kalerkantho

সান্ত্বনা

বিশ্বকাপে আপনার দল হারলে কিংবা প্রতিপক্ষ দল জিতে গেলে এই সান্ত্বনার বাণীগুলো মাথায় রেখে স্বস্তি পেতে পারেন। লিখেছেন মুহসিন ইরম

১২ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সান্ত্বনা

ক. প্রিয় দল হারলে

♦ একটা হার দলের জন্য প্রয়োজন আছে। এতে দলের দুর্বলতাগুলো নিয়ে কাজ করা যায়। ভুল শুধরে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমে শক্তিমত্তায় অদ্বিতীয় হওয়া যায়।

♦ রেফারিং বাজে হইছে। বাজে রেফারিংয়ের কারণে খেলোয়াড়দের মন ভেঙে গিয়েছিল। এই হার বাজে রেফারিংয়ের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ।

♦ দলের সেরা স্ট্রাইকার তেমন মনোযোগ দিয়ে খেলেনি। সে ব্যতিক্রমী মানসিকতার লোক। দেয়ালে পিঠ ঠেকার পর তথা জিততেই হবে—এমন সিচুয়েশন এলে হ্যাট্রিক করে সে দলকে নির্ঘাত আলোচনার টেবিলে চলে আসবে।

♦ সব ম্যাচ জিতলে দলের আসল সমর্থক চেনা যায় না। দু-একটি ম্যাচ হারার প্রয়োজন আছে। এতে করে প্রকৃত সমর্থক চেনা যায়। হারলেও পানামা, জিতলেও পানামা।

♦ হারছে তো কী হয়েছে? অন্যদের সাপোর্ট করা দল তো ছয়-সাতটি গোল খেয়ে হারে। আমার দল খাইছে মাত্র চারটি। তা-ও বেশি অবদান তো আমাদেরই—গোলকিপার গ্যালারিতে সমর্থক গুনতে গুনতে কখন বল ডি-বক্সে চলে এসেছে খেয়ালই করেনি।

 

খ. প্রতিপক্ষ দল কারো সঙ্গে জিতলে

♦ ঝড়ে বক মরে—এই ম্যাচটাও সেভাবেই জিতেছে। কারো কোনো ক্রেডিট নেই। সব ক্রেডিট ঝড়ের।

♦ আম্পায়ারকে টাকা খাওয়ালে ম্যাচ জেতাই যায়। যে দুটি গোল করে জিতেছে, সে দুটিই তো অফসাইড ছিল। অনসাইড থেকে বল রিসিভ করলেও বল নিয়ে তো অফসাইডেই যাওয়া লাগছে, তাই না?

♦ আজ জিতেছে তো কী হইছে, পরের ম্যাচে হারবে। পরের ম্যাচ জিতবে তো কী হইছে, কোয়ার্টারে হারবে। কোয়ার্টারে জিতবে তো কী হইছে, সেমিতে হারবে। সেমিতে জিতবে তো কী হইছে, ফাইনালে হারবে। কাপ নিয়ে নেবে তো কী হইছে, পরের বিশ্বকাপে হারবে।

♦ ম্যাচ তো সবাই জেতে, নান্দনিক ফুটবল খেলতে পারে কয়টা দল? ওদের দল জিতলেও পুরো খেলায় অগোছালো আচরণ ছিল। পাসিং ছিল দৃষ্টিকটু আর ভুলভাল। কপালের জোরে জিতেছে। কপালের ওপর তো কারো হাত নেই।

♦ ওদের দল জেতারও প্রয়োজন আছে। বিতর্ক আর আলোচনার টেবিল চাঙা রাখতেই এটা প্রয়োজন। হেরে গেলে তো গেলই। জিতে সেমিতে আমাদের দলের সঙ্গে খেলতে আসুক। শোচনীয় পরাজয় মেনে দেশে ফিরতে হবে।



মন্তব্য