kalerkantho


তারার মুখে মায়ের কথা

তারকা মানেই ব্যস্ততায় ঠাসা শিডিউল। এর মাঝেও দিনভর মাথার ওপর ছায়া হয়ে থাকেন একজন—মা। এবার মায়ের গল্প শোনা যাক কয়েকজন তারকার মুখে

১৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



তারার মুখে মায়ের কথা

 

সেদিন থেকে আমার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস মা

 

চঞ্চল চৌধুরী, অভিনেতা

মা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। এ জন্য মন চাইলেও মাকে সময় দিতে পারি না। আমি ঢাকায় থাকি। বছরে দু-তিনবার মা-বাবা আসা-যাওয়া করেন। ১০-১৫ দিন করে থাকেন। বছরে আমিও দু-তিনবার বাড়িতে যাই। গিয়ে দু-তিন দিন করে থাকি। মায়ের কাছে থাকতে না পারলেও সপ্তাহে দু-তিনবার ফোনে যোগাযোগ হয়। মায়ের সঙ্গে কথা বলি। মায়ের সঙ্গে করপোরেট টাইপের কোনো সম্পর্ক আমার নেই। মায়ের জন্মদিন বা মা দিবসে তাঁকে আলাদাভাবে স্মরণ করলেন কি না, গিফট দিলেন কি না—এমন সম্পর্ক আমাদের না। আমরা মাটির মানুষ। আমাদের কাছে মা-বাবাই সব। শুধু মা দিবসে তাঁকে হ্যালো বলার মানুষ আমরা না। এটা একটা অকেশন হয়ে গেছে—মা উৎসব, মা দিবস। আমি এটা পছন্দ করি না। প্রতিদিনই মা দিবস। যেদিন আমি জন্ম নিয়েছি, সেদিন থেকেই আমার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে মা। মা-বাবার জন্য যত দিন কিছু করতে পারব, সেটাই আমার শান্তি। মাকে নিয়ে একটা ঘটনা এখনো আমার চোখে ভাসে। পড়াশোনার জন্য ঢাকা আসার পর বাড়ি যাওয়া হতো কম। বাড়ি থেকে আসার দিন যতক্ষণ পর্যন্ত ভ্যান দেখা যেত, মা এসে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকতেন। ওই স্মৃতিটা চোখে এখনো ভাসে। এখনো বাড়ি থেকে আসার সময় যতক্ষণ পর্যন্ত গাড়ি দেখা যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকেন। আমি যখন গ্রামীণফোনের বিজ্ঞাপন করি, তখন বারবার ইমোশনাল হয়ে পড়লে ফারুকী ভাই সাপোর্ট দিচ্ছিলেন। আমি তাঁকে বলেছিলাম, এটা আপনার কাছে বিজ্ঞাপন হলেও আমার কাছে মায়ের গল্প। বাস্তব জীবনের গল্প। সেই স্মৃতি একসময় ধূসর হয়ে যাবে। মায়ের বয়স সত্তর পেরিয়ে গেছে। সব সময় খুব আতঙ্কে থাকি। জানি না কতটুকু করতে পেরেছি। তবু চেষ্টা করি সব সময় তাঁকে ভালো রাখার জন্য। অকেশনালি পালন করার জন্য যে সন্তানরা এই দিবসটিকে গ্রহণ করেছে, তারা যেন মা এবং দেশের কথা চিন্তা করে জায়গাটি থেকে সরে আসে। মা দিবস এক দিন না।

 

নিঃস্বার্থ প্রতিমা একজনই

তাহসান, সংগীতশিল্পী

মাকে নিয়ে আমার একটি গান আছে। গানটিতে মাকে নিয়ে কিছু কথা লিখেছিলাম, যেগুলো বারবার মনে পড়ে। বারো বছর আগে ‘মা তুমি একজন নিঃস্বার্থ সত্য প্রতিমা, ভালোবাসার সুবিশাল মহিমা’ গানটিতে মাকে নিয়ে নিজের কথাগুলো বলতে পেরেছিলাম। আমরা তো সারা জীবন প্রতিমা খুঁজি; কিন্তু নিঃস্বার্থ প্রতিমা ওই একজনই আছেন। ভালোবাসাটাও ওই একটা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি ভালো করে বোঝানো যায়। মায়ের সঙ্গে যে ঘটনাটা আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে, সেটি হলো—ছোটবেলায় তিনি কপালে ফুঁ দিয়ে দিতেন। মনে হয়, এখন প্রতিদিন দেন না কেন? আমি মায়ের কথা নিয়মিত শোনার চেষ্টা করি। আগে যেগুলো বকাঝকা মনে হতো, এখন সেগুলোই বারবার শুনতে চাই। ঠিকমতো খাচ্ছি কি না, রুটিন মেনে চলছি কি না—এমন কথা আগে বকা মনে হতো। এখন সেগুলো উপভোগ করি। আমার মা গরিবদের সাহায্য করতে ভালোবাসেন। আমি চেষ্টা করি, আমার জাকাতের টাকা মায়ের হাতে তুলে দিতে। যাতে তিনি মানুষকে সাহায্য করতে পারেন। এতে মা খুশি হন, আনন্দ পান। এগুলো সবাইকে বলতেও চাই না। বলার বিষয়ও না। তাঁর সঙ্গে অংশ নিতে চেষ্টা করি। প্রতিটি মুহূর্ত স্পেশাল। মায়ের সঙ্গের মুহূর্তগুলো ধারণ করতে হবে।

 

আমার যা কিছু সব মায়ের জন্য

বিদ্যা সিনহা মিম, অভিনেত্রী

আমার কাছে মা দিবস বলে আলাদা কোনো দিন নেই। এই যে এখন কথা বলছি, আমার মা পাশেই রয়েছেন। আমার যা কিছু, সব মায়ের জন্য। আবার মায়ের সব কিছু আমার জন্য। ছোটবেলায় নানা কারণেই মাকে সব সময় কাছে পেতাম না। এখন মা আমার চব্বিশ ঘণ্টার সঙ্গী। কোথায় যাব, কী করব—তার সব কিছু ঠিক করে দেন তিনি। আমার আনন্দ নয়, বেদনারও সঙ্গী তিনি। সব কিছু তাঁর সঙ্গে শেয়ার করি। মায়ের জন্য আলাদা কিছু করব, সেই সুযোগই তিনি দেন না। কিছুদিন আগেই মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে কানাডা ও আমেরিকা থেকে ঘুরে এলাম। মাঝে মাঝে মাকে চমকে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করলেও তিনি সহজে চমকান না। কঠিন মহিলা তো! হা হা হা। মাকে নিয়ে ছোটবেলার একটা ঘটনা এখনো প্রায়ই মনে পড়ে। স্কুলের বান্ধবীরা আমার মাকে খুব ভয় পেত। কারণ তিনি সব সময় রাগী রাগী মুখ করে থাকতেন। আমারও ভয় লাগত। কিন্তু এখন ভয়টা কেটে গেছে। এবারও মা দিবসে মাকে ঘিরে আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। অন্য দিনের মতোই তিনি আমার সঙ্গে থাকবেন। তবে তাঁকে আলাদা করে ভালোবাসি বলতে পারি। হা হা হা।

 

এক রাতে মায়ের সঙ্গে রকার লাইফ কাটিয়েছিলাম

শারমীন সুলতানা সুমি সংগীতশিল্পী

মায়েরা আসলে এত ক্ষমতাবান যে বলে বোঝানো যাবে না। মা-ই আসলে আমাদের সব কিছুর উৎস। যা কিছু করছি, যা কিছু হয়, তার সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছেন মা। সব সময়ই চেষ্টা করি মায়ের পাশে থাকতে। তাঁর কখন কী লাগবে, সেসবের খোঁজ নিতে। মায়ের সঙ্গে আমাদের সব ভাই-বোনের দারুণ সম্পর্ক। বাসায় ফিরেই মায়ের রুমে যাই। আম্মা মাঝে মাঝে দোয়া পড়ে মাথায় ফুঁ দিয়ে দেন। যাতে সব বিপদ-আপদ দূরে থাকে। বিদেশে গেলে হঠাৎ গায়ে বাতাস লাগলে মনে হয়, মা বুঝি ফুঁ দিচ্ছেন। মায়ের সঙ্গে বন্ধুর মতো সম্পর্ক। সব কিছু তাঁর সঙ্গে শেয়ার করি। আমার মা কিন্তু সুন্দর গান গাইতে পারেন। আমাদের সামনে গান না। মাঝে মাঝে অনেক রাতে একা একা গান গান। আমার মনে হয়, ওখান থেকেই আমার মধ্যে গান ঢুকে গেছে। গত বছর আমাদের ব্যান্ড চিরকুট থেকে মায়েদের স্মরণে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলাম। ব্যান্ডের সব সদস্যের মাকে সামনে রেখেই আমরা গান শুনিয়েছিলাম। এবারও মা দিবসে ভিডিওটি শেয়ার করব। আমার আম্মা আধুনিক টাইপের মায়েদের মতো না। ঘর থেকে বাইরে বেরোতে চান না। আমরা তো বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাইদাই, আড্ডা দিই, ঘুরিফিরি। একদিন অনেক রাতে আম্মাকে নিয়ে বের হয়েছিলাম রকার লাইফ কাটাতে। মোহাম্মদপুরে বিহারি ক্যাম্পের কাছে গরুর মাংসের চাপ খাওয়ালাম। ঘুরলাম-ফিরলাম। আড্ডা দিলাম। শেষে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম—কেমন লাগল? মিষ্টি হেসে জবাব দিলেন, ভালোই তো।                                        

 

অনুলিখন : আতিফ আতাউর



মন্তব্য