kalerkantho

মায়ের কাছে চিঠি

প্রিয় মা,

মা দিবসে আট পাতা জুড়ে মাকে নিয়ে অনেক কিছু। মায়ের কাছে লেখা পাঠকদের খোলা চিঠি, মাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার আইডিয়া, তারকাদের মুখে মায়ের গল্প ও মা দিবসের টুকিটাকি নিয়ে সাজানো হলো আজকের এ আয়োজন

১৩ মে, ২০১৮ ০০:০০



প্রিয় মা,

প্রচ্ছদ : বিপ্লব চক্রবর্ত্তী

একটা প্রশ্ন করতে পারি? কী মজা পাও আমার জন্য সারা দিন দৌড়ঝাঁপ করে? নিজের জন্য কি তোমার একদণ্ড সময়ও নেই? কেন তোমার সব জমানো টাকা আমার আবদারের পেছনে খরচ করো? তোমার কি কেনার কিছুই নেই? কেন শত শারীরিক অসুস্থতা অগ্রাহ্য করে সাতসকালে আমার জন্য খাবার তৈরি করো? অসুস্থ শরীরটা কি একটু ঘুমিয়ে নিতে চায় না? কেন আমি শত ভুল করলেও পরের মুহূর্তেই তা ভুলে গিয়ে বুকে টেনে নাও? রাগ করে থাকতে ইচ্ছা করে না? কেন আমি তোমার চোখে সব সময় সেই ভীতু ছোট্ট ছেলেটি হয়েই রই? আমি কি এখনো বড় হইনি? আমি জানি, সব প্রশ্নের একটাই উত্তর। কারণ তুমি আমার মা।

পার্থ প্রতিম দাশ প্রীতম, চট্টগ্রাম।

 

তোমার যুদ্ধের কৌশল আমাকে বাধ্য করে তোমাকে ভালোবাসতে। মা বলে বারবার ডাকতে। ছোটবেলা থেকে যেভাবে বাবাকে ছাড়া আমাকে আর ফিহাকে বড় করেছ, তা কি কোনো যুদ্ধের চেয়ে কম, বলো? যখন তোমাকে ছাড়া ছয় মাস খালার বাসায় ছিলাম, তখন নিজেকে বড়ই শূন্য লেগেছে। আমি জানি, তুমি আমাকে নিয়ে অনেক ভাবো। তাইতো প্রতি রাতে আমার বিছানার পাশে এসে আমাকে একবার করে দেখে যাও, মাঝে মাঝে হাতটাও বুলিয়ে দিয়ে যাও। জানো, মা? যেদিন যেদিন আমার মাথায় তুমি হাত বুলিয়ে দিয়ে যাও, সেদিন রাতে ঘুমটাও ভালো হয় আমার। তোমাকে নিয়ে এই লেখাটা খুবই সামান্য। আমি চাই এভাবেই আমার পাশে থাকো সব সময় তুমি, আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে। তোমাকে ভালোবাসি, মা। অনেক ভালোবাসি।

ইজাজ আহমেদ ফুয়াদ, মুন্সীগঞ্জ।

 

পৃথিবীর সব মাই বোধ হয় একেকজন জাদুকর। চিঠিটি লেখার কিছুক্ষণ আগেও মা আমার কপালে জলপট্টি দিচ্ছিলেন। আমার যে জ্বর এসেছে, তা কিন্তু আমি মাকে জানাইনি। কারণ দুদিন আগে মায়ের কথা অমান্য করে বৃষ্টিতে ভেজার ফলাফলই বোধ হয় আজ পেয়েছি। কিন্তু মা! উনি আমার মুখ দেখেই ঠিক ঠিক কিভাবে যেন ধরে ফেললেন। এরপর উনিই হুড়োহুড়ি করে আমার সুস্থতার জন্য ওষুধ-পথ্যের ব্যবস্থা করতে লাগলেন। আচ্ছা, শুধু মা হলেই কি সবার মধ্যে এমন জাদুকরী ক্ষমতা এসে ভর করে? এ প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই কিংবা জানার ইচ্ছাও নেই। আমি শুধু আমার জাদুকরকে ভালোবাসি। আই লাভ ইউ—রিয়েলি লাভ ইউ, মা।

সালেহ মাহমুদ তানিম, ঢাকা।

 

অনেকবার তোমাকে নিরাশ করেছি। আমি খুবই লজ্জিত। কিন্তু মা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। আমার মন যা চায় তুমি সব বুঝে ফেলো। এগুলো ঠিক না কিন্তু। কিছু সারপ্রাইজ রাখা দরকার, তাই না? মা দিবস কেন, প্রতিদিনই তোমাকে একটা কথাই বলতে চাই। এত শাসনের পিছে লুকিয়ে আছে তোমার ভালোবাসা। বেশি বলব না, শুধু এটা আবারও বলব—মা, আমি তোমায় ভালোবাসি!

ঈষিকা জেরিন মৌনতা

দশম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

 

আমি জানি, তুমি ভালো আছ কিন্তু ভালো নেই। সারা দিন ব্যস্ত থাকো। ভেবে অবাক লাগছে, আমি তোমায় চিঠি লিখছি, কারণ চিঠি লিখতে ভুল করেছিলাম বলে তোমার ক্লাসেই নিলডাউন করেছিলাম। আমি জানি, তুমি না হেসে কাঁদছ। তোমার কি মনে পড়ে, যখন আমি ১০০ নম্বর রোলের অধিকারিণী হতে চাইতাম? যা-ই হোক, সময়মতো ওষুধ খেয়ো। আমার জন্য চিন্তা করার তো কোনো মানেই হয় না। তুমি তো জানো আমি কেমন। তুমি হয়তো এই চিঠিটা কখনোই পড়বে না। তবুও আমি তোমাকে জানাতে চাই যে আমি তোমাকে ভালোবাসি। ভালো থেকো, মা।

জেরীন আলম প্রীতি

দশম শ্রেণি, মিরপুর ফয়জুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়

 

কথায় কথায় তর্কে জড়িয়ে যাই, অযথাই রাগ করি। তোমার কষ্ট হয় বুঝতে পারি। উফ, আম্মু! তুমি কিভাবে পারো এত ভালোবাসতে?

তোমাকে মা ভাবার চেয়ে অনেক বেশি প্রিয় বান্ধবী ভেবেছি সব সময়। তোমার এত সাপোর্ট, ভালোবাসা, বকুনি আর ‘তুই’ সম্বোধনে আগলে রাখার লোভটা আমার বরাবরই একটু বেশি।

আম্মু। সাদা ইউনিফর্ম, গোল গোল চশমা আর গলায় ডাক্তারি জিনিসপাতি ঝুলিয়ে তোমার দস্যি মেয়েটা ডাক্তার হয়ে তোমার কপালে চুমো খাবে একদিন। ভালোবাসি অনেক।

গাজী ইসরাত প্রীতি

একাদশ শ্রেণি, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ

 

মাকে নিয়ে ডুডলটি এঁকেছে মুসাররাত আবির জাহিন

 

কেমন আছ জানতে চাইব না। কারণ আমার সার্বক্ষণিক অত্যাচারে যে খুব একটা শান্তিতে নেই, তা আমি ভালোভাবেই জানি। তোমাকে সারাক্ষণ এত বিরক্ত কেন করি জানো? জানবেই তো, মায়েরা তো সব জানে, তাদের তো কিছু বলে দিতে হয় না। তবুও আজ বলব, তোমাকে অনেক অ-নে-ক ভালোবাসি। তাই তোমাকে ছাড়া আমার কিছুতেই চলে না।

চলবে কী করে, বলো? তুমি কী কখনো আমাকে কোনো সমস্যায় রেখে দূরে সরে গেছ যে আমি একা তা কাটিয়ে উঠতে শিখব? যতবার আমি হোঁচট খেয়েছি, আমাকে সামলানোর জন্য তুমি তো সব সময় পাশেই ছিলে। তুমিই তো সব সময় সাহস জুগিয়েছ যেকোনো সমস্যা কাটিয়ে উঠতে। বলেছ, ‘যেকোনো সমস্যা মোকাবেলা করতে শেখো।’ কিন্তু মা, আমি যে এখনো ভীষণ ভীতু, তোমাকে ছাড়া এক পা-ও হাঁটতে পারি না। অবশ্য একটা কথা আমি দিতে পারি, কোনো বাধাই আমাকে পিছু হটাতে পারবে না জীবনে, তবে তোমাকে অবশ্যই পাশে থাকতে হবে, বুঝলে?

শতাব্দী রায়, দশম শ্রেণি

জয়পুরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

 

তুমি একজন ডাক্তার। আমার অসুখ হলে দিন-রাত সেবা করে সারিয়ে তোলো। তুমি শিক্ষক। পড়াশোনায় সব সময় আমাকে সাহায্য করো। তুমি তোমার শখগুলো ভুলে গিয়ে আমার শখ পূরণেই সব সময় চেষ্টা করে যাচ্ছ। মনে আছে মা—একবার টানা এক মাস জ্বর ছিল আমার। কখন রাত হতো, কখন দিন—তা তুমি টেরই পেতে না। তুমি যখন অসুস্থ হও, তখন আমারও যে কী খারাপ লাগে, তা বোঝাতে পারব না। তোমাকে নিয়ে যতই লিখি না কেন, ততই কম হবে। তুমি আমার পৃথিবীর সেরা মা।

মোহাইমিন সুলতানা মিভা, সপ্তম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

 

আমি তোমার আট আনা বলছি, ছোটবেলায় কী ভেবে এই উপাধি দিয়েছিলে তা আমার জানা নেই। ক্লাস টু পর্যন্ত আমার স্কুলে শিক্ষক ছিলে তুমিই। একসঙ্গে ঘুমচোখ কচলিয়ে স্কুলে যেতাম। যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, আমি পিএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছি শুনে তুমি তো কেঁদেই ফেললে। তখনো বুঝতে পারিনি এই কান্নার মানে কী ছিল। ক্লাস নাইনে উঠে আমি অনেক জায়গায় অনেক কাজ করেছি। পড়ালেখার পাশাপাশি এগুলো চালিয়ে নিতে তোমার আমার জন্য অনেকের কাছেই অনেক কথা শুনতে হয়েছে। সব শুনেও তুমি কাজ করতে দিয়েছ। মুখ বুজে সহ্য করেছ নিন্দুকের নিন্দা। বাইরে যখন আমি যাই, খেয়াল করি, যত দূর পর্যন্ত আমি যাচ্ছি ততক্ষণই তোমাকে জানালার পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। ওই দৃশ্য দেখলে মনে হয়, বিশ্বের সব কিছু এক নিমেষে জয় করতে পারি। আমার এটা-ওটার পেছনে ছুটতে গিয়ে তোমার যে কত সাধ-আহ্লাদ জলে গেল, তার হিসাব নেই আমার কাছে। মাঝরাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে গেলে সেই ঘুম ঘুম চোখেই খাইয়ে দিতে। এমন কত যে ঘটনা। এখনো অনেক কিছুই আবিষ্কার করতে পারিনি। কত ভালোবাসার নিশান চলে গেছে আমার বোধগম্যতার হিসাব ছাড়িয়ে। আজও তোমাকে বলতে পারিনি, ‘মা, আমি তোমাকে ভালোবাসি, সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।’

মোস্তফা মুহাম্মদ মুশফিক, দশম শ্রেণি, খিলগাঁও। সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

 

আমাকে একলা রেখে কোনো দিন ঘুমিয়ে ছিলে? আমি তো আর নেই। মা, জানো? হোস্টেলে প্রতিদিন রান্না হয়। কিন্তু তোমার ছেলে আজও মাছ খায় না। কী করে খাবে বলো। কেউ তো আর তোমার মতো লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থেকে মাছ খাইয়ে দেয় না। ঠিকমতো ঘুমাই কি না তা জানতে চেয়েছ। হ্যাঁ, মা তোমার ছেলে একলা ঘুমাতে শিখেছে ঠিকই, কিন্তু এত বড় হয়েও মা ছাড়া চলতে শেখেনি। তুমি ভালো থেকো, আমি ভালো আছি।

গোলাম রাসুুল তালহা, দশম শ্রেণি, সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ

 

তুমি কী জানো, ছোটবেলায় আমি লুকিয়ে লুকিয়ে তোমার ডায়েরি পড়তাম। আমার লেখালেখির শুরুটা যে তোমার লেখা পড়ে, সেটা কখনো বলা হয়নি তোমাকে। পত্রিকায় গল্প ছাপা হলে আমি সব সময় চেষ্টা করি তোমার হাতে আগে পৌঁছাতে। আড়ালে দেখার চেষ্টা করি তুমি কিভাবে পড়ছ। তুমি যখন আমার লেখা পড়তে পড়তে মন খারাপ করো, আবার কখনো আনমনেই হেসে ওঠো, তখন নিজেকে অনেক বড় লেখক মনে হয়। আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন কোনটা জানো? যেদিন তুমি আমাকে ফোন করে পত্রিকায় আমার গল্প ছাপা হওয়ার সংবাদ দিয়েছিলে। আব্বা তো প্রায়ই বলেন, আমি তোমার কাছ থেকেই বই পড়া শিখেছি। এ কথা সবাই জানলেও তোমার কাছ থেকে লেখা শিখেছি, সে কথা কেউ জানে না। আব্বার সঙ্গে ট্রেনে যখন ঘুরতে, প্রতিটি স্টেশনের বিবরণ কত সুন্দর করে লিখে রাখতে। আমার একটা ইচ্ছা আছে। আমার যখন অনেক টাকা হবে, অনেক বড় হব আমি, তখন তোমাকে ট্রেনে সারা দেশ ঘুরাব। তুমি প্রতিটি স্টেশনের বিবরণ লেখবে আমার পাশে বসে। এই ইচ্ছাটা পূরণ হলেও হয়তো কোনো দিন বলা হয়ে উঠবে না তোমাকে কতটা ভালোবাসি...।

হাসান ইনাম

দশম শ্রেণি, দারুন্নাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা



মন্তব্য