kalerkantho


মায়ের সঙ্গে পড়াশোনা

মা হয়েছ তো পড়া শেষ, এবার ছেলে-মেয়েরা পড়বে। এমনটাই তো ভাবে অনেকে। তবে এবার শুনব ভিন্ন মায়েদের গল্প। সন্তানের মঙ্গলের জন্য নিজেকেও শিক্ষিত হতে হবে, এমন ভাবনা থেকে যাঁরা পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন সন্তানের সঙ্গেই!

১৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



মায়ের সঙ্গে পড়াশোনা

ইসমত আরা ও তানজিলা আফরিন, সঙ্গে তানজিলার বাবা

ইসমত আরা ও তানজিলা আফরিন

জয়পুরহাট জেলা শহরের বাসিন্দা ইসমত আরা। বিয়ে ও সংসারের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল তাঁর। চারপাশের মানুষ কিংবা আত্মীয়রা কথা শোনালেও থেমে থাকেননি ইসমত। পড়াশোনা চালিয়ে যান। তাঁকে সাহায্য করে তাঁর পরিবার। বিশেষ করে তাঁর মেয়ে তানজিলা। ২০১৭ সালে ভিন্ন ভিন্ন স্কুল থেকে পরীক্ষা দেন মা ও মেয়ে। মাধ্যমিক পরীক্ষায় খুব ভালো ফলও নিয়ে আসেন। দুজনেই পেয়েছেন এ গ্রেড। নিজের চেয়েও মায়ের পরীক্ষা নিয়ে বেশি চিন্তায় ছিলেন তানজিলা। এলাকার মানুষ খুব একটা কম কটু কথা শোনায়নি। একটা সময় সবার কাছ থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে বোরকা পরে ক্লাসে আসতে শুরু করেন ইসমত। তবে ফল পাওয়ার আগেই ছোটখাটো কষ্টগুলো যেন কোথায় উড়ে গিয়েছিল!

 

 

জেসমিন আক্তার ও সাইফুল্লাহ বিন জাকারিয়া

বেশিদিন যায়নি মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় ছেলের সঙ্গে একই মাদরাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন মা জেসমিন আক্তার। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পৃথক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নিয়ে ভালো ফল পেয়েই কৃতকার্য হন ওই মা-ছেলে। নিন্দুকের কথা? তা তো থাকবেই। তবে সেসব দুই হাতে ঠেলে সামনে এগিয়ে গেছেন জেসমিন আক্তার।

 

স্বপ্না রায় লায়েক ও পায়েল রায়

পাশের দেশ ভারতের কোচবিহারের চিলকিরহাট গ্রামের বাসিন্দা স্বপ্নার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল নিজের দুই মেয়েকে বড় করা। তাদের শিক্ষিত করে তোলা। পায়েল সেবার মাধ্যমিক দিচ্ছে। মেয়েকে পড়তে দেখে, পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে দেখে একসময় স্বপ্নার ইচ্ছা হলো নিজের মাধ্যমিক পরীক্ষাটা দিয়ে ফেলতে। ১১ বছর আগে পড়াশোনা ছাড়েন তিনি। বিয়ে আর স্বামীর মৃত্যুর পর এসব নিয়ে আর ভাবাও হয়ে ওঠেনি তাঁর। যেই ভাবা সেই কাজ। মেয়ের সঙ্গে পড়াশোনা শুরু করেন স্বপ্না। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে মেয়ের সঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেন স্বপ্না রায়। পাসও করেন যথারীতি।

সাদিয়া ইসলাম



মন্তব্য