kalerkantho

অফলাইন

১২ জুন, ২০১৮ ০০:০০



অফলাইন

বুলেটে নাম

দুই আন্ডারওয়ার্ল্ড সন্ত্রাসী খুব আতঙ্কে আছে, কখন যে পুলিশের গুলিতে মারা পড়ে। দুজনের সিনিয়র সন্ত্রাসী একটু সাহসী হলেও জুনিয়রটা বেজায় ভয় পাচ্ছে। সিনিয়রটা তাকে সাহস দিয়ে বলছে—দ্যাখ, প্রতিটি বুলেটে আলাদা আলাদা মানুষের নাম লেখা থাকে। যে বুলেটে তোর নাম থাকবে না, সেটি তোর দিকে এলেও তুই মরবি না। জুনিয়রটা মাথা দুলিয়ে বলল—তা ঠিক; কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছি সেই বুলেটগুলার জন্য, যেগুলার ওপর লেখা আছে—‘to whom it may concern’ বা ‘যার জন্য প্রযোজ্য’।

চঞ্চল কুমার ভৌমিক

সতর্ক  থাকুন

যে দুটি জায়গায় বিশ্বকাপের প্রিয় ফুটবল দলের জার্সি পরে ধরা খেতে পারেন—

১. ঈদ শপিং করতে শপিং মলে। কারণ দোকানদার আপনার বিপক্ষ হলে দামটা বাড়িয়ে রাখতে পারে।

২. বাসাভাড়া নিতে। এ ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ভাড়া অথবা ভাড়া না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

তানভীর আহাম্মেদ

ব্রাজিল বিশ্বের সেরা ফুটবল দল

এই মেসেজটি কমপক্ষে ১০ জনের ইনবক্সে পাঠিয়ে দিন। বহুত ফায়দা হবে। যে এটি বিশ্বাস করে পাঠাবে, সে সাত দিনের মধ্যে ভালো একটি সংবাদ পাবে। আর যে বিশ্বাস করবে না, সে ৭০ বছরেও কোনো সুসংবাদ পাবে না; বরং সে মহাবিপদে পড়বে। উগান্ডার এক ফুটবলপ্রেমী এ কথা বিশ্বাস না করায় সে মহাদুর্ভোগে পড়েছে। এখন সে কারওয়ান বাজারে সবজি বেচে। নোয়াখালীর এক ফুটবলপ্রেমী এটিকে ভুয়া বলায়, সে এখন সর্বস্ব হারিয়ে গুলিস্তানের মোড়ে বসে পান বিক্রি করে। আরেক ভাই এই মেসেজ ডিলেট করার কারণে এখন ফার্মগেটে ৩০০ টাকার এনার্জি ভাল্ভ মাত্র ১০০ টাকায় সীমিত সময়ের জন্য বিক্রি করছে। (কেউ আমিন না লিখে যাবেন না)

প্রচারে : সেভেন আপ কম্পানি লিমিটেড।

সালাউদ্দিন হোসেন

দুই কারণ

আমাদের দেশের মহিলারা দুই কারণে জিনিস কেনে—

১. পাশের বাসার ভাবির এইটা আছে।

২. পাশের বাসার ভাবির এইটা নেই।

আমাদের মায়েরা সন্তানদের পড়ালেখায় চাপ সৃষ্টিটাও একইভাবে করে যাচ্ছেন—

১. পাশের বাসার ছেলে বা মেয়েটা ফার্স্ট, তোকেও ফার্স্ট হতে হবে।

২. পাশের বাসারটা একটা গাধা, সো তোকে ফার্স্ট হয়ে দেখিয়ে দিতে হবে আমরাই সুপিরিয়র।

শারমিন

অপরাধী

একটা সময় ফেসবুকরে আমার সবি ভাবিতাম

আমার মনের যত আবেগ এফবিতে পোস্ট করিতাম

কারো হাসি মুখের ছবি দেইখা কমেন্ট করিতাম

কারো দুঃখের পোস্ট দেখলে স্যাড ইমোজি দিতাম

ও ফেসবুক ও ফেসবুক রে, তুই অপরাধী রে

আমার এমবি কেনার টাকাগুলো দে ফিরাইয়া দে

আমার এসএসসির রেজাল্ট খারাপ করার অধিকার দিল কে

ফেসবুক তুই বড় অপরাধী, তোর ক্ষমা নাই রে

আমি স্কুল পলাইয়া বন্ধুদের সাথে ফটো উঠাইতাম

আমার টিফিনের সব টাকা জমাই এমবি কিনিতাম

আরে রাইতের পর রাইত জাগিয়া এফবি চালাইতাম

আবার মাঝে মাঝে মেসেঞ্জারে চ্যাটিং করিতাম

ও ফেসবুক ও ফেসবুক রে, তুই অপরাধী রে

আমার এমবি কেনার টাকাগুলো দে ফিরাইয়া দে।

উম্মে হাবিবা

 

আগে-এখন

আগে দাদা-দাদিরা দেখতাম পানের বাটা সঙ্গে রাখতেন, এখন রাখেন ওষুধের বাটা।

মো. আমির হোসাইন

 

পরামর্শ

এই গরমে স্বাস্থ্য টিপস—‘ভূতের মুভি দেখুন। ভয়ে আপনার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে গেলে আর গরম লাগবে না।’

সন্দীপন বসু

 

বাবা

মহল্লার পোলাপাইনরে আদর করে ‘বাবা’ ডাকতে শরম লাগে। বাবা ডাকলে মানুষ আজকাল সন্দেহের চোখে তাকায়। মনে করে, ইয়াবার ব্যবসায়ী।

হুমায়ুন কবীর

হালকা-ভারী

শিক্ষক : পল্টু কয়েকটা হালকা যানবাহনের নাম বল।

পল্টু : হেলিকপ্টার, অ্যারোপ্লেন, যুদ্ধবিমান ও স্যাটেলাইট।

শিক্ষক : কী বলছিস?

পল্টু : স্যার, আরো আছে—লঞ্চ, স্টিমার, ফেরি, কার্গো, সামুদ্রিক জাহাজ।

শিক্ষক : তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে?

পল্টু : স্যার, হালকা না হলে ওগুলো আকাশে ওড়ে কেমনে, পানিতে কি এমনিই ভাসে?

শিক্ষক : তাহলে ভারী যানবাহন কোনটা?

পল্টু : কেন স্যার, সাবমেরিন। খালি পানিতে ডুইব্বা থাকে।

নূর সিদ্দিকী

 

সাপোর্টার

বউ সাপোর্টার ব্রাজিল দলের

আমি আর্জেন্টিনা,

তাই পেয়েছি হলুদ কার্ড আর

বন্ধ খানাপিনা।

জার্সি আমার ধুবে না তো

আর্জেন্টিনা বলে,

কপাল খারাপ বুয়াও দেখি

হলদে ব্রাজিল দলে।

দুঃখের কথা বলতে গেলাম

বন্ধু বলল কুল,

আর্জেন্টিনার দল করি তাই

সে-ও ফুটায় হুল।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

 

বাকস্বাধীনতা

দেশে যে বাকস্বাধীনতা পুরোপুরি বিদ্যমান, তার বড় প্রমাণ—মানুষ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল নিয়ে যা খুশি বলতে পারছে।

পলাশ মাহবুব

 

বড় চুল

: বেশির ভাগ গিটারিস্টের চুল বড় হয় কেন?

: গিটারের স্ট্রিং ছিঁড়ে গেলে যাতে চুল দিয়ে কাজ চালাতে পারে।

খায়রুল আলম

 

ভাষা

আমি অনেকগুলা ভাষা শিখেছিলাম। কিন্তু মেয়েরা এখন কথা বলে স্টিকারে।

তানভীর মাহমুদুল হাসান

দুটি স্ট্যাটাস

ষ ঈদের বাজারে নতুন পায়জামা এসেছে। পকেট ছাড়া পায়জামা। আমি বললাম, ‘গতবার হাঁটুর কাছে, ঊরুর কাছে—সব মিলিয়ে তো পায়জামার ছয়টা পকেট ছিল, এবার নেই কেন?’

স্যার, তখন সোয়াত-এর ট্রেন্ড চলছিল, তাই এতগুলান পকেট ছিল।

আর এখন?

পুলিশ যেন ইয়াবা ঢুকায়ে না দিতে পারে পকেটে, সেই কারণে এই ঈদে পকেট ছাড়া পায়জামা।

আয়, বুকে আয়! আজ কাঁদিয়েই ছাড়বি নাকি রে পাগল।

 রাস্তায় পানি জমে থাকা অবস্থায় যদি সামনে কাউকে দেখেন, ক্যামেরা চোখে দিয়ে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে—তার মানে সামনে শিওর গর্ত আছে। আপনি তখন সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজ হয়ে যাবেন।

শুক্রবার হাতিরপুলের মোড়ে এ রকম এক বর্বরের সন্ধান পেলাম। আমি ফুটপাত দিয়ে প্যান্ট উঠিয়ে আস্তে আস্তে পা ফেলে হাঁটছি। সামনে দেখি, এ রকম একজন রিকশার ওপর ক্যামেরা তাক করে বসে আছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা থামিয়ে তার দিকে হাত নাড়ালাম। সে আমাকে হাত নাড়িয়ে বলে, ‘আগান আগান।’

আমি হাত নেড়ে বললাম, ‘আপনে আগান, আমাকে নিয়ে যান’।

সে ক্যামেরা থেকে চোখ সরিয়ে আমাকে দেখে নিল একবার। আমি আশপাশের সবাইকে বললাম, ‘কেউ এক পা-ও আগাবেন না। উনি ফাঁদ পেতে বসে আছে আপনার পড়ে যাওয়ার ছবি তুলবে বলে।’

ভিড়ের মাঝ থেকে জিলাপির প্যাকেট হাতে একজন বলে উঠল, ‘হমুন্ধির পুতেরে ধরে চুবানো ফরজে কেফায়া। ব্রাদার আপনে আমার জিলাপির প্যাকেটটা ধরেন, আমি দৌড়ে গিয়ে তারে কলার ধরে নিয়ে আসি।’

আমি কোনোরূপ উসকানি না দিয়ে শুধু বিড়বিড় করে বললাম, ‘রোজার মাসে ফরজে কেফায়া আদায়ে ৭০ গুণ বেশি সওয়াব।’

আমি তার জিলাপির প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। হাতিরপুলের মোড়ে এত অপূর্ব দৃশ্য আমি আগে দেখিনি। ক্যামেরাওয়ালা রিকশা থেকে নেমে দুই পা এলোপাতাড়ি ফেলে ভাগছে। তার পিছে এক সাফারি পরা লোক ইফতারে জিলাপি খাওয়া থেকেও ফরজ কাজ একে ধরে পানিতে চুবানো মনে করে দৌড় থামাচ্ছে না। দেখি আজ কে জিতে।

সিটিজেনস জার্নালিজম, নাকি সিটিজেন।

আরিফ আর হোসাইন

 



মন্তব্য