kalerkantho


ফেইসবুক অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ফেইসবুক অফলাইন

রিকশায়

রিকশাওয়ালা : আপা, বাঁয়ে যামু?

আমি : যান, মনে হয় এই গলিটাই!

কিছুদূর যাওয়ার পর...

আমি : ভাই এই গলিটাই তো?

রিকশাওয়ালা : আপা, আমি ক্যামনে বলুম!

লোকজনকে জিজ্ঞেস করে অবশেষে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর...

রিকশাওয়ালা : আপা, বাসা এইটাই তো?

আমি : হ্যাঁ হ্যাঁ! এইটা শিউর! আমার বাসা আমি চিনব না!

অবাক হইতে ভুলে গেছেন মাননীয় রিকশাচালক। বছরে একবার শ্বশুরবাড়ি এলে যা হয় আর কি।

(ঘটনা ও চরিত্র কাল্পনিক)

►রাবেয়া আক্তার মেঘলা

 

রিমোটের ব্যাটারি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় এই মুহূর্তে বাংলা চ্যানেল

পাড়ি দিতে পারতেছি না!

►রোহিত হাসান কিসলু

 

একই শোনায়

প্রশ্ন ফাঁস রোধে ফেসবুক বন্ধ রাখতে চাওয়া আর ডায়রিয়া রোধে টয়লেটে তালা মেরে রাখা একই শোনায়!

►সুমন আহমেদ

 

গুণীর কদর

বিখ্যাত কেউ যখন নিজের দেশের হয়—উনি তো ভাই আমাদের দেশের গর্ব।

বিখ্যাত কেউ যখন নিজের জেলার হয়—উনি হচ্ছেন ভাই আমাদের জেলার অহংকার।

বিখ্যাত কেউ যখন নিজের থানার হয়—উনি তো ভাই আমাদের উপজেলার রত্ন।

বিখ্যাত কেউ যখন নিজের গ্রামের হয়—উনি হলেন ভাই আমাদের এলাকার প্রতিভা।

বিখ্যাত কেউ যখন নিজের প্রতিবেশী হয়—দূর, ওর মাথায় তো কিচ্ছু নাই, আজাইরা কী সব উল্টাপাল্টা জিনিস বানাইয়া আজ বিখ্যাত হইছে।

গুণীর কদর আসলেই ভিনদেশে।

►শাহাজাদা শাহেদ

 

পার্থক্য

যখন বিএনপি ক্ষমতায়—আমরা শক্তি, আমরা বল, আমরা ছাত্রদল।

যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়—আমরা শক্তি, আমরা বিগ, আমরা ছাত্রলীগ!

►শরিফ মজুমদার

 

কঠিন কাজ

দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো, ‘পেটে চাপ নিয়ে টয়লেটের সামনে দাঁড়িয়ে থেকে দরজায় নক করতে করতে বলা—‘ভাই, তাড়াতাড়ি বের হন না একটু!’

►আন্ নাসের নাবিল

পিকনিক

পিকনিকে ২৩ তারিখ টাকা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ থাকলেও আমি দিতে পারিনি। তবে যথারীতি পিকনিকের দিন হাজির হলাম। এর আগে প্রতি পাতা তিন টাকা করে ১৫ পাতা হজমি কিনে ফেললাম। সবাই আমাকে দেখে অবাক, টাকা না দিয়েও দেখি হাজির! বাসে উঠে বলা শুরু করলাম, ‘লইতা নি হজমি? হজমি লইতা নি? লইতা নি টেস্টি হজমি?’

কিন্তু বিধি বাম। একজন এসে জিজ্ঞেস করে বসল, ‘এই, তুই টাকা না দিয়ে পিকনিকে যাচ্ছিস কেন?’

বললাম, ‘আমি কই পিকনিকে যাচ্ছি? তোরা পিকনিকে যাবি আর আমি বাসের মধ্যে হজমি বেচব। ট্রেনে যেমন চানাচুরওয়ালা চানাচুর বিক্রি করে তেমন।’

উত্তর শুনে কোনো বীরপুরুষই আর প্রশ্ন করার সাহস পেল না। বসার জায়গারও অভাব হলো না, কারণ সবাই বাসে নাচানাচিতে ব্যস্ত ছিল। টাকা না দিয়ে পিকনিকেও গেলাম আর হজমি বেচে নগদ লাভও হলো ১৫ টাকা।

সারমর্ম : চারপাশের নানা মানুষ নানা কথা বলবে, এসব কথায় কান না দিয়ে নিজের মতো চলবেন। কারণ আপনি আপনার স্বপ্নের চেয়েও বড়।

►রাহমাম চৌধুরী

ইনকাম

আমাদের ইনকাম সোর্স ছিল বাজার করা। বাজারের টাকা থেকে দু-চার টাকা মেরে দেওয়া। সবজিটবজির দাম দু-তিন টাকা কমলে সেই খুশি দেখে কে! মাঝেমধ্যে টাকার অভাবে দুই টাকার কাঁচা মরিচ নিয়াও দামাদামি করতাম।

একবার কম দামে কেনার জন্য দোকানে গিয়া সবচেয়ে সস্তা কোয়ালিটির পোকাওয়ালা বেগুন কিনলাম। বাসায় যাওয়ার পর আম্মা সেই বেগুন একটা করে কাটে আর আমার আত্মা ধকধক করে। পরে দেখা গেল, বেগুন একটাও খাওয়ার মতো না। এর পর থেকে আমার বাজার করার অধিকার কেড়ে নেওয়া হলো। সেদিন প্রথম মনে হলো, আমি এখন পুরোপুরি বেকার।

আমার এক ফ্রেন্ড সব সাবজেক্ট দুই স্যারের কাছে পড়ত। আদতে যাইত দু-তিনজন স্যারের কাছে। বাসা থেকে ধুমাইয়া টাকা মারত।

টাকার টানাটানি হলে ইংলিশে, ম্যাথে নতুন নতুন সমস্যা দেখা দিত। বাসায় বলতে হইত, সেগুলো আরো বেশি বেশি পড়তে হবে। টাকা আর টাকা।

ভার্সিটি অ্যাডমিশনে আবার গাইডের বিশাল ব্যবসা ছিল। আমার এক ফ্রেন্ড গাইড ভাড়া দিত। সবাই সেই গাইড এক দিন করে ভাড়া নিয়ে বাসায় দেখাইয়া ৫০০ করে টাকা নিত।

একবার আমরা ১০ জনে মিলে ভর্তি গাইড কিনলাম। ৫০ টাকা ইনভেস্টে ৪৫০ টাকা লাভ। ছোট ভাই-বোনদের লেখাপড়া দেখলে এখন সেসব মনে পড়ে।

সেদিন ছোট বোন প্রাইভেট থেকে রসায়নশিট নিয়া আসছে। আম্মারে বলতেছে, ২০০ টাকা লাগবে।

আমি বললাম, এইটা সিস্টেম না রে বইন, পুরা ক্লাস মিলা একটা শিট কিনবি। তারপর সেইটা সবাই এক দিন-এক দিন করে বাসায় দেখাইয়া ২০০ করে টাকা নিবি।

►তানভীর মেহেদী

পাত্রীর ছবি

ভাইয়ার বিয়ের পাত্রী পছন্দের জন্য আপু ওকে তিনটা ছবি দিছিল। ভাইয়া তিনটা ছবিই গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখল। আমি উঁকিঝুঁকি দিলাম।

১৫ মিনিট ছবি দেখার পর ভাইয়ার মন্তব্য—

প্রথম ছবির মেয়েটা সুন্দর—কিন্তু নাকটা একটু বোঁচা।

দ্বিতীয় ছবির মেয়েটা ঝগড়াটে—চুল ভালো না।

তৃতীয় ছবির মেয়েটা বোকা বোকা—সংসারটংসার বুঝবে না।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোনটা দেখতে যাব?

ভাইয়া বলল, প্রথম মেয়েটা।

সে সুন্দর আছে, নাক বোঁচা কোনো ব্যাপার না।

আমি ভাইয়ার মতের সঙ্গে বিরোধিতা করলাম। বললাম, তৃতীয় ছবির মেয়েটা ভালো হবে। বোকাসোকা মেয়ে তোর সঙ্গে ভালো মানাবে। তুই বেশি চালাক, তোর বউ হবে বেশি বোকা। একটা ব্যালান্স হবে।

ও আমার কথায় একমত হলো না। ওর যুক্তি—জীবনে চারটা না-পাঁচটা না, একটা বিয়ে করব—মেয়েকে মনের মতো হতে হবে। বোকা মেয়েকে শিখাইতে শিখাইতে জীবন শেষ করতে পারব না।

আমি পাল্টা যুক্তি দিলাম, কাজ হলো না। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে বললাম—ভাই, তুই বরং ওই ঝগড়াটে মেয়েটাকে বিয়ে কর। চুল মেশিন দিয়া ঠিক করে নিস।

ওর মনে হয় অপমানবোধ হলো। ইচ্ছামতো আমাকে বকা দেওয়া শুরু করল।

এমন সময় আপু এসে বলল, তিনটা ছবি একই মেয়ের!

►আপেল মাহমুদ

একটা কথা

—মায়াবী।

—জি, ভাইয়া।

—শোনো।

—জি, বলেন।

—কিছু মনে করবে না তো?

—এত আনইজি ফিল করার কী হইলো? কী এমন কথা, না বললে বুঝব কেমনে?

—তোমার ইচ্ছা না হলে কিন্তু না করবে; কিন্তু বলো, মনে কিছু করবে না।

—আচ্ছা, বলেন তো, মনে কিছু করব না।

—কিভাবে যে বলি?

—থাক, তাহলে বলতে হবে না।

—না, আমাকে বলতেই হবে।

—তো বলেন। আর কত দেরি করাবেন?

—তাহলে বলেই ফেলি, কী বলো?

—বলে আমারে উদ্ধার করেন। আপনার কথায় আমি রাজি, দোহাই লাগে, তবুও বলেন।

—শোনো তাহলে, খাবার পর বেশি করে পানি খাবে। না হলে পেটে এসিডিটি হয়ে যাবে। এটার অনেক জ্বালা-যন্ত্রণা।

►সাদিয়াল হুসাইন সৌহার্দ্য

ডাকাতি

আম্মা : তাড়াতাড়ি বাসায় আয়! সর্বনাশ হয়ে গেছে!

আমি : কী হইছে?

আম্মা : ডাকাতি!

আমি : কী বলো? কিভাবে!

আম্মা : সব নিয়ে গেছে! থানায় ফোন দে!

আমি : দিতেছি! সব?

আম্মা : তোর বাপরে বল এসপিরে ফোন দিতে!

আমি : অবশ্যই! ইয়ে, আমার ল্যাপটপ আছে?

আম্মা : তুই আমার কথা শুনছ না কেন্নন্নন্নন্নন্ন! র‌্যাব কই?

আমি : র‌্যাব এসপি পুলিশ—ফোন দিতে বলব আব্বাকে?

আম্মা : হ্যাঁ! সব শেষ!

আমি : এখনই আব্বাকে জানাইতেছি!

বাসায় এসে...

আম্মা : আমাগো সব শেষ রে পরাগ!

আমি : ইয়ে, আমরা এখন গরিব?

আম্মা : ফাইজলামি করিস না।

আমি : কী কী নিছে?

আম্মা : সবব্বব্বব্ব!

আমি : যেমন?

আম্মা : আমার দুইটা পাতিল আর একটা প্লেট! টিফিন বাক্স, পাতিলের ঢাকনা।

আমি : অহ!

আম্মা : তুই ব্যাপারটা মনে হয় হালকা করে নিলি?

আমি : হালকা-ভারী পরে, আগে আব্বারে ফোন দেই।

আম্মা : যাতে দুই প্লাটুন পুলিশ আসে? উইথ এসপি?

আমি : না, যাতে আব্বারে সারা রাইত জেলে না ঢোকায়। দুইটা ভাতের পাতিল ডাকাতির কেস ভয়াবহ। সবাই সাসপেক্ট এখানে। তোমার কী মনে হয়? আব্বা নিছে পাতিল? আব্বার সঙ্গে তোমার শত্রুতা কত বছরের?

আম্মা : আমি বেয়াদপ পেটে ধরছি...।

আমি : আমারে সন্দেহ হয়?

আম্মা : চুপ!

আমি : এসপি সাহেবরে ফোন দিব? ভাতের পাতিল নাই, তার গদি ধরে টান দিব?

আম্মা : (রাগে কথা বন্ধ)

আমি : এসপি সাহেবরে এলাকায় ঢুকে ফাঁকা গুলির আওয়াজ করতে বলে দেই।

পাতিল ডাকাত : গেম অব পাতিল!

পুনশ্চ : মা-খালাদের কাছে পাতিল আর খাবারের বাক্স কেন জানি অতি দামি। হীরা-জহরত থেকেও। প্রমাণিত।

►তানজির ইসলাম বৃত্ত



মন্তব্য