kalerkantho


সত্যিই

দুই হাতে লেখা

আনিকা জীনাত   

২৬ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দুই হাতে লেখা

এই পৃথিবীতে দুই হাতে সমানভাবে লিখতে পারদর্শী মানুষের সংখ্যা ১ শতাংশ। অনুশীলনের মাধ্যমে নয়, বরং জন্মগতভাবেই মানুষ সাধারণত এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে থাকে; কিন্তু ভারতের মধ্য প্রদেশের শিংরাউলি জেলার এক স্কুলে ৩০০ শিক্ষার্থীকেই দুই হাতে সমান তালে লেখার তালিম দেওয়া হয়েছে।

ভিনা ভানদিনি নামের ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের ক্লাস ওয়ান থেকেই দুই হাতে লেখার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রতিটি ৪৫ মিনিটের ক্লাসের মধ্যে ১৫ মিনিটই তাদের দুই হাত দিয়ে লেখার প্র্যাকটিস করতে হয়। স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ভিপি শর্মা আজব এই প্রথা চালু করেছিলেন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র শর্মার জীবনী পড়ে। রাজেন্দ্র শর্মা দুই হাতেই লিখতে পারতেন।

যারা সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী, তারা দ্রুতগতিতে নির্ভুলভাবে লিখতে পারে। এতেই খুশি ভিপি শর্মা। তাঁর বিশ্বাস, এই দক্ষতার কারণে শিক্ষার্থীরা কয়েকটি ভাষা একত্রে শিখতে পারে। তাই দুই হাতে লেখানোর পাশাপাশি তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের একটি শব্দ দুটি ভাষায় লেখার প্রশিক্ষণও দেন। শুধু তা-ই নয়, এই দক্ষতা নাকি মনোযোগ বাড়াতেও কাজে দেয়।

কিন্তু কোনো কোনো গবেষণায় দেখা গেছে, ভিপি শর্মার এই মতবাদ বিজ্ঞানসম্মত নয়। কারণ দুই হাতে লেখার কারণে মানুষের স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, তেমনি পড়াশোনায় কম মনোযোগ থাকারও সুযোগ আছে, বিশেষ করে গণিত বুঝতে অনেকের সমস্যা হয়। উত্তর ফিনল্যান্ডের এক গবেষণায় জানা গেছে, দুই হাতে লেখার কারণে মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ভাষা শেখার ক্ষেত্রেও এটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

দুই বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার এক গবেষকদল ভিপি শর্মার শিক্ষার্থীদের ওপর গবেষণা চালায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের ওই গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়নি বলেই জানান ভিপি শর্মা।


মন্তব্য