kalerkantho


দরজার ওপাশে

ব্যর্থ প্রেমের বাজার

ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অদ্ভুত এক বাজারের গোড়া পত্তন করেছেন এক লোক। ব্যর্থ প্রেমের স্মৃতিচিহ্ন হয়ে থাকা বিভিন্ন নিদর্শন রীতিমতো গায়ে মূল্য সেঁটে বিক্রি করা হয় এখানে। আর এগুলো বেচতে আসেন ওই ছেঁকা খাওয়া প্রেমিক বা প্রেমিকারা। জানাচ্ছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

২৬ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ব্যর্থ প্রেমের বাজার

জীবনে প্রেম এলেও অনেক সময় টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। বিচ্ছেদের বেদনায় পোড়েননি এমন লোকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এই দুর্ভাগাদের শোক বিমোচনের জন্যই বুঝি ভিয়েতনামের হ্যানয় শহরে গড়ে উঠেছে ওল্ড ফ্লেমস মার্কেট। এটি ব্যর্থ প্রেমের বিরহ উপশমের এক আদর্শ জায়গা। কী বিক্রি হয় এই বাজারে? বিচ্ছেদের বেদনায় কাতর মানুষজন এখানে এসে বিক্রি করেন তাঁদের প্রেমের সময়ে বিনিময় করা উপহারসামগ্রী। আশ্চর্য ঘটনা হলো, তাঁদের এই স্মৃতিচিহ্ন কেনার লোকেরও অভাব হয় না।

বাজারটি স্থাপনের পেছনে আছেন দিন থান নামের এক তরুণ উদ্যোক্তা । তাঁর বক্তব্য হলো—‘সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর উপহারসামগ্রী মানুষের কষ্ট খালি বাড়ায়। পুরনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়। অনেকে এসব উপহারকে জঞ্জাল জ্ঞান করে বাইরে ফেলে দেন, ক্ষতি হয় পরিবেশের। আর এ সব কিছু চিন্তা করেই এই মার্কেট গড়ে তোলা হয়েছে।

মানুষ এখানে যেমন এসব উপহার কিনে নিতে পারবে, তেমনি পরিবেশের ক্ষতিও হবে না। এতে সব পক্ষেরই লাভ। ’

বাজারে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা প্রেমিক-প্রেমিকাদের লেখা চিঠি
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে চালু করার পর শুরুতে অবশ্য বিচিত্র এই বাজার মানুষকে তেমন আকৃষ্ট করতে পারেনি। মাত্র জনা দশেক লোক এসেছিলেন তাঁদের ব্যর্থ প্রেমের স্মৃতিচিহ্ন বেচতে। কিন্তু মাসখানেকের মধ্যেই বাজার জমে উঠল। বিক্রেতারা তাঁদের লাভের ৩০ শতাংশ থাংকে দিয়ে দেন। প্রথমে ফেসবুক পেজে ছেঁকা খাওয়া প্রেমিক-প্রেমিকারা তাঁদের গল্প শেয়ার করেন, এরপর দিন থান ও তাঁর বন্ধুরা ঠিক করেন, কারা কারা তাঁদের উপহার বিক্রি করতে পারবেন। সদ্য সম্পর্ক ভেঙেছে এমন লোকরাই বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকেন। কী থাকে না এখানে! প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার লেখা চিঠি, রুমাল, বই, প্রসাধনী, ক্যামেরা—এককথায় যত ধরনের সামগ্রী একজন তাঁর ভালোবাসার মানুষকে দিতে পারে তার সবই। শুধু তা-ই নয়, মার্কেটে টাঙানো আছে একটা বড়সড় লেখার বোর্ড। মানুষ এখানে নানা রকম বার্তা লিখে যায়, যাতে লোকেরা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বেদনা কাটিয়ে উঠতে পারেন। দিন আশা করছেন, এই মার্কেট মানুষকে বিয়ের আগে একে অপরকে জানতে ও বুঝতে উত্সাহিত করবে।

সবাই অবশ্য এই মার্কেটের ধারণাটা পছন্দ করছেন না। একজন ক্রেতার ভাষ্যমতে, মানুষ এখানে এসে বই, ছবি, ডায়েরি এবং প্রেমপত্রও বিক্রি করে দিচ্ছেন। এগুলো খুবই পবিত্র, এমনকি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও। একান্ত ব্যক্তিগত এই জিনিসগুলো এভাবে জনসমক্ষে নিয়ে আসার ব্যবস্থাটা কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না।

দিন অবশ্য এর সঙ্গে একমত নন। তিনি মনে করেন, এই মার্কেট মানুষকে ব্যর্থ সম্পর্কের বেদনা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করছে।

মাসে একবার করে বসে এই জমজমাট মার্কেট। শিগগিরই ভিয়েতনামের আরেক বড় শহর হো চি মিন সিটিতে তিনি এই মার্কেটের আরেকটি শাখা খুলবেন বলে জানিয়েছেন।

অবশ্য এই ঘরানার বাজার কিন্তু এটাই প্রথম নয়। ক্রোয়েশিয়ার রাজধানী জাগরেবেও আছে এমন এক বাজার, যেখানে মানুষ ব্যর্থ প্রেমের স্মৃতিচিহ্ন দান করে যায়।

প্রায় ৯ কোটি মানুষের দেশ ভিয়েতনামের জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকের বয়সই ৩০ বছরের নিচে। তরুণ এই জনগণ বিয়ের আগে সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী। ভিয়েতনামিজ সমাজে ডিভোর্সের হারও বাড়ছে। এই মার্কেটের তাই এখন রমরমা অবস্থা। ক্রেতা-বিক্রেতার পাশাপাশি অনেক দর্শকও হাজির হচ্ছেন ভাঙা হূদয়ের স্মৃতিচিহ্ন দেখতে।


মন্তব্য