kalerkantho


অমল ও বইওয়ালা : ডিজিটাল ভার্সন

আদিত্য রহিম

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বইওয়ালা : বই...বই...ভালো বই!

অমল : বইওয়ালা, বইওয়ালা, ও বইওয়ালা!

বইওয়ালা : ডাকছ কেন? বই কিনবে?

অমল : কেন কিনব! আমি তো ই-বুক পড়ি।

বইওয়ালা : কেমন ছেলে তুমি। কিনবে না তো আমার বেলা বইয়ে দাও কেন?

অমল : আমি যদি তোমার জায়গায় থাকতুম তো অন্য ব্যবসা করতুম।

বইওয়ালা : অন্য ব্যবসা!

অমল : হ্যাঁ। তুমি যে কত হাঁক পেড়েও কিছু বিক্রি করতে পারছ না, তা দেখে আমার মন খারাপ লাগছে।

বইওয়ালা : (বইয়ের ব্যাগ নামিয়ে) বাবা, তুমি কি বিজনেস কনসালট্যান্ট?

অমল : আমি তো ফেসবুকের ওপর ডক্টরেট করছি, তাই আমি সারা দিন ল্যাপটপ খুলেই বসে থাকি।

বইওয়ালা : আহা, বাছা তোমার কী হয়েছে?

অমল : আমি বড় হয়েছি। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে শিখেছি। বইওয়ালা, তুমি কোথা থেকে আসছ?

বইওয়ালা : আমাদের গ্রাম থেকে আসছি।

অমল : তোমাদের গ্রাম? অনেক দূরে তোমাদের গ্রাম?

বইওয়ালা : আমাদের গ্রাম সেই পাঁচমুড়া পাহাড়ের তলায়। শামলী নদীর ধারে।

অমল : পাঁচমুড়া পাহাড়, শামলী নদী, কী জানি! হয়তো গুগল ম্যাপে তোমাদের গ্রাম দেখেছি। কবে সে আমার মনে পড়ে না।

বইওয়ালা : তুমি দেখেছ? পাহাড়তলায় কোনো দিন গিয়েছিলে নাকি?

অমল : না, কোনো দিন যাইনি। কিন্তু আমি ছবি দেখেছি। অনেক পুরনোকালের খুব বড় বড় গাছের তলায় তোমাদের গ্রাম, একটি লাল রঙের রাস্তার ধারে। না?

বইওয়ালা : ঠিক বলেছ, বাবা।

অমল : সেখানে পাহাড়ের গায়ে সব গরু চরে বেড়াচ্ছে।

বইওয়ালা : কী আশ্চর্য! ঠিক বলছ। আমাদের গ্রামে গরু চরে বৈকি, খুব চরে।

অমল : মেয়েরা সব নদী থেকে জল তুলে মাথায় কলসি করে নিয়ে যায়, তাদের লাল শাড়ি পরা।

বইওয়ালা : বা! বা! ঠিক কথা। আমাদের সব গয়লাপাড়ার মেয়েরা নদী থেকে জল তুলে তো নিয়ে যায়-ই। তবে কিনা তারা সবাই যে লাল শাড়ি পরে তা নয় কিন্তু বাবা, তুমি নিশ্চয়ই কোনো দিন সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলে!

অমল : সত্যি বলছি বইওয়ালা, আমি একদিনও যাইনি। ঘরে বসেই যদি সব জানা যায়, তাহলে কী দরকার তোমাদের গ্রামে গিয়ে?

বইওয়ালা : ঠিক কথা, বাবা। খুব সত্যি কথা!

অমল : আমি বরং তোমায় অনলাইন বই বেচতে শিখিয়ে দেব। ওই রকম ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ওই রকম দূরের রাস্তা দিয়ে আর তোমাকে ঘুরে বেড়াতে হবে না।

বইওয়ালা : মরে যাই! বই বেচতে যাব কেন বাবা। আমি আর তুমি মিলে বরং বিক্রিডটকমের মতো কিছু সাইট খুলব।

অমল : না, না। আমি কখনো অনলাইনে ব্যবসা করব না। আমি একটা বিজনেস কনসালটেন্সি ফার্ম খুলব। একে-ওকে শুধু উপদেশ দেব, প্রয়োজনে ট্রেনিংও দেব।

বইওয়ালা : হায় পোড়াকপাল! এ কেরিয়ারও কি কোনো কেরিয়ার হলো!

অমল : না, না। এ আমার অনেক দিনের স্বপ্ন। ওয়াই-ফাই খুব স্ট্রং হলে যেমন অনেক দূর থেকে নেট কানেক্ট করা যায়, তেমনি ওই রাস্তার মোড় থেকে ওই গাছের সারির মধ্য দিয়ে যখন তোমার ডাক আসছিল, আমার মনে হচ্ছিল, ফেসবুকে ডক্টরেট করা হয়ে গেলে আমাকে কনসালটেন্সি ফার্ম খুলতেই হবে!

বইওয়ালা : বাবা, এই এক ব্যাগ বই তুমি রাখো।

অমল : আমার তো বাজেট নেই।

বইওয়ালা : না না; বাজেটের কথা বলো না। আমার বইগুলো বিদেয় হলে আমি কত খুশি হবো।

অমল : তোমার কি অনেক দেরি হয়ে গেল?

বইওয়ালা : কিচ্ছু দেরি হয়নি, বাবা। আমার কোনো লোকসান হয়নি। বই বেচা যে কত ওয়েস্ট অব টাইম, সে তোমার কাছে শিখে নিলুম।


মন্তব্য