kalerkantho


আমরা কেন অন্যের কাছ থেকে ধার করতে যাব?

নাসির উদ্দীন ইউসুফ। বাংলাদেশের নাট্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। মহান মুক্তিযুদ্ধেও পালন করেছেন সাহসী কমান্ডারের ভূমিকা। একুশে পদকজয়ী এই কিংবদন্তির বর্ণাঢ্য জীবনের গল্প শুনেছেন রুদ্র আরিফ। ছবি তুলেছেন মোহাম্মদ আসাদ

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০




আমরা কেন অন্যের কাছ থেকে ধার করতে যাব?

ঔপনিবেশিক নাট্যরীতির অনুকরণে বাংলা নাটক নির্মিত হলে তা হবে আত্মঘাতী। স্বাধীন ও মুক্ত দেশে, স্বাধীন ও মুক্ত মানুষেরই নাট্যরীতি ও শিল্পবোধ তৈরি করা আমাদের মূল দায়িত্ব

 

 

শুনেছি নাটকের কারণে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন?

১৯৭৭ সালের জুলাই মাস। ‘নাচাও রাস্তা নাচাও’ নামে পথনাটকের একটি আন্দোলন শুরু করেছিলাম আমরা। সেলিম আল দীনের লেখা, আমার নির্দেশিত ‘চরকাঁকড়ার ডকুমেন্টারি’ নাটকটির প্রদর্শন হচ্ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) সড়ক দ্বীপে। বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ এসে আমাদের ধরে নিয়ে গেল! আমি, শিমূল ইউসুফ, হাবীবুল হাসানসহ প্রায় ১৭ জন গ্রেপ্তার হলাম। অভিযোগ করা হলো, সামরিক শাসনের সময় নাটক করে রাস্তায় গাড়ি চলাচলে নাকি বিঘ্ন ঘটিয়েছি আমরা। অবশ্য রাত ১০টার দিকে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

নাটক করার ভাবনা মাথায় এলো কখন?

১৯৬৮ সালের কথা। আমি জগন্নাথ কলেজে পড়ি। সে সময় আমি আর শাহরিয়ার কবির মিলে ছাত্র আন্দোলনের পাশাপাশি একটি নাটক করার চেষ্টা করলাম। বেছে নিলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কঙ্কাল’ গল্পটি। কলেজ ক্যান্টিন ও কমনরুমে কয়েক দিন বসে গল্পটির নাট্যরূপ দিতে শুরু করলাম আমরা। তবে আন্দোলনের সঙ্গে সামগ্রিকভাবে জড়িয়ে পড়ায় নাটকটি আর করা হয়নি। এ সময়ই সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকীর সঙ্গে পরিচয় হলো। তিনি ছিলেন আমাদের গুরুস্থানীয় ব্যক্তি। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে একদিন তাঁকে বললাম, দেশ স্বাধীন হলে নাটক করব। তিনি খুশি হয়েছিলেন কথাটি শুনে। ১৯৭২ সালে আমি ম হামিদের সঙ্গে কাজ শুরু করি। তিনি তখন ‘নাট্যচক্র’ নাট্যদল গড়ে তুলেছেন। সেই নাট্যদলের হয়ে প্রথম মঞ্চনাটক নির্দেশনা দিই। সেলিম আল দীনের লেখা সেই ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন’ নাটকটির মধ্য দিয়েই প্রকৃত অর্থে বাংলা নাটকের একটি বাঁকবদল ঘটে। শিরোনাম ও প্রযোজনার দিক থেকে এটি একেবারেই আধুনিক রীতির নাটক হয়ে ওঠে।

সেলিম আল দীনের সঙ্গে পরিচয় তখনই?

আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শরিফ মিয়ার ক্যান্টিন ও মধুর ক্যান্টিনে রাজনৈতিক ও শিল্প আড্ডায় মেতে উঠতাম, সেলিম সেখানে আসতেন। আরো আসতেন শামসুর রাহমান, আবুল হাসান, নির্মলেন্দু গুণ, রফিক আজাদ, রফিকুন নবী, সালাহউদ্দীন জাকী, হাশেম খান, শাহরিয়ার কবির, শহীদ কাদরী প্রমুখ। সেলিমের সঙ্গে আমার আগে থেকে পরিচয় থাকলেও শিল্পবন্ধুত্ব গড়ে ওঠে ‘জন্ডিস ও বিবিধ বেলুনের’ মধ্য দিয়ে।

এই বন্ধুত্বের অন্যতম সেরা ফসল ‘ঢাকা থিয়েটার’, তাই না?

‘নাট্যচক্র’ যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নাট্যদল ছিল, এর বাইরে দর্শনীর বিনিময়ে নিয়মিত নাটক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা যায় কি না—সেই ভাবনা মাথায় এলো আমাদের। ১৯৭৩ সালের ২৯ জুলাই বিজয়নগরে আমি, সেলিম আল দীন, হাবীবুল হাসান, রাইসুল ইসলাম আসাদ, ম হামিদ, কাজী আলী হাসান, রইস খান, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, আল মনসুর, কাজী শাহজাহান ববিসহ আরো বেশ কয়েকজন মিলে একটি মিটিং করি। নতুন নাট্যদল গড়ার এই সভায় আহ্বায়ক কমিটিতে থাকি আমি, ম হামিদ আর সেলিম আল দীন। ‘ঢাকা থিয়েটার’ নামটির প্রস্তাব দেন ম হামিদ। নামটি সবার পছন্দ হয়। এভাবেই ঢাকা থিয়েটারের পথচলা শুরু। আমারই নির্দেশনায়, আমাদের প্রথম নাটক মঞ্চস্থ হয় সে বছরের ৯ ডিসেম্বর, ঢাকার বিসিআইসি মিলনায়তনে। পরে আলী যাকের ও আতাউর রহমানের আহ্বানে আমরা মহিলা সমিতিতে নাটক করা শুরু করি। আমরা  তখন একসঙ্গে দুটি ছোট নাটক মঞ্চায়ন করতাম—সেলিম আল দীনের ‘সংবাদ কার্টুন’ আর হাবীবুল হাসানের ‘সম্রাট ও প্রতিদ্বন্দ্বীরা’। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের নাটকে ‘ঢাকা থিয়েটার’ একটি নতুন আঙ্গিকের সন্ধান এনে দেয়। পরবর্তী পর্যায়ে ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ ও ‘শকুন্তলা’ মঞ্চায়নের মাধ্যমে আমরা আরো প্রস্তুতি লাভ করি। এ দুটিও সেলিমেরই লেখা।

শিল্পবন্ধুত্ব ও নাট্যযাত্রায় আপনাদের মূলমন্ত্র কী ছিল? সেটির প্রভাব পড়েছে কিভাবে?

আমাদের ভাবনা ছিল, ঔপনিবেশিক নাট্যরীতির অনুকরণে বাংলা নাটক নির্মিত হলে তা হবে আত্মঘাতী। স্বাধীন ও মুক্ত দেশে, স্বাধীন ও মুক্ত মানুষেরই নাট্যরীতি ও শিল্পবোধ তৈরি করা আমাদের মূল দায়িত্ব। সেটি প্রতিষ্ঠা করা এবং তার আলোকে বিশ্বনাটকে আমাদের স্থান নিশ্চিত ও নির্দিষ্ট করা ছিল একটি বড় উদ্দেশ্য। আমরা বুঝলাম, বাংলা নাট্যরীতিকে আলাদাভাবে বিশ্ব রঙ্গমঞ্চে ঝংকৃত হতে হবে। আর বললাম, ‘হাতের মুঠোয় হাজার বছর, আমরা চলেছি সামনে।’ তার মানে, আমাদের নিজেদেরই রয়েছে হাজার বছরের সমৃদ্ধ নাট্য ও শিল্প ইতিহাস এবং রুচি। পালাগান, কবিগান, মনসামঙ্গল, নটপালা, ভাসানযাত্রা, বেহুলার নাচানি... কত রকম ফর্ম, আঙ্গিক, কথনরীতি ও লেখ্যরীতি রয়েছে আমাদের। আমরা কেন অন্যের কাছ থেকে ধার করতে যাব? শিল্পরীতি ও সংস্কৃতি যদি ঔপনিবেশিক আদলেই গড়ে উঠতে থাকে, তাহলে কি সেটি স্বাধীন ও মুক্ত দেশের মানুষের স্বপ্নের কথা বলবে? বলবে না। এ কারণেই আমরা দুজন মিলে ‘বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার’ তৈরি করেছি। এ কারণেই সেলিম আল দীনের রচনায় বর্ণনাত্মক নাট্যরীতি, বাঙালির নিজস্ব নাট্যরীতি, পাঁচালি ও কথকতার দেখা মেলে। এগুলোর আলোকেই আমরা ‘ঢাকা থিয়েটারে’ কাজ করতে থাকি। সেলিমের রচনা ও আমার নির্দেশনায় একে একে মঞ্চস্থ হয় ‘কিত্তনখোলা’, ‘হাতহদাই’, ‘যৈবতী কন্যার মন’, ‘চাকা’, ‘নিমজ্জন’, ‘প্রাচ্য’, ‘বনপাংশুল’... কত যে নাটক! অন্যদিকে, নাট্যদলগুলোর কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের আমি ছিলাম প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং রামেন্দু মজুমদার ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।

স্বাধীন দেশে নাট্যযুদ্ধের অন্যতম প্রধান অগ্রযোদ্ধা আপনি। দেশ স্বাধীন করার যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন। আপনার স্বাধিকার বোধ তৈরি হওয়ার দিনগুলোর কথা বলুন...

১৯৬৪ সালে যে শিক্ষা আন্দোলন হয়েছিল, তাতে অংশ নিয়ে পুলিশের মার খেয়েছিলাম আমি। স্লোগান খুব ভালো দিতে পারতাম। পড়তাম নওয়াবপুর গভর্নমেন্ট হাই স্কুলে। অষ্টম থেকে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্লোগান দিয়েছি অনেক। এ সময়ে আমার মনে রাজনৈতিক চেতনা গড়ে উঠতে থাকে। পরের বছর পাকিস্তানে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বেসিক ডেমোক্রেসির অধীনে আইয়ুব খান দাঁড়িয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি হিসেবে, আর ফাতেমা জিন্নাহকে দাঁড় করিয়েছিল বিরোধী দলে। বিরোধী দলের সেই আন্দোলনেই আমি প্রথমবার সামনে থেকে বঙ্গবন্ধুকে দেখি। তখন তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। সারা দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। এখন যেখানে জোনাকি সিনেমা হল, এটির কাছাকাছি একটি ভোটকেন্দ্র ছিল। বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন সেটির পরিদর্শনে। তার দুই বছর পর, ১৯৬৭ সালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে আমি প্রথমবার সামনে থেকে দেখেছি, পল্টন ময়দানে। জ্বালাময়ী ভাষণ ছিল তাঁর। বঙ্গবন্ধু তখন কারাবন্দি ছিলেন; ফলে তাঁকে দেখার সুযোগ তখন ছিল না। কার্যত এ দুজন মানুষকে দেখেই রাজনৈতিকভাবে বেড়ে উঠেছি আমি।

এদিকে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হওয়ার পর, সেখানকার ছাত্রলীগ সভাপতি রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজুর (সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী) আমন্ত্রণে আমি ছাত্রলীগে যোগ দিই। কলেজের ভিপি নির্বাচনে তাঁকে বিজয়ী করতে অনেক খেটেছিলাম। সফলও হয়েছি। তবে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় আমার মনে নতুন এক উপলব্ধি জন্ম নিল। মনে হলো একটি জাতির মুক্তির জন্য জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পাশাপাশি সমাজতন্ত্রও সমান জরুরি। ফলে ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগ ছেড়ে নাম লেখাই ছাত্র ইউনিয়নে। তখন অবশ্য ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে বিভাজনের নয়, বরং সংঘবদ্ধতার সম্পর্ক ছিল।

কখন টের পেলেন যুদ্ধ অনিবার্য?

১৯৬৯ সালের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এবং ছাত্র অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি অপার সম্ভাবনা দেখা গেল। যে দীর্ঘদেহী সুঠাম সুদর্শন বাঙালি মানুষটির বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্রসহ নানা মামলা ও নির্যাতন সারা জীবন চলেছে, সেই বঙ্গবন্ধু তখন জাতীয় নেতা হিসেবে গড়ে উঠছেন। আমরা তখন রাস্তায় মিছিল করা ও স্লোগান দেওয়া ছাত্র; বিস্ময় নিয়ে ওই মানুষটিকে দেখি আর অনুপ্রাণিত হই। দিনের পর দিন জেল খেটে যাচ্ছেন, অথচ একটুও মাথা নোয়াচ্ছেন না তিনি! তাঁর মুক্তির জন্য যখন আন্দোলন চলছে, আমরা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ থেকে তাঁর কর্মী হিসেবে এগিয়ে এলাম। তখন রাশেদ খান মেনন, সিরাজুল আলম খান, তোফায়েল আহমেদ, আ স ম আবদুর রব, নূরে আলম সিদ্দিকী, আবদুল কুদ্দুস মাখন, শাহজাহান সিরাজ—তাঁদের সঙ্গে পরিচয় হলো আমার। এভাবেই আমাদের বেড়ে ওঠা। বঙ্গবন্ধুর মুক্তির মাধ্যমে আন্দোলনের সাফল্য এলো। এর হাত ধরে এলো ১৯৭০ সালের নির্বাচন। সেই নির্বাচনী প্রচারণায় আমরা সব ছাত্র জড়িত ছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করুক। কেননা নিজেদের মানুষ যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় যায়, তাহলে এই ভূখণ্ডের মানুষ পাবে ন্যায্য হিসসা। তবে এর আগেই ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আমাদের মধ্যে একটি স্লোগান চলছিল—‘পিন্ডি না ঢাকা? ঢাকা! ঢাকা!’ প্রথমে ‘জেলের তালা ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব’, তারপর একে একে ‘পিন্ডি না ঢাকা? ঢাকা! ঢাকা!’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘তোমার নেতা, আমার নেতা—শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’—স্লোগানের এই ধারাবাহিকতাটি খেয়াল করলেই বোঝা যায়, এ ভূখণ্ডের বাঙালি জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষা আসলে কী।

কেমন ছিল যুদ্ধ শুরুর সময়?

১ থেকে ২৫ মার্চ আমরা একটানা রাস্তায় থেকেছি, আন্দোলন করেছি। স্লোগান দিয়ে রমনা পার্কের কাছে জড়ো হতাম, পুলিশ আমাদের সরিয়ে দিত। প্রতিটি পাড়ায়, মহল্লায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিভিন্ন কমিটি করা হয়েছিল। সেগুলোর দায়িত্ব ছিল আন্দোলন পরিচালনা করা। সেখানে রাজনীতিবিদ ও ছাত্রনেতাদের কাছ থেকে নানা দিকনির্দেশনা আসত। আমরা তা অনুসরণ করতাম। পল্টন এলাকার দায়িত্বে ছিলাম আমি ও আমার বন্ধু মানিক। পল্টন, জোনাকি, ফকিরাপুল, বায়তুল মোকাররম, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা—এই অঞ্চলগুলোতে আমরা ছাত্র, শ্রমিক, দিনমজুর, দোকানদার, সাধারণ চাকরিজীবী, গৃহিণী—সবার সঙ্গে আলাপ করেছি। বোঝার চেষ্টা করেছি তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা। আমাদের আন্দোলনের অংশীদার হওয়ার, দেশের স্বাধীনতায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এবং মওলানা ভাসানীর বক্তৃতাগুলোয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাগুলো খেয়াল রেখেছি। এর মধ্যে ২৩ মার্চ ছিল পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবস। সেদিন ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া বাংলাদেশের কোথাও পাকিস্তানের পতাকা ওড়েনি। সব জায়গায় উড়েছে সোনালি মানচিত্র খচিত লাল-সবুজ বাংলাদেশের সেই প্রথম পতাকা। সেদিন সকালে আমি আমার বোনের বানিয়ে দেওয়া পতাকাটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। তারপর সালাহউদ্দীন জাকী, রাইসুল ইসলাম আসাদ, কাজী শাহজাহান, মিনি কাদিরসহ আমরা বেশ কয়েকজন বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গিয়ে ভোর ৫টায় পতাকাটি উড়িয়েছি। বঙ্গবন্ধু বারান্দায় দাঁড়িয়ে এ কাণ্ড দেখেছেন; কিছু বলেননি। শেখ কামাল নিচে নেমে এসে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন করেন ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের নেতারা। এই পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই পরিষ্কার হয়ে যায়, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য জনগণ প্রস্তুত হয়ে আছে।

পঁচিশে মার্চ রাত ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির উদ্দেশে স্লোগান নিয়ে এগিয়ে যাই আমরা। কলাবাগান পর্যন্ত আসতে পেরেছিলাম। প্রচণ্ড ভিড় ছিল। নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হলো আমাদের। জানলাম, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে আমরা আক্রান্ত হতে পারি। এলাকায় ফিরে বড় বড় গাছ কেটে, রাস্তায় থাকা কনস্ট্রাকশনের বড় পাইপ তুলে এনে, শ্রমিক ও হাজার হাজার মানুষের সহযোগিতায় আমরা পুরো ঢাকা শহরে ব্যারিকেড গড়ে তুললাম। রাত ১১টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেল। সাড়ে ১১টায় বিচারপতি ভবন ও কাকরাইল মসজিদের দিকে, অন্ধকারের মধ্যে হঠাৎ কিছু একটা নড়াচড়া করে উঠতে দেখলাম। একটু পর প্রচণ্ড আওয়াজ করে কামানের গোলা ছোড়া হলো। তখনো বুঝিনি, এটি কিসের শব্দ। এইসব গোলা উড়তে থাকল আমাদের মাথার ওপর দিয়ে। আমরা যে ব্যারিকেড গড়েছিলাম, সব উড়ে যাচ্ছিল। তারপর প্রচণ্ড গর্জন করে আসতে থাকল একের পর এক ট্যাংক। চলচ্চিত্রে দেখলেও এর আগে বাস্তবে কোনো দিন সামনাসামনি ট্যাংক দেখিনি। দুই পাশের বাড়িঘর পুড়িয়ে এগিয়ে গেল ট্যাংকগুলো। কিছু সৈনিক ভেতরে, কিছু ট্যাংকের ওপরে, কিছু হেঁটে আর কিছু যাচ্ছে গাড়িতে করে। এরই মধ্যে গুলি করছে চারদিকে। বাড়িঘরের প্লাস্টার উড়ে যাচ্ছে। আমাদের হাতে কিছু হাতবোমা ছিল; ছুড়ে মারলাম। তবে ১০ মিনিটের বেশি টিকতে পারলাম না। পরে আমার এক বন্ধু, হাসানের বাড়ির ছাদে উঠে চারপাশে তাকালাম। ১৫-২০ মিনিট পর রাজারবাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দিক থেকে ভেসে আসতে থাকল আর্তনাদ ও গোলাগুলির শব্দ। মনে হলো, পুরো ঢাকা শহরই আগুনে জ্বলছে। এ রকম পরিস্থিতিতে আমরা দেখলাম, পুলিশের লোকজন পালিয়ে আসছে। সম্পূর্ণ উলঙ্গ। কেউ আহত, কেউ ভীতসন্ত্রস্ত। আমাদের বাড়িতে যা ছিল, তাদের খাওয়ালাম। আর রেখে দিলাম তাদের অস্ত্র ও গুলি।

২৭ তারিখ চার ঘণ্টার জন্য কারফিউ উঠে গেলে আমি ও আমার বন্ধুরা আমাদের মায়ের দেওয়া কাঁথা ও তোশকে অস্ত্রগুলো মুড়িয়ে বুড়িগঙ্গা পার হয়ে ওপারে চলে গেলাম। ইপিআর (ইস্ট পাকিস্তান রেজিমেন্ট) থেকে পালিয়ে আসা সদস্য, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছাত্র, গ্রামের ছাত্র ও যুবক—সবাই মিলে প্রশিক্ষণ নিতে থাকলাম সেখানে। ঢাকা থেকে লাখ লাখ মানুষ তখন সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। ২ এপ্রিল ভোররাতে পাকিস্তান আর্মি উবার ক্রাফট, হেলিকপ্টার, বড় বড় জাহাজ, গানবোট ইত্যাদি নিয়ে সেখানে আক্রমণ করল। সেটি ছিল ইতিহাসের সেই ‘দোসরা এপ্রিল গণহত্যা’। প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ছিল না আমাদের। হেরে গেলাম।

কিভাবে নিয়েছিলেন শোধ?

৫ এপ্রিল আমি অস্ত্র লুকিয়ে ঢাকায় চলে আসি। মা তখন ছিলেন ঢাকার আঁটি অঞ্চলে, ওয়াহিদুল হকের বাসায়। আমি ছিলাম সৈয়দপুরের কাছে। একদিন মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। ওয়াহিদ ভাই বললেন, ‘বাচ্চু (নাসির উদ্দীন ইউসুফের ডাকনাম), প্রতিশোধ তো নিতে হবে। তাই না?’ মা কান্নাকাটি করে বললেন, ‘তোমার বোনের অবস্থা খারাপ। খবর এনে দাও।’ মায়ের কান্না থামাতে, বোনকে দেখার জন্য আমি চট্টগ্রাম গেলাম। গাড়িঘোড়া ছিল না, ট্রেন ছিল না। হেঁটে গিয়েছি, হেঁটে এসেছি। এই যাওয়া-আসার পথে দুবার আমি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতের ত্রিপুরায় গিয়েছি। সেখানে দেখা করেছি খালেদ মোশাররফ (বীর-উত্তম) ও আবু তাহের মোহাম্মদ হায়দারের (বীর-উত্তম) সঙ্গে। তাঁরা বললেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ করতে চাও জেনে খুশি হলাম। আমরা বেঙ্গল রেজিমেন্ট, তোমাদের প্রশিক্ষণ দেব। তুমি ঢাকায় গিয়ে আরো কিছু ছেলে নিয়ে আসো।’ এই প্রথম আমি বেঙ্গল রেজিমেন্টের দেখা পেলাম। ঢাকায় ফিরে আমার বন্ধু মানিক, ওমর, রাইসুল ইসলাম আসাদ, শাহজাহানসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে আগরতলায় পৌঁছলাম। সেখানে কামাল লোহানী ও সৈয়দ হাসান ইমামের সঙ্গে দেখা করলাম। তাঁরা বললেন, ‘তুই রেডিওতে আয়।’ মে মাসে, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে স্বরচিত কবিতা পড়লাম আমি—‘বনলতা সেন’। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে বনলতা সেন কেমন আছে—জীবনানন্দ দাশকে যেন সে কথাটিই জানালাম কবিতায়।

কিন্তু সেখানে আমার মন টিকছিল না। একদিন আবদুল জলিলের (আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক) সঙ্গে দেখা হলো। তাঁর একটি ক্যাম্প ছিল পশ্চিম দিনাজপুরে। তিনি সেখানে আমাদের একটি এক্সপ্লোসিভ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করলেন। তারপর গেলাম আগরতলায়। সেখানে তাজউদ্দীন আহমদ ও শেখ কামালের সঙ্গে দেখা হলো। খালেদ মোশাররফের অধীনে মেলাঘর ক্যাম্পে যোগ দিতে যাচ্ছি—এ কথা জেনে শেখ কামাল বললেন, ‘যাও। ভালো থেকো। দেশ স্বাধীন হলে দেখা হবে।’ মেলাঘরের ট্রেনিং নিয়ে, ঢাকা ও আশপাশে অনেক অপারেশন আমরা করেছি। প্রথমে আমি ছিলাম সেকেন্ড ইন কমান্ড। মানিক ছিলেন কমান্ডার। ১৩ নভেম্বর তাঁর শাহাদাতবরণের পর কমান্ডার হলাম আমি। মানিকগঞ্জের দিকে ‘ফ্লাংক-১’ ও ঢাকার দিকে ‘ফ্লাংক-২’—এই দুই ভাগে অন্তত ৫৫ জন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন আমাদের দলে। অতর্কিত আক্রমণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সন্ত্রস্ত করে তুলেছিলাম আমরা।

মূলত ঢাকা ঘিরে আপনার মুক্তিযুদ্ধ। এ শহরেই তো জন্মেছেন ও বেড়ে উঠেছেন?

আমরা ১০ ভাই-বোন। তার মধ্যে ছয়জনের জন্ম কলকাতায়। আমাদের আদিনিবাস চট্টগ্রামে হলেও বাবা চাকরিসূত্রে সেখানে ছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর আমার পরিবার কলকাতা থেকে পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসে। ঢাকার নবাবগঞ্জে, লালবাগ কেল্লার পাশে একটি বাসা ভাড়া নেওয়া হয়। সে বাসায় জন্মেছি আমি, ১৯৫০ সালের ১৫ এপ্রিল। সেদিন ছিল পহেলা বৈশাখ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঠিক পরপরই আমরা পল্টনের বাসায় চলে আসি। এ বাসাটি বাবা ১৯৪৭ সালেই কিনেছিলেন। ১৯৫৭-৫৮ সাল থেকে কিছু স্মৃতি মনে পড়ে আমার। ছোট্ট জনপদ। হাতেগোনা কয়েকটি বাড়ি। ছোট ছোট কাঁচা রাস্তা। ওপরে লাল ইট। পল্টনের সেই বাড়িটি দোতলা ছিল। বাবা নাম দিয়েছিলেন, ‘নাহার ভিলা’। আমাদের বাড়ি থেকে গুলিস্তান বিল্ডিংটি দেখা যেত। এক মাইল দূরে। তখন অত বিল্ডিং ছিল না। বায়তুল মোকাররমও তৈরি হয়নি। ওখানে ছিল হাউস বিল্ডিং করপোরেশন। আর ছিল বিদ্যামন্দির স্কুল। সেই প্রাইমারি স্কুলে আমরা ছোটবেলায় পড়তাম। বড় একটি খাল পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হতো আমাদের। নিউ মার্কেট থেকে শুরু করে গোপীবাগ পর্যন্ত ছিল আমার কৈশোরের বিচরণভূমি। পুরো শহরটিকে পার্ক মনে করে ঘুরে বেড়িয়েছি। মাঝে মাঝে ছোট রাস্তা। কিছু খাল। খালের ওপর ছোট ছোট কালভার্ট। সারা দিনে দু-একটি গাড়ির আসা-যাওয়া। রিকশা অত ছিল না। প্রচুর ঘোড়ার গাড়ি।

ষাটের দশকের শুরুর কথা যদি বলি, তখনকার রামপুরা—যেখানে পরে আমার পেশাজীবন শুরু হয়েছিল ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনে’, সেখানে ঘোড়া ধরে যেতে হতো মৌচাক থেকে। নয়তো যেতে হতো নৌকায়। তখন গুলশান হয়ে ওঠেনি; ধানমণ্ডি মাত্র গড়ে উঠছে। আমার এক মামাতো বোনের বাসা ছিল সেখানে। সেই বড় আপার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া আমাদের কাছে ছিল যেন কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা! সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা একটি ‘২ নম্বর’ বাসে উঠতাম; সেটি আমাদের নামিয়ে দিত পিলখানার ওখানে—এখন যেখানে ‘সীমান্ত স্কয়ার’ শপিং মলটি রয়েছে। এটিই শেষ স্টপেজ। এখান থেকে হেঁটে যেতে হতো আমাদের। চোরকাঁটা লেগে থাকত প্যান্টে। আপার বাসায় গিয়ে নাশতা করার পর ওগুলো বাছতাম। আপাও বেছে দিতেন।

ঢাকায় নৌকা চালানোর প্রচুর সুযোগ হয়েছিল আমাদের শৈশব-কৈশোরে। বিদ্যামন্দির স্কুলটির আগে, এখনকার যেটি পুরানা পল্টন কালভার্ট রোড—সেটি একটি খাল ছিল। এই খালটি সংযুক্ত ছিল মতিঝিল খালের সঙ্গে। সেই খালটি গণভবনের পেছন দিক দিয়ে ধোলাইখালে গিয়ে পড়েছিল। ধোলাইখাল থেকে সেটি গিয়ে নেমেছিল বুড়িগঙ্গায়। একদিকে বালু নদ, আরেক দিকে তুরাগ নদ। তার মানে, চারটি নদী ছিল সংযুক্ত। ঢাকা শহর একটি জলজালে আবদ্ধ হয়ে ভালোবাসার সম্পর্কে বাঁধা পড়েছিল। সম্পর্কের মূল জায়গাটি ছিল—জল।

প্রচুর ফুল আর পাখি ছিল ঢাকায়। মনে পড়ে, রাতের বেলা সুযোগ পেলে আমরা চলচ্চিত্র দেখতাম। ১৯৫৮ সালে যে ছবিটি দেখে প্রথম আপ্লুত হই, প্রথম কেঁদে ফেলি, সেটি সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালি’। দুর্গা যখন মারা যায়—আমি চিত্কার করে কেঁদে উঠেছিলাম। আশপাশের লোকজন বিরক্ত হচ্ছিল বলে আমার বড় বোন মুখ চেপে ধরেছিলেন!

চলচ্চিত্র নির্মাণের কথা ভাবলেন কখন?

ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি ঝোঁক রয়েছে আমার।  ১৯৬৯ সালে আমি মুহম্মদ খসরু ও সালাহউদ্দীন জাকীর সঙ্গে ‘ইস্ট পাকিস্তান ফিল্ম সোসাইটিতে’ (বর্তমানে, চলচ্চিত্র সংসদ) যোগ দিই। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতাম। ভালো ভালো ছবি দেখতাম। সে বছরই চেষ্টা করেছিলাম চিত্রনাট্য লেখা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের। হয়ে ওঠেনি। স্বাধীনতার পরও সেই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। ১৯৮০ সালে সালাহউদ্দীন জাকী যখন ‘ঘুড্ডি’ নির্মাণ করেন, আমি তাতে যুক্ত থাকি। সে বছর নিজেও কয়েকটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছি। ১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ‘গণ-আদালতের’ সঙ্গে যখন জড়িত হই, এর আগমুহূর্তেই নির্মাণ করি নিজের প্রথম কাহিনিচিত্র ‘একাত্তরের যীশু’। শাহরিয়ার কবিরের উপন্যাস অবলম্বনে, ডেভিড প্রণব দাশের প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্র গণ-আদালত চলাকালেই মুক্তি পায় এবং তরুণ প্রজন্মকে আলোড়িত করে। ১৯৭৫ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানটি শুনতে পাওয়া যায়। এর পর ২০১১ সালে নির্মাণ করেছি ‘গেরিলা’। আমার মুক্তিযুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা এবং সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস—এ দুটিকে মিলিয়ে এই নির্মাণ। মনে পড়ে, ‘গেরিলা’ দেখে দর্শকদের সিনেমা হল থেকে ‘জয় বাংলা...’ স্লোগান দিয়ে বের হতে দেখেছি। সেই দর্শকদেরই আবার দেখতে পেয়েছি ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, গণজাগরণ মঞ্চে। এভাবেই একেকটি চলচ্চিত্র একেকটি সময় ও ঘটনাকে স্পর্শ করে যায়।

সম্প্রতি আমি ‘আলফা’ শিরোনামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজ শেষ করেছি। আমার সম্পূর্ণই ব্যক্তিগত বোধ, সাম্প্রতিক সময়ে খারাপ লাগা, ভালো লাগা, বিবেচনা, সামাজিক অনাচার, রাজনৈতিক হঠকারিতা, মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের উত্থান, বাজার অর্থনীতি, বিশ্বায়ন—সব কিছু মিলিয়ে এই চলচ্চিত্র। ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও জাতীয় সংস্কৃতিতে বিশ্বাস রাখা একটি রাষ্ট্র এখন যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, সে সময় এই একান্তই নিজ অনুভবের চলচ্চিত্রটি আমি বানিয়েছি। এটি শিগগিরই মুক্তি পাবে।     

(১৪ আগস্ট ২০১৮; বাংলামোটর, ঢাকা)



মন্তব্য