kalerkantho


শিক্ষা সফরের শিক্ষা

মো. হাসিবুর রশীদ

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শিক্ষা সফরের শিক্ষা

সবে ক্লাস টেন পার করেছে হিমেল। সামনে ম্যাট্রিক পরীক্ষা। ক্যাম্পাসের সবচেয়ে সিনিয়র ব্যাচ। একটা বলার মতো রেজাল্ট না করতে পারলে ইজ্জত পাংচার হয়ে যাবে। সেই ভয়ে স্থাবর-অস্থাবর সব ধরনের বাঁদরামি বাদ দিয়ে ধুমসে পড়াশোনা করছে সে। হঠাত্ একদিন বায়োলজি স্যার কোচিং ক্লাসে ঘোষণা করলেন, আগামী পরশু আমাদের শিক্ষা সফর। এই ঘোষণায় ক্যাম্পাসের কাপল জুটিগুলোর মধ্যে অদ্ভুত ধরনের চাঞ্চল্য দেখা গেল। তারা কে কী পরবে এবং কার পাশে কে বসবে, সেই পরিকল্পনা আঁটতে লাগল। হিমেল বহু কষ্ট করে, মাথার ঘাম টিস্যু দিয়ে মুছে নীরাকে রাজি করাল তার পাশে বসতে।

শিক্ষা সফরের দিন সেই পরিকল্পনা ব্রেক করে দিলেন কিম্ভূতকিমাকার বায়োলজি স্যার। তিনি রোল নম্বর অনুযায়ী সিট বরাদ্দ করলেন। রোল নম্বরের মারপ্যাঁচে হিমেল আর নীরা ছিটকে পড়ল বাসের দুই প্রান্তে। নীরাকে পাশে পেয়ে হিমেলের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী রাসেল হাজার ওয়াটের এমন একটা হাসি দিল, যেন এই মাত্র নতুন রাজ্য জয় করলেন মোগল সম্রাট আকবর।

ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঘুরতে লাগল গাড়ির চাকা আর সব কিছুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে লাগল নীরাকে ভজাতে রাসেলের চেষ্টা-তদ্বির। গন্তব্যের মাঝামাঝি একটা ফুড কোর্টে পেটের ডাকে সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা হলো। সেখানেও চলতে থাকল রাসেলের হিরোগিরি। বাপের পকেটের টাকায় কিনতে লাগল ঝালমুড়ি, চানাচুর আর বাদাম। নিজে না খেয়ে বেশির ভাগ নীরাকে খাওয়াতে লাগল। বিরতি শেষে বাসে উঠে ঝালমুড়ি আর বাদামের জারণ-বিজারণ বিক্রিয়াই হোক আর পোড়া ডিজেলের খিঁচ ধরা গন্ধেই হোক, নীরা ভক ভক করে বমি করে দিল রাসেলের গা ভরে। রাসেলের চেহারা তখন পুরাই বাংলা ‘ঙ’ আর অঙ্ক ‘৫’।



মন্তব্য