kalerkantho


এক দিনের জন্য

ফখরুল ইসলাম

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



এক দিনের জন্য

রিয়াজ সাহেব পুরনো সিন্দুকটা খুলে একটা চেরাগ পেলেন। ঘষা দিতেই চেরাগ থেকে দৈত্য বের হলো। মু হা হা করে হেসে উঠে দৈত্য বলল, ‘আমি তোর একটা ইচ্ছা পূরণ করব। বল কী চাস?’

রিয়াজ সাহেব খুশি হয়ে বললেন, ‘আমি সারা দিন অফিসে খেটে মরি আর আমার বউ বাসায় বসে মজা করে টিভি দেখে। অফিস থেকে ফিরলেই দেখি সে টিভি চালিয়ে বসে আছে। এটা তো সহ্য করা যায় না। তুমি এক কাজ করো। মাত্র এক দিনের জন্য আমাকে মহিলা আর ওকে পুরুষ বানিয়ে দাও। তাতে ও বুঝতে পারবে আমি সারা দিন অফিসে কতটা কষ্ট করি। এর ফলে আমিও একটা দিন বাড়িতে বিশ্রাম করতে পারব।’

দৈত্য বলল, ‘তবে তাই হোক।’ কথা শেষ করেই সে চেরাগের মধ্যে ঢুকে পড়ল।

পরদিন সকালে এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটল। রিয়াজ সাহেব ঘুম থেকে উঠে খেয়াল করে দেখলেন তিনি আর পুরুষ নেই, মহিলা হয়ে গেছেন। ওদিকে পাশে তাঁর স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। সেদিকে তাকিয়ে দেখেন, তিনিও মহিলা নেই, পুরুষ হয়ে গেছেন। রিয়াজ সাহেব খুব খুশি হলেন। তাঁর বুঝতে বাকি রইল না যে, দৈত্য তাঁর মনের আশা পূরণ করেছে।

অগত্যা সদ্য মহিলা বনে যাওয়া রিয়াজ—সরি! মিসেস রিয়াজ বিছানা থেকে উঠে স্বামীর (!) জন্য নাশতা তৈরি করলেন। ছেলে-মেয়েদের ঘুম থেকে উঠালেন। তাদের ধরে ধরে নাশতা করালেন। স্কুলের ড্রেস পরিয়ে দিলেন। ব্যাগ গুছিয়ে দিলেন।  টিফিনগুলো বক্সে ভরে যার যার ব্যাগে দিলেন। তারপর তাদের স্কুলে দিয়ে এলেন। বাড়ি ফিরে নোংরা কাপড়গুলো ওয়াশিং মেশিনে দিয়ে খেয়াল করলেন, ডিটারজেন্ট নেই। অগত্যা বাইরে গিয়ে দিনের বাজারটা সেরে ফেললেন। বাড়ি ফিরে কাপড়গুলো আবার ওয়াশিং মেশিনে দিয়ে দুপুরের রান্নার প্রস্তুতি নিতে লাগলেন। এটা-সেটা কাটাকুটি শেষে সব কিছু চুলায় বসিয়ে খেয়াল করলেন, আজ ইলেকট্রিক বিল দেওয়ার লাস্ট ডেট। বিল না দিলে কাল লাইন কেটে দিবে। বাধ্য হয়ে ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টা পর বিল দিলেন। ততক্ষণে বাচ্চাদের স্কুল ছুটির সময় হয়ে গিয়েছিল। তিনি বাচ্চাদের স্কুল থেকে নিয়ে এলেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, তখনো রান্না হয়নি। তাই বাইরে গিয়ে খাবার কিনে বাচ্চাদের দুপুরের খাবার খাওয়ালেন। এদিকে ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর একটা।

ওয়াশিং মেশিনে কাপড় ধোয়া শেষে শুকাতে দিলেন। এরপর বসলেন আয়রন করতে। আয়রন শেষে সারা ঘর ঝাড়ু দিয়ে আবার মুছলেন। এসব করতে করতে হাঁপিয়ে উঠলেন মিসেস রিয়াজ। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই তাঁর। কারণ এখনো যে অনেক কাজ বাকি। বাড়ির পোষা কুকুরটাকে খাইয়ে বাচ্চাদের নিয়ে বসলেন তাদের হোম ওয়ার্ক করে দেওয়ার জন্য। তাদের সঙ্গে চেঁচাতে চেঁচাতে গলাই বসে গেল। বাসায় তখনো রাতের খাবার তৈরি হয়নি। তাই দেরি না করে রান্না ঘরের দিকে মনোযোগ দিলেন। ভাত, সঙ্গে তিন পদের তরকারি রান্না করতে গিয়ে সন্ধ্যা ৭টা বেজে গেল। সারা দিনের পরিশ্রমে কোমরটা ধরে এসেছিল বলে সোফায় বসে টিভিটা খুলে সন্ধ্যার খবর দেখছিলেন আর ঠিক তখনই স্বামী মহোদয় অফিস থেকে ফিরলেন।

এদিকে তখনও অনেক কাজ বাকি। রান্নাঘর এলোমেলো পড়ে ছিল, সেটি গোছালেন। রাতের খাবারের পর এঁটো বাসনপত্র পরিষ্কার করলেন। সারা দিনের ময়লা আবর্জনা সিটি করপোরেশনের গাড়িতে ফেলে এলেন। সব শেষে মশারি টানিয়ে বিছানায় গেলেন।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রিয়াজ সাহেব আকাশ থেকে পড়লেন। খেয়াল করে দেখলেন, তিনি এখনো মহিলাই রয়ে গেছেন, পুরুষ হননি। তিনি আবার চেরাগ ঘষে দৈত্যকে বের করে বললেন, ‘হে দৈত্য, আমি এক দিনের জন্য মহিলা হতে চেয়েছিলাম; কিন্তু এক দিন পার হওয়ার পরও দেখছি আমি পুরুষ হইনি। তুমি জলদি আমাকে পুরুষ বানিয়ে দাও। আমার পক্ষে এত পরিশ্রম করা সম্ভব না।’

দৈত্য হেসে বলল, ‘ইয়ে রিয়াজ! আমি তোকে এক দিনের জন্যই মহিলা বানিয়েছিলাম। কিন্তু কী করব বল, তুই যে মা হতে চলেছিস। তাই পুরুষ হওয়ার জন্য তোকে অন্তত ৯ মাস অপেক্ষা করতেই হবে।’


মন্তব্য