kalerkantho


অন্য রকম

জলের মানুষ বাজাও লাউত

অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জলের মানুষ বাজাও লাউত

বোর্নিও দ্বীপের বাজাও লাউতরা থাকে সাগর উপকূলে। সেখানে পানির ওপর ভাসমান বাড়িতে কিংবা নৌকায় এদের বাস। বাজাও লাউতদের এখন আর কোনো দেশ নেই, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কুর্দিদের মতো এরাও দেশহীন মানুষ।

বাজাও লাউতদের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এদের বাস ছিল ফিলিপাইনের সুলু দ্বীপপুঞ্জে, মিন্দানাও দ্বীপের আশপাশে। সেখানে বহু বছর ধরে মোরো বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে ফিলিপিন্স সরকারের। সেই যুদ্ধের জের ধরেই তারা এসে জুটেছে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিওর উপকূলে।

সম্প্রতি কানাডীয় আলোকচিত্রী মার্ক লেন এদের কিছু ছবি তুলেছেন। সাগরের অগভীর অংশে অস্থায়ী বাড়ি বানিয়ে বাস করে এই বাজাও লাউতরা। নৌকা নিয়ে মাছ ধরাই এদের মূল পেশা। তবে সাগরে মাছ কমে যাচ্ছে, আধুনিক জীবনযাত্রা আর বহিরাগতদের আগমন বাজাও লাউতদের জীবনেও এনেছে পরিবর্তন। অনেকেই এখন আর ঐতিহ্যগত এই জীবনধারার প্রতি আকৃষ্ট হয় না, মূল ভূখণ্ডে চলে যায় কাজের খোঁজে। ফলে হাজার বছরের পুরনো জীবনধারা পড়েছে হুমকির মুখে।

৩৫ বছর বয়সী লেনের ভাষ্য মতে, বাজাও লাউতরা পড়াশোনা জানে না, নিজেদের বয়সটা পর্যন্ত জানে না। ছোটবেলা থেকেই মাছ ধরা আর নৌকা চালানো শিখে লাউত বাচ্চারা। সাগর আর সাগরের নিয়ম-কানুন নিয়ে তাদের রয়েছে গভীর জ্ঞান। ধর্মে সুন্নি মুসলমান হলেও এর সঙ্গে মিশ্রণ ঘটেছে নানা প্রাচীন রীতি আর নিয়ম-কানুনের। সব মিলিয়ে এই জাতির লোকেরা বেশ ব্যতিক্রমী একটি জীবনধারায় অভ্যস্ত।

মাছ ধরা ছাড়াও সাগরে মুক্তা অনুসন্ধান করাটাও এদের পেশার অংশ। বাজাও লাউতরা দারুণ দক্ষ সাঁতারু। পানির প্রায় ২০ মিটার গভীরে কয়েক মিনিট নিঃশ্বাস ধরে থাকতে পারে। তবে ছোটবেলা থেকেই পানিতে থাকার কারণে এদের প্রায় সবারই কানে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। মাছ এদের প্রধান খাবার, সঙ্গে থাকে ভাত। বেশির ভাগ সময় খোলা আকাশের নিচে থাকতে হয় তাদের। তাই মেয়েরা চালের গুঁড়া মুখে মাখে রোদের হাত থেকে ত্বক বাঁচানোর জন্য।


বাজাও লাউতদের আশপাশের কোনো দেশই নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। মালয়েশিয়া সরকার অবশ্য এদের জন্য বেশ কিছু স্কুল আর মেডিক্যাল সেন্টার খুলেছে। তবে আধুনিক সমাজ আর রাষ্ট্রের চাপে পড়ে খুব দ্রুতই হারিয়ে যাচ্ছে সাগরবাসী বাজাও লাউতদের মৌলিক জীবনধারা। 

 



মন্তব্য