kalerkantho


বুদ্বুদ হোটেল

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বুদ্বুদ হোটেল

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্ত আকর্ষণের নাম অরোরা। আলোর এই ভেলকিবাজি দেখা যায় শুধু দুই মেরুতে—আর্কটিক আর অ্যান্টার্কটিকায়। এই ভেলকিবাজি দেখতে প্রতি শীতেই আইসল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে জড়ো হয় অজস্র পর্যটক। তাদের কথা ভেবেই রবার্ট রবার্টসনের মাথায় এক দুর্দান্ত আইডিয়া খেলে যায়। তাঁর সেই ভাবনার ফসলই আইসল্যান্ডের বিখ্যাত বাবল হোটেল বা বুদ্বুদ হোটেল।

আসল নাম অবশ্য ফাইভ মিলিয়ন স্টার হোটেল। অবস্থিত উত্তর আইসল্যান্ডের স্কলহোল্ট শহরে, ভিতা নদীর কাছে। তবে হোটেলটি নয়, পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় এই হোটেলের বাবল রুমগুলো। এগুলো ভীষণ অদ্ভুত। একে তো পুরো গোল বুদ্বুদের মতো আকার। তার ওপর ছোট্ট এই ঘরগুলো একেবারেই স্বচ্ছ। কোনো পর্দাটর্দার বালাই নেই। আরামদায়ক উষ্ণতায় শুয়ে-বসে চারপাশের প্রকৃতির সম্পূর্ণটা উপভোগ করার জন্যই এই ব্যবস্থা। গ্রীষ্মকালে দেখতে পারবেন চারদিকে সবুজের সমারোহ, তার মধ্যে নানা জাতের পাখি আর প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে। তবে আসল সৌন্দর্যের দেখা মেলে শীতকালে। বুদ্বুদের বাইরে যখন শুভ্র তুষারের রাজত্ব, তখনই আকাশজুড়ে দেখা যায় আলোর সেই ভেলকিবাজি—অরোরা। বুদ্বুদগুলো পুরো স্বচ্ছ হলে কী হবে, সেখানে কিন্তু প্রাইভেসির কোনো সমস্যা নেই। হোটেলের অন্য অংশ থেকে তো বটেই, এমনকি একটা বুদ্বুদরুম থেকে অন্য আরেকটি বুদ্বুদরুম দেখা যাওয়ারও সম্ভাবনা নেই। থাকার জন্যও বুদ্বুদরুমগুলো বেশ আরামদায়ক। সেগুলোতে এক ধরনের ভেন্টিলেশন সিস্টেম আছে, যা ঘরের বাতাসকে ঘণ্টায় পাঁচবার করে বদলে দেয়। শুধু তা-ই নয়, রুমগুলোতে থার্মোস্ট্যাটের ব্যবস্থাও আছে। ফলে শীতকালের এমন হাড় কাঁপানো শীতে চারদিকে শুভ্র তুষারের রাজত্বের মধ্যে থেকেও স্বচ্ছ এই বাবলঘরে বেশ একটা আরামদায়ক উষ্ণতা বিরাজ করে।

সব বুদ্বুদকামরাই আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকাভিক থেকে কম-বেশি এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। পাঁচ ধরনের বাবলরুম আছে—উনা, আস্তা, থোরান, ভালদিস ও মারিয়া। তবে এগুলোর একটির সঙ্গে আরেকটির খুব একটা পার্থক্য নেই। আকারে একদমই ছোট্ট। তাতে একটা করে ডাবল বেড আছে। বাবলরুমগুলোর সঙ্গে অবশ্য লাগোয়া বাথরুম ও রান্নাঘর আছে। তবে এটুকুই। হোটেল কর্তৃপক্ষ আর কিচ্ছু দেয় না। এমনকি সাবান আর তোয়ালে পর্যন্ত নিজেদের নিয়ে যেতে হয়। তার পরও সেখানে থাকার খরচ নিতান্ত কম নয়। একেক রাতের জন্য গুনতে হয় নিদেনপক্ষে ১৩৫ ইউরো।

তার পরও এই বাবলরুমগুলো পর্যটকদের কাছে ভীষণই জনপ্রিয়। কারণটিও সহজেই অনুমেয়। এমন সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের সর্বোচ্চটা উপভোগের এমন আরামদায়ক বন্দোবস্ত ভালো না লাগার উপায় আছে? আর শীতকাল হলে তো কথাই নেই! তখন যে আবার অরোরা সবাইকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।

-নাবীল অনুসূর্য
 



মন্তব্য