭৫ সালে ৬০০০ বর্গ ফুট জায়গা নিয়ে একটি ছবি বিক্রির দোকান চালু করেন। চারু ও কারুকলা বিক্রির দোকান এই হবি লবি। এখন যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি রাজ্যে হবি লবির দোকানের সংখ্যা ৪৫০টির ওপরে। ডেভিড সব সময় বলেন, ‘আমরা বিশ্বাসী মানুষ। খ্রিস্ট রীতিনীতি মেনে ব্যবসা করি। ’ উল্লেখ্য, ২০১২ সাল পর্যন্ত ডেভিড ইভানজেলিক্যাল ধর্মমত প্রসারে ৫০০ মিলিয়ন ডলার দান করেছেন। ডেভিডের ছেলে স্টিভ ৮-১০ বছর হয় বাবার ব্যবসা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। এখন তিনি হবি লবির প্রেসিডেন্ট। ২০০৯ সালে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার আলাপ-আলোচনা শুরু হয়। জনি শিপম্যান নামে ডালাসের এক ব্যবসায়ী এবং কর্নারস্টোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক স্কট ক্যারল গ্রিন ফ্যামিলিকে জাদুঘর তৈরির ভাবনা দেন। ২০১০ সালে কাজে নেমে পড়ে গ্রিন ফ্যামিলি। ২০১২ সালে ভবনের নকশা প্রকাশ করা হয়। ৫০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে এটি প্রতিষ্ঠায়। পুরনো ভবনটি সংস্কার করা হয়েছে। তবে আগের মতোই লাল ইট ব্যবহার করা হয়েছে, আর সেগুলো আনা হয়েছে ডেনমার্ক থেকে। মোট আয়তন চার লাখ ৩০ হাজার বর্গফুট। আটতলা উঁচু ভবনটির প্রধান তিনটি ফ্লোর। একটি যেমন ইতিহাসের। এতে ঐতিহাসিক বিভিন্ন বস্তু সাজিয়ে বাইবেলের গল্প বলা হয়েছে। আরেকটি ফ্লোরকে বলা হচ্ছে ইমপ্যাক্ট ফ্লোর (আইজাক নিউটনও আছেন এ ফ্লোরে)। বিশ্বসংস্কৃতিতে বাইবেল  কতটা প্রভাব রেখেছে তা দেখানো হয়েছে এখানে। অন্যটিতে জীবন্ত করা হয়েছে প্রথম শতাব্দী। জেসাস অব নাজারেথ যখন ছিলেন পৃথিবীতে।  

 

দ্রষ্টব্য

খুবই দ্রুততার সঙ্গে গ্রিন পরিবার বাইবেলের সঙ্গে যুক্ত ৪০ হাজার জিনিস জোগাড় করে, যার মধ্যে ৩১০০ প্রামাণ্য বস্তু (প্রত্নখননে প্রাপ্ত বা অন্য বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে প্রাপ্ত)। এগুলোর মধ্যে ১১৫৯টি জাদুঘরের নিজস্ব সম্পত্তি। বাকিগুলো ধার দিয়েছেন ৪১ জন। ‘মন্দিরে নেবুচাদনেজারের নিবেদন’ শীর্ষক দ্রষ্টব্যটি জাদুঘরের উল্লেখযোগ্য দ্রষ্টব্য। ৬০৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দের একটি টেরাকোটা প্লাক এটি। খ্রিস্টপূর্ব ২৭৫ অব্দের একটি প্যাপিরাস আছে জাদুঘরে। বের্নার্ড গ্রেনফেল এটি মিসরে খুঁজে পেয়েছিলেন। ১৯২২ সাল পর্যন্ত এর মালিক ছিল ইজিপ্ট এক্সপ্লোরেশন ফান্ড। ২০০৩ সালে সদেবিজ এটি নিলামে তুলেছিল। গ্রিন পরিবার ২০১০ সালে এর মালিক হয়। বিখ্যাত ডেড সি স্ক্রলের একাংশও আছে জাদুঘরে। খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দের এটি। মধ্যযুগের হাতে লেখা অনেক পাণ্ডুলিপি আছে। বাইবেলের বিভিন্ন ঘটনা সময় ধরে ধরে আলাদা আলাদা কক্ষে সাজানো হয়েছে। আছে পপ তারকা এলভিস প্রিসলির বাইবেলটিও। নিলামে এর দাম উঠেছিল ৫৯ হাজার ডলার। আছে প্রিসলির ধর্মবিষয়ক কিছু কথিকা। বেসবল তারকা বেব রুথের বাইবেলও আছে।

 

জাদুঘরটির আরো কথা

কোনো প্রবেশ মূল্য নেই। তবে অগ্রিম বুকিং লাগে। জাদুঘরের এমন একটি প্রযুক্তি রয়েছে, যা দর্শনার্থীকে তাঁর স্মার্টফোনে মিউজিয়ামটি ঘুরে দেখার গাইডলাইন দিয়ে দেয়। দর্শনার্থী নিজের ফোন থেকেই মিউজিয়াম ঘুরে দেখার উপায় পেয়ে যায়। জাদুঘরের একটি ভ্রাম্যমাণ ইউনিট রয়েছে। দেশে-বিদেশে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে এই ইউনিট। গ্যালারি ছাড়াও এখানে ৫০০ আসনের একটি অডিটরিয়াম এবং ১০০০ আসনের একটি বলরুম আছে। ক্যাফে আছে, আর আছে শিশু কর্নার। ছাদে তৈরি করা হয়েছে বিবলিক্যাল গার্ডেন। খ্রিস্টধর্ম ও তার অনুষঙ্গ নিয়ে গড়ে ওঠা জাদুঘরটি সব ধর্মের মানুষের জন্যই উন্মুক্ত।


মন্তব্য