kalerkantho


মিথ্যাবাদী রাখাল বালক

(একবিংশ শতাব্দী ভার্সন)
কৌশিক শুভ্র

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মিথ্যাবাদী রাখাল বালক

এক রাখাল বালক মজা করার জন্য জঙ্গলের পাশের মাঠে বসে স্ট্যাটাস দিল, ‘বাঘ ইজ কামিং! হেল্প হেল্প! —ফিলিং ডর অ্যাট জঙ্গল।’

সেই সময় পার্শ্ববর্তী এলাকায় কাজ করছিল এক কৃষক। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেখে আক্রান্ত বালককে সাহায্য করার জন্য সেদিকে দৌড় দিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৃষক অবাক! বাঘ নেই। উল্টো রাখাল বালক তাকে দেখে অবজ্ঞার হাসি হাসছে। কৃষক যারপরনাই বিরক্ত হলো।

দুই দিন পরের কথা। রাখাল বালকের অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের স্ট্যাটাস দেখে কৃষক আবার দৌড়ে জঙ্গলে এলো। সেখানে পৌঁছে দেখে বাঘের কোনো খবর নেই, রাখাল বালক কৌতুকের হাসি হাসছে। এবার কৃষক সত্যিই রেগে গেল। সে স্ট্যাটাস দিল, ‘ইটস সেকেন্ড টাইম। আমারে বাঘের কথা কইয়া রাখাল বালক দৌড়াইছে! ফিলিং অ্যাংরি।’

সেই স্ট্যাটাসে হাজার হাজার লাইক পড়ল। অনেকে রিঅ্যাক্ট করল। পোস্টে লোকাল চেয়ারম্যান স্যাড রিঅ্যাক্ট দিয়ে কমেন্ট করল, ‘এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ গ্রামবাসী সমিতির গ্রুপ অ্যাডমিনও স্যাড রিঅ্যাক্ট দিয়ে কমেন্ট করল, ‘সবাই রাখাল বালকের আইডিতে রিপোর্ট দেন!’

কোপা সামসু নামের এক ফেক আইডি থেকে কমেন্ট এলো, ‘বেটারে দেইখা লমু।’

কৃষক প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করল। সে ভাবল, ফেইক আইডি খুলে রাখালকে ডিস্টার্ব করবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। কৃষক মিস তিতলি নামে ফেক আইডি খুলে রাখালকে মেসেজ দিল, ‘৩০০ টাকার এনার্জি বাল্ব মাত্র ১০০ টাকা। শিপিং চার্য আলাদা। কিনতে চাইলে এখনই অনলাইনে অর্ডার করুন, নয়তো ১৭ নম্বর গুহায় চলে আসুন।’

এত কমে এনার্জি লাইট পাওয়া যাচ্ছে দেখে রাখাল দারুণ খুশি। শিপিং চার্য বাঁচাতে অনলাইন অর্ডারের বদলে সে নিজেই গুহার দিকে রওনা হলো। সেখানে পৌঁছে দেখে, বাঘরা পার্টি করছে!

রাখাল অবাক! কোথায় এনার্জি, কোথায় বাল্ব!

এদিকে রাখালকে দেখে বাঘরা বেজায় খুশি। সকালের নাশতা নিজের পায়ে হেঁটে তাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। বড় বিপদে পড়ল রাখাল বালক। প্রাণ বাঁচাতে দিল দৌড়। দৌড়াতে দৌড়াতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিল— ‘পেছনে বাঘ! প্লিজ হেল্প! প্লিজ হেল্প! —ফিলিং প্যানিক অ্যাট সুন্দরবন!’

এবারের স্ট্যাটাস দেখে কেউ তাকে বিশ্বাস করল না! সবাই হা হা রিঅ্যাক্ট দিল। কেউ ফিজিক্যালি এগিয়ে গেল না। রাখাল দৌড়াতে দৌড়াতে কৃষকের বাসায় উপস্থিত হলো। এবার কৃষক তাকে রক্ষা করল। বলল, শিক্ষা হলো তো? আর কখনো ভুয়া স্ট্যাটাস দেবে?

রাখাল কান ধরে স্ট্যাটাস দিল, ‘ফিলিং স্যাড—সরি অল! সবাই আমারে ক্ষমা করে দিন, আজ থেকে আমি আর ভুয়া স্ট্যাটাস দিমু না! শুধু তা-ই না, ফেসবুকই বন্ধ কইরা দিমু! তবে সবার সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে দেখা হইব! বাই। —অ্যাট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে কৃষকের বাড়ি।


মন্তব্য