kalerkantho


মা দিবসের টুকিটাকি

এই মুহূর্তে বিশ্বে মা আছে কয়জন? মা দিবস হইচই হয় ঠিক কতটা? বেশিরভাগ দেশেই কেন মাকে সম্বোধন করতে ‘ম’ অক্ষরটি আগে আসে? এমন সব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাক এবার

১৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



মা দিবসের টুকিটাকি

বামে মা অ্যান জারভিস ও ডানে তার মেয়ে আনা জারভিস

মা শব্দটি যে ভাষায়ই হোক না কেন, এতে ‘ম’ উচ্চারণের প্রাধান্য থাকবেই। যেমন বাংলায় মা, ইংরেজিতে মাদার আর চীনে বলে মামা। এর কারণ হলো, শিশুরা প্রথম যখন শব্দ করার চেষ্টা করে, তখন ‘মম’ জাতীয় একটা শব্দ তৈরি করে। ব্যতিক্রম হলো ফিজিয়ান, মঙ্গোলীয়, জাপানিজ ও তুর্কি ভাষা। ফিজিয়ানরা মাকে বলে আনা ও মঙ্গোলিয়ান ও তুর্কিরা বলে ‘আনা’। জাপানিরা একেবারেই আলাদা। তারা মাকে ডাকে ‘হাহা’ বলে। আর নিজের বাবা হলে তাকে ডাকে ‘চিচি’।

 

পৃথিবীতে এখন কয়জন মা আছেন? জরিপ হয়েছিল এটা নিয়েও। দেখা গেছে, এখন মা আছেন প্রায় ২০০ কোটি জন।

 

১৮ বছরে গড়ে একজন মাকে শুধু তাঁর সন্তান ও পরিবারের দেখভালের পেছনে ব্যয় করতে হয় ৪৫ হাজার ৬৫৩ ঘণ্টা।

 

মা হওয়ার পর শিশুর কিছু কোষ মায়ের শরীরে থেকে যায় ও সংখ্যায় বাড়ে। এর মধ্যে কিছু কোষ মায়ের হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কেও চলে যায়। এ প্রক্রিয়ার নাম মাইক্রোশিমেরিজম। অর্থাৎ আক্ষরিক অর্থেই সন্তান তার মায়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়।

 

মা দিবস উপলক্ষে উপহার বাবদ শুধু আমেরিকায়ই প্রায় ১৪০০ কোটি ডলার খরচ হয়। টাকার অঙ্কে যা প্রায় এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা!

 

ফুলের বেচাকেনায় বড়দিনের পরেই আছে মা দিবস। তবে ফোনকলের দিক দিয়ে এক নম্বরে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গড়ে এদিন শুধু আমেরিকায়ই প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ফোনকল করা হয়।

 

প্রথম সরকারিভাবে মা দিবস পালন করা হয় ১৯১৪ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা আনা জারভিস তাঁর মাকে হারানোর পর মনে মনে ভাবেন, যে করেই হোক মাকে মনে রাখা চাই। কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে তিনি শুরু করেন মাকে নিয়ে এক চিঠি লেখার আয়োজনের। দুই বছরের মধ্যেই ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস দিবসটির অনুমোদন দেয়। ঠিক করা হয়, প্রতিবছরের মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার পালন করা হবে মা দিবস। পরে ওই বছরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন দিবসটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেন। কয়েক বছরের মধ্যেই এ দিবসটির কথা ছড়িয়ে যায়। এখন বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে পালিত হয় মা দিবস।

আনা জারভিসের মা অ্যান জারভিসও কিন্তু যেনতেন নারী ছিলেন না। ১৮৬৮ সালে আমেরিকার গৃহযুদ্ধ শেষ হলে দুইপক্ষের মায়েদের এককাতারে করতে একটা কমিটি গঠন করেছিলেন তিনি।

 

আগেকার ইয়োগোস্লাভিয়ায় (এখন যা সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রো) মা দিবসে একটি মজার খেলা খেলত শিশুরা। তারা তাদের মায়েদের দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলত। যদি কথা দেন যে ছাড়া পেলে এটা-ওটা মজার খাবার খাওয়াব, তবেই ছাড়া পেতেন মায়েরা।

 

বাইরে খানাপিনার জন্য একটা উপলক্ষের দরকার। আর এ তালিকায় সবার ওপরে মা দিবস। জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জনের মধ্যে ছয়জনই দিনটি পালন করতে বাইরে কোথাও খেতে যায়।

 

১৯২০ সালের দিকে মা দিবস নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়ে মেতে ওঠে। তা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আনা জারভিস।

 

মা দিবস উপলক্ষে ২০০৮ সালে লন্ডনের চকোলেট কম্পানি থরনটনস মোমেন্টস তৈরি করে ইয়া বড় এক চকোলেট বক্স। বক্সটার উচ্চতা ছিল ১৬ ফুট ৬ ইঞ্চি, প্রস্থ ১১ ফুট ২ ইঞ্চি এবং গভীরতা ৩ ফুট ৩.৫ ইঞ্চি। ভেতরে ছিল ১৬৯০ কেজি চকোলেট।

 

মা দিবসে সবচেয়ে বেশি বানানো হয় ফুলের তোড়া। দিবসটি স্মরণীয় করে রাখতে সবচেয়ে বড় ফুলের তোড়া বানিয়ে ২০০৫ সালে রেকর্ডের খাতায় নাম লিখিয়েছিল জার্মানির শপিং মল নর্ড ওয়েস্টজেনট্রাম। বিভিন্ন রঙের এক লাখ ৫৬ হাজার ৯৪০টি গোলাপ দিয়ে বানানো ফুলের তোড়াটির দৈর্ঘ্য ছিল ৮৫ ফুট, প্রস্থ সাড়ে ১৯ ফুট এবং উচ্চতা ৯ ফুট ১০ ইঞ্চি। তোড়াটির ওজন ছিল ১০ হাজার ৩০০ কেজি!



মন্তব্য