kalerkantho


অদ্ভুত

২০ বছর পর পর গড়ে তোলা হয় যে মন্দির

অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

২৬ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



২০ বছর পর পর গড়ে তোলা হয় যে মন্দির

জাপানে দুটি ধর্মের প্রভাব বেশি। বৌদ্ধ ধর্ম এবং খাস জাপানি ধর্ম শিন্টো।

জাপানজুড়ে শিন্টো ধর্মাবলম্বীদের অনেক উপাসনালয় বা মন্দির আছে। তবে এর মধ্যে ইসে শহরের মন্দিরটি একটু ব্যতিক্রম। প্রতি ২০ বছর পর পর এটি ভেঙে আবার নতুন করে গড়ে তোলা হয়।

ইসে জিঙ্গু নামের এই মন্দির আসলে একটি বড় কমপ্লেক্স, বিরাট জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে আছে শতাধিক মন্দির। এর মধ্যে সবচেয়ে পবিত্র হলো নাইকু। এ ছাড়া আছে আরেক পবিত্র মন্দির গেকু। তৃতীয় শতাব্দীতে নির্মিত এই মন্দিরগুলোকে দারুণ পবিত্র বলে মনে করেন শিন্টো ধর্মাবলম্বীরা।

শিন্টো ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মৃত্যু আর পুনর্জন্ম জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই বিশ্বাসে প্রভাবিত হয়ে গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত প্রথা।

প্রতি ২০ বছর পর পর নাইকু আর গেকু ভেঙে আবার নতুন করে গড়ে তোলা হয়। মন্দির নির্মাণের কলাকৌশল এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে হস্তান্তরেও এই প্রথা দারুণ কাজে দেয়। ইসে শহরের এই মন্দির পুনর্নির্মাণের প্রথা বহু প্রাচীন। ওই অঞ্চলে আগে শস্য রাখার জন্য মাটি থেকে বেশ উঁচুতে ঘর বানানো হতো। বৃষ্টি আর পোকার দৌরাত্ম্যে কয়েক বছর পর পর ঘরগুলো শস্য রাখার অযোগ্য হয়ে পড়ত, তাই নতুন করে বানানো হতো। এ থেকেও এই মন্দির তৈরির প্রথা শুরু হতে পারে বলে মনে করেন ইতিহাসবিদরা।

সাধারণ মানুষ অবশ্য মন্দিরগুলোর কাছে যেতে পারে না। উঁচু কাঠের দেয়ালঘেরা মন্দিরের ছাদ দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। সর্বশেষ ২০১৩ সালে মন্দিরগুলো নতুন করে বানানো হয়েছিল। কাজেই পরবর্তী নির্মাণকাজ শুরু হবে ২০৩৩ সালে। এ নিয়ে মোট ৬২ বার মন্দির দুটি ভেঙে নতুন করে বানানো হয়েছে। এই ভাঙা-গড়া নিয়েও চলে বিশাল ধুমধাম। ওকিহিকি নামের এই উত্সব চলে টানা দুই বছর। মন্দিরের পাশের পবিত্র বন থেকে কেটে আনা হয় জাপানি সাইপ্রাসগাছের মস্ত সব গুঁড়ি। দুই বছর ধরে আশপাশের শহরে গুঁড়িগুলো প্রদর্শিত হয়। প্রতিবার প্রায় ১০ হাজার গাছ কাটা হয় মন্দিরগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য। খরচ হয় পঞ্চাশ কোটি মার্কিন ডলার। জাপানি রাজকোষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের চাঁদার অর্থে পরিচালিত হয় এই কর্মযজ্ঞ। প্রতিটি মন্দির তৈরিতে প্রায় আট বছর সময় লেগে যায়।


মন্তব্য