kalerkantho

একজন অভিজ্ঞ চোরের সাক্ষাৎকার

রাজিব দেবনাথ

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একজন অভিজ্ঞ চোরের সাক্ষাৎকার

ঘোড়ার ডিম : কেমন আছেন আপনি?

চোর : খুব বেশি ভালো না, ভাইজান। আপনি?

ঘোড়ার ডিম : জি, ভালো। তা আপনি ভালো নেই কী জন্য?

চোর : বাজার খারাপ। ব্যবসাপাতি মন্দা যাইতাছে।

ঘোড়ার ডিম : জানা মতে, আপনি তো এই রাস্তায় একজন অভিজ্ঞ লোক। অনেক দিন ধরে আছেন এই পেশায়। আপনার ব্যবসা মন্দা যাওয়ার কারণ কী?

চোর : আর কী বলমু ভাইজান, বুঝেনই তো! দিন যত যাইতাছে, মানুষজন এই পেশায় বেশি ঝুঁকতাছে। আর মানুষ যত বাড়ব, প্রতিযোগিতা তত বাড়ব—এইটাই তো স্বাভাবিক! আর অভিজ্ঞতার কথা বললেন না, ওইটার জোরেই এহনো টিক্কা আছি। চাইরটা ডাইল-ভাত খাইতে পারতাছি।

ঘোড়ার ডিম : ব্যাপারটা যদি একটু খোলাসা করতেন।

চোর : মনে করেন, আমগো বাপ-দাদার পেশা তো, বাজারে কোনো চেঞ্জ আসলে আমরা কিন্তু সহজেই তা বুইঝা যাই। এই যেমন বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির সময়ে কাজে নামার আগে কী কী ব্যাপরে ট্রেনিং থাকা দরকার, ওইটা কিন্তু আমরা ঠিকই জানি। কিন্তু যারা এই পেশায় নয়া, তারা কিন্তু ব্যাপারগুলা সহজে ধরবার পারে না।

ঘোড়ার ডিম : খুবই জটিল কথা বললেন। আপনি কত দিন ধরে এই পেশায় আছেন?

চোর : এই ধরেন ৪০ বছর।

ঘোড়ার ডিম : আপনার বয়স কত?

চোর : এই তো, উনচল্লিশ পার কইরা চল্লিশে পা রাখলাম।

ঘোড়ার ডিম : তাহলে আপনি যে বললেন, এই পেশায় ৪০ বছর ধরে আছেন।

চোর : আরে ভাইজান! আমারে পেটে নিয়াই আমার আম্মা পাশের বাড়ির এক ভাবির শাড়ি চুরি করছিল; এইবার হিসাব করেন।

ঘোড়ার ডিম : বাহ্, চমৎকার! তা কোনো স্বপ্নটপ্ন দেখেন?

চোর : ভাইজান যে কী জন্য বারবার লজ্জা দেন, তা বুঝি না! রাতের বেলা ঘুমাই নাকি যে স্বপ্ন দেখুম!

ঘোড়ার ডিম : আরে ভাই, স্বপ্ন বলতে বলছি ভবিষ্যতে কিছু করার কথা ভাবেন কি না!

চোর : তা তো অবশ্যই ভাবি।

ঘোড়ার ডিম : কী সেটা?

চোর : একবার আমেরিকা যাইতে চাই।

ঘোড়ার ডিম : বিদেশে! যাক, ভালো হওয়ার চিন্তাভাবনা আছে তাহলে। তা কী করবেন আমেরিকা গিয়ে?

চোর : আমার বড় পুলাডা ওই দিন কইল, সে নাকি ফেসবুকে দেখছে যে ওই দেশে বিল গেটস নামে এক বিরাট ধনী লোক আছে। তাঁর বাসায় একবার চুরি করবার চাই। আর ঔইখানে একবার চুরি করতে পারলেই তো ঠ্যাঙের ওপরে ঠ্যাং তুইলা সারা জীবন কাটায় দিবার পারমু, বুঝলেন।

ঘোড়ার ডিম : বাহ...আপনার চিন্তাভাবনায় আমরা মুগ্ধ। ভাই সাহেব, আপনাকে একটা পরামর্শ দিই?

চোর : অবশ্যই, ভাইজান। আপনারা জ্ঞানী-গুণী মানুষ, কোনো বুদ্ধি-পরামর্শ দিলে ওইডা তো আমগো সৌভাগ্য।

ঘোড়ার ডিম : এই পেশাটা ছেড়ে দিয়ে ভালো হয়ে যান, সত্ভাবে বাঁচুন।

চোর : ধন্যবাদ, ভাইজান। ভাইজান, আপনারে একটা কথা কই?

ঘোড়ার ডিম : হুম, অবশ্যই।

চোর : সব সময় নিজের পকেটের দিকে খেয়াল রাখবেন। সামান্য বেখেয়াল হইলেই কিন্তু...

ঘোড়ার ডিম : এই...আমার! আমার মানিব্যাগ কই? আমার মোবাইল ফোন! মোবাইল ফোন কই গেল?

মন্তব্য