kalerkantho

যোগাযোগ

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



যোগাযোগ

আঁকা : মাসুম

মিজানের সঙ্গে মানিকের ঝগড়া করে পোষায় না। মানিক এক কথা বলে দুই মিনিট বসে থাকে মিজানের পাল্টা জবাব শোনার জন্য। একটা কথার পাল্টা জবাব শোনার জন্য যদি দুই মিনিট লাগে, পরের আক্রমণটা ও কিভাবে করবে? ততক্ষণে মোক্ষম কথাটাও ভুলে যায়, নয় রাগ পানি হতে শুরু করে। তা ছাড়া মিজানের রাগের মাত্রা ও সহজে বোঝে না, মনোযোগ দিয়ে বুঝতে হয়। মনোযোগ দিলে সব কাজ ভালো হয়, কিন্তু ঝগড়া পণ্ড হয়। এই যেমন, সেদিন মিজান বলল,

‘ৎ-ৎ-ত্র খ্যা-খ্যা-খ্যাতা পুড়ি!’ মানিক তখনো এমন কোনো কথা বলেনি যে এই শীতে ওর কাঁথা পুড়িয়ে গা গরম করতে হবে। তাই মানিক এককথা-দুইকথা বলে ওর গা গরম করে দিল। তার পর থেকে যথারীতি কথা বন্ধ।

মিজান আমার পিয়ন। লাঞ্চের একটু আগে আমার বাসায় চলে যায়। শাহানা হটপটে গরম ভাত, কাঁচা তেঁতুল বেটে পুদিনার ভর্তা, কাঁচাকলা দিয়ে শিং মাছের ঝোল, মসুর ডাল, বরইয়ের চাটনি—এসব অফিসে পাঠিয়ে দেয়। টিস্যু দিয়ে হটপটটা মুছে দিতে দিতে মিজানকে ফরমায়েশ দেয়, গানের কী কী সিডি নিয়ে যেতে হবে। পরদিন আবার লাঞ্চ আনতে গেলে মানিকের দোকান থেকে সিডি নিয়ে ওর ভাবিকে দিয়ে আসে। মানিককে বলা আছে।

কিন্তু আজ মিজান দুপুরে লাঞ্চ আনতে যাওয়ার সময় সোজা আমাকে বলল, ‘আ-আ-আপা সেকান্দ-অ-র আশ্চর্যর গানের ক্যাসেট নিয়া যাইতে কইছে—জ্-জ্-জরুলি।’ আমি ফোন সেটটা হাতে নিয়ে বললাম, ‘আমাকে বলছিস কেন? মানিককে বল।’ মানিককে ফোনে ধরে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘সেকান্দর আশ্চর্য নামে কোনো নতুন গায়ক এসেছে কি না। মানিক বলল, ‘ওরে পাঠায়য়া দেন। দিমুনে।’ বুঝলাম সিডি আনতে কয়েকটা দিন সময় লাগবে। ওদের সদ্ভাব পর্যন্ত শাহানার গান শোনা বন্ধ।

লাঞ্চে বসে কাঁচা তেঁতুল বাটা, পুদিনাপাতার ভর্তা মুখে দিয়েই মনে হলো—আহা বেচারি! বেকুব দুটি ঝগড়া করে ওর গান শোনায় বাগড়া দিয়েছে। কাউকে দিয়ে আনিয়ে নিতে পারলে ভালো হতো। অফিস শেষ করতে করতে মানিকের দোকানটা বন্ধ হয়ে যায়। হেড অফিস থেকে অডিট টিম আসছে। পাঁচটায় রশিদ অ্যান্ড কোংয়ের জগলুল রশিদদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট। আজ ডিলটা চূড়ান্ত হবে।

রাতে হেঁচকি দিতে দিতে ঘরে ফিরে দেখি, শাহানা গান শুনছে—‘এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন...’ মনে পড়ল, শাহানা কী যেন একটা সিডি আনতে বলেছিল—সেকান্দর আশ্চর্য, না কী নাম যেন। ওয়ার্ডরোবের ড্রয়ারটা টানতে টানতে বললাম, ‘তোমার গানের সিডি আনতে দু-একটা দিন সময় লাগতে পারে।’ ও বলল, ‘সিডি তো এসে গেছে।’

‘কে আনল?’

‘কেন! মিজান...ও-ই তো দিয়ে গেল।’ শাহানা সিডির কাভারটা আমার সামনে এগিয়ে ধরল। কাভারের ওপর মানিক দের ‘গীতাঞ্জলির’ লোগো। লোগোর পাশ দিয়ে গায়কের নামের ওপর চোখ গড়াল—শ্রীকান্ত আচার্য।

ওদের কথা ওরাই বোঝে—আমি বুঝতে গেলেই কথার বোঝা চাপে মাথায়।



মন্তব্য