kalerkantho


নিউজ ম্যানেজমেন্ট

কাচঘরের অষ্টব্যঞ্জন

গাউস রহমান পিয়াস

৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



কাচঘরের অষ্টব্যঞ্জন

আটজনের ঘর আমাদের। কাচের ঘর। সাত ভাই চম্পা আর এক বোন পারুল যেমন ছিল, অনেকটা সেই রকম—সাত নিউজম্যান, এক হেডম্যানের পরিবার। বাহারি একখান নাম আছে ঘরটির, নিউজ ম্যানেজমেন্ট। কী ম্যানেজ করি না করি!

বছরে সাড়ে তিন শরও বেশি দিন সকালের কালের কণ্ঠ’র ফ্রন্ট-ব্যাক, ২-১৯ পৃষ্ঠাসহ খবরের পৃষ্ঠাগুলো তার সাক্ষী। এই লেখার লক্ষ্য কাচের ঘরের একেকটি মানুষকে নন-জার্নালিস্টিক এক আতশকাচ থেকে দেখা, দেখার এই লেন্সটি ক্লোজআপ, ম্যাক্রো এবং সাবজেক্টিভ।

আমাদের পরিষদের হেডম্যান তৌহিদুর রহমান। আপাদমস্তক ভিন্ন মতাবলম্বী। ভাবনায় প্রথাবিরোধী। কাচের ঘর গলে যাওয়ার মতো তর্কের উত্তাপ, কিংবা দুঃসংবাদে বরফ জমার মতো শীতল সময়ও তিনি নিজস্ব ঢংয়ে সব রকমের মতৈক্যের বিপরীতে অবস্থান নিতে পারেন। জেন্ডার বিভাজন, নারীবাদের মতো ইস্যুতে আমাদের হেডম্যান আমার দেখা সেরা আইকন-ক্লাস্ট। পারসোনালিটি টাইপ : পারফরমার।

কাচঘরে দ্বিতীয় শক্তিধর মানুষটি হলেন খায়রুল বাশার শামিম। তিন গুণে তিনি আমার চোখে অদ্বিতীয়। অশ্রুতপ্রায় ডেসিবলে তিনি ফোনে কথা বলতে পারেন। প্রয়োজনে শাসন করবেন—শব্দে কাচের গ্লাস ভাঙবে, তাঁর গলা কাঁপবে না। তবে আমি তাঁকে আজীবন ঈর্ষা করব তাঁর অসামান্য রসবোধের জন্য। ‘কৌতুকল্পদ্রুপ’, জোকসের জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া। দেয়ার ইজ নাথিং আন্ডার দ্য স্কাই হি ক্যান নট কাট জোক অন।

ভালো সাংবাদিক/সম্পাদক হতে চাইলে বাইফোকাল মাইন্ড, তৃতীয় নয়ন থাকা লাগে। কাচঘরের আজাদুর রহমান চন্দনের সম্ভবত চোখ আছে ঘাড়ের ওপরও। সামনের হাতি, পেছনের মাছি—কিছুই তাঁর চোখ এড়াবে না। ফলে আদায় করে নেন রিপোর্টারদের সমীহ। তিনি ভয়ানক রকমের শৃঙ্খলাপরায়ণ। স্বল্প ও মৃদুভাষী। গলা না উঁচিয়েই যৌক্তিক বাক্যবাণে ধরাশায়ী করার যোগ্যতা রাখেন। তিনি আইনজ্ঞ। অভিজ্ঞ আয়কর আইনিজীবীও তাঁর কাছে পাত্তা পাবেন না।

মোতাহার হোসেন বুলবুল। আরেক মৃদুভাষী। এমনভাবে হাঁটেন, মাটিও টের পাবে না। কিন্তু যদি হঠাৎ কোনো দিন জ্বলে ওঠেন, তাঁর সেই রূপ ভয়ংকর! নিবিষ্ট মনে কাজ করতে করতে এমন সহজ প্রশ্ন করে বসবেন, শুনে আমার সন্দেহ হয়—বুলবুল ভাই সশব্দে চিন্তা করেন না তো!

কবির হুমায়ুন। কবি। নজরুল গবেষক। চীনফেরত, নিভৃতচারী। ফেসবুকে পোস্ট দেবেন চীনা ভাষায়, দু-এক বুলেট শব্দে। পাছে সবাই তাঁকে পাঠ করে ফেলে।

শাহ আলম বাবুল। আজকাল মনে হয়, তিনি নির্বাণ পেয়েছেন, এত কম কথা বলেন। অথচ বামধারার ছাত্ররাজনীতির জীবনে রাজপথে গলা ফাটিয়ে এসেছেন। অফিসের মিটিংয়েও তিনি যদি কথা বলেন, সে তত্ত্ব এড়ানো কঠিন।

কামরুল ইসলাম। আরেক ‘রাজনৈতিক’ ভিন্নমতাবলম্বী, যা বেশি প্রকট হয়ে ওঠে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নির্বাচনের দিনগুলোতে। কাজের অবসরে হেডফোন লাগিয়ে বাংলা সিনেমা দেখবেন, কিংবা শুনবেন গজল। কাজের ফাঁকে হুট করে একসঙ্গে বেরিয়ে বিড়ি ফোঁকার সুবিধার্থেই কি না কে জানে—কবির হুমায়ুন ও কামরুল তাঁদের চেয়ার পেতেছেন পাশাপাশি।

আর নিজের ব্যাপারে আমি কী লিখি? একবাক্যেই বলি : ছাই ফেলতে যে ভাঙা কুলাটি লাগে, সে হচ্ছে গাউস রহমান পিয়াস। অলস। টেক অ্যাডিকটেড। জ্যাক অব অল ট্রেডস, মাস্টার অব নান হিসেবেও দাবি করতে পারি নিজেকে। বার্তা বিভাগ পেরিয়ে অনলাইন শাখা, এডিটরিয়াল বিভাগ, ফের বার্তা বিভাগ—ঝোলায় অভিজ্ঞতা কম জমল না।



মন্তব্য