kalerkantho


আশার অন্ত নেই

আদিত্য রহিম

১৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



আশার অন্ত নেই

রাত ১১টা। মফিজ তার দোকান বন্ধ করে বাড়ির দিকে যাওয়ার কথা চিন্তা করছিল। ঠিক এমন সময় একটি কুকুর তার দোকানে এলো। কুকুরের মুখে বাজারের ব্যাগ। মফিজ ব্যাগটি নিয়ে দেখল, তার মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিসের লিস্ট আর টাকা আছে।

মফিজ টাকা নিয়ে জিনিসপত্র ব্যাগে ভরে দিল। কুকুর ব্যাগ মুখে উঠিয়ে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিল। মফিজ এমন চালাক কুকুর আগে কখনো দেখেনি। সে দোকানের শাটার বন্ধ করে কুকুরের পিছু নিল এটা দেখার জন্য যে এত সমঝদার কুকুরের মালিক কে।

কুকুর বাসস্টপে এসে দাঁড়াল। একটা বাস এলো আর কুকুর তাতে চড়ে বসল। কন্ডাক্টর কাছে আসতেই কুকুর ঘাড় বাড়িয়ে দিল। তার গলার বেল্টে টাকা আর ঠিকানা লেখা ছিল। কন্ডাক্টর টাকা নিয়ে টিকিট কুকুরের গলার বেল্টে রেখে দিল। নিজের স্টপেজ আসতেই কুকুর দরজার সামনে এগিয়ে গেল আর লেজ নাড়িয়ে কন্ডাক্টরকে ইশারা দিল। বাস থামতেই কুকুরটি নেমে চলতে আরম্ভ করল। দোকানদার মফিজও পেছন পেছন চলতে লাগল। একটা বাড়ির সামনে এসে কুকুর নিজের পা দিয়ে দরজায় দু-তিনবার নক করল। ভেতর থেকে তার মালিক এসে দরজা খুলেই কুকুরকে বকাঝকা শুরু করল। একসময় হাতের লাঠি দিয়ে কুকুরের পিঠে কয়েক ঘা বসিয়ে দিল।

দোকানদার মফিজ আশ্চর্যান্বিত হয়ে মালিককে এর কারণ জিজ্ঞেস করল। মালিক বলল, ‘বেয়াদব কুকুরটা আমার কাঁচা ঘুম ভেঙে দিল। যাওয়ার সময় চাবি নিয়ে গেল না কেন গাধাটা?’

 

সারমর্ম : মানুষের আশার কোনো অন্ত নেই। সামান্যতম ভুল হলেই মানুষ আপনার দোষ বের করবে আর আগের সব ভালো কাজগুলো ভুলে যাবে। তাই নিজের কর্ম করে চলুন, মানুষকে কখনো সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করবেন না।



মন্তব্য