kalerkantho

অফলাইন

অনলাইনে মজার মজার গল্প, বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুক, সাম্প্রতিক বিষয়-আশয় নিয়ে নিয়মিত স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন পাঠক-লেখকরা। সেগুলোই সংগ্রহ করলেন ইমন মণ্ডল

৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অফলাইন

পেঁয়াজের সেঞ্চুরি

জনগণ শুধু শুধু সরকারের বদনাম করে বেড়ায়। লোকে বলে, পেঁয়াজ নাকি সেঞ্চুরি মেরেছে! বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি নাকি ১০০ টাকা! অথচ বাজারে গিয়ে দেখলাম, কথাটা সত্য না।

পেঁয়াজের কেজি ১০০ নয়। আজকাল যে যুগ পড়েছে, সবাই তো দু-চারটা টাকা সঞ্চয় করতে চায়। পাঁচ টাকারও এখন অনেক দাম। সরকার যে পেঁয়াজ বাবদ পাঁচ টাকা হারে মানুষকে সঞ্চয়ের সুযোগ করে দিয়েছে, এই গীত কেউ গায় না

খালি খালি বদনাম বয়ে বেড়ায়—পেঁয়াজের কেজি ১০০, পেঁয়াজ সেঞ্চুরি মেরেছে। আরে ভাই, আমি নিজের চোখে দেখে এলাম, দেশি পেঁয়াজের কেজি এখন ৯৫ টাকা মাত্র।

পেঁয়াজের সেঞ্চুরি রটে যাওয়ায় বরং ভালোই হলো। এখন থেকে ৯৫ টাকায় পেঁয়াজ কিনে ১০০ টাকার মেজাজ নিয়ে খাব। পাঁচ টাকা লাভ! কী মজা!

-জয়নাল আবেদিন

গিরগিটি আত্মহত্যা করেছে। নোট লিখে গেছে—‘মানুষের মতো রং বদলাতে পারিনি বলে লজ্জিত।


-ইমরুল কায়েস মুন্না

মচমচে আমড়া
হকার : অ্যাই, আমড়া খান। মচমচে ভাজা আমড়া!

আমি : ওই মামা, আমড়া আবার মচমচে ভাজা হয় ক্যামনে?

হকার : ভুল হয়ে গেছে, মামা। এই দুদিন হলো আমড়া বেচতেছি। সব সময় পপকর্ন বেচি তো, তাই অভ্যাস হয়ে গেছে।

-রিয়াজ আহমেদ সজল

ফোনে ছবি
মানুষ জটলা বেঁধে এক ছেলেকে মারছে। সেখানে এক ছোট ভাইকে পেয়ে কারণ জানতে চাইলাম। সে বলল, এই ছেলে নাকি ফোন দিয়ে মেয়েদের ছবি তুলে তুলে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। বললাম, ফোন দিয়ে ছবি তুললে তো মেয়েরা খেপবেই। মেয়েদের ভালোবাসা পেতে হলে ডিএসএলআর দিয়ে তুলতে হয় রে পাগলা।

-শাকীর এহসানুল্লাহ

জিলাপি-শিঙাড়া
এক আমেরিকান আমাদের দেশে এসে জিলাপি খেয়ে যারপরনাই অবাক হলো। সে চিন্তা করে বের করতে পারল না যে জিলাপিতে রস ঢুকল ক্যামনে? যা হোক, সে এই আশ্চর্য জিনিস তার দেশে দেখানোর জন্য কয়েক পিস আমেরিকায় নিয়ে গেল। আমেরিকায় তার এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে জিলাপির এই আশ্চর্য গল্প করতেই বন্ধুটি তার ফ্রিজ থেকে একটা শিঙাড়া বের করে নিয়ে এসে বলল, আমার দাদা ৪০ বছর আগে বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়ে এই খাবারটা নিয়ে এসেছে। এটার নাম নাকি শিঙাড়া। দাদা এটার মধ্যে আলু কোন দিক দিয়ে ঢোকাল তা বের করতে পারেনি। দাদা মরে গেল। আমরা এটি ফ্রিজে রেখে দিয়েছি, হয়তো একদিন এর রহস্য ভেদ হবে, তা দেখার জন্য।

-তালহা মাহমুদ

গার্লফ্রেন্ড
গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন। কারণ সে আজ আছে, কাল নেই!

-ফজলুল হক সাকি

আবদার
ভাতিজার আবদার—ঘবীঃ নরত্ঃযফধু-তে ওকে ছয়তলা কেক এনে দেওয়া লাগবে।

জিগাইলাম—তা বাবা, কেক কি লিফটওয়ালা নিবা, না লিফট ছাড়া?

-স্বর্ণলতা

চাঁদ
যে ‘চাঁদ’ আপনাকে অপমানিত করে, সে ‘চাঁদ’ই আবার আপনাকে সম্মানিত করে। কিভাবে? অর্ধ‘চন্দ্র’ দিলে আপনি অপমানে মরে যান। কারণ, অর্ধ‘চন্দ্র’ মানে গলাধাক্কা। আবার ‘চন্দ্র’বিন্দু দিলে আপনি সম্মানে ভাসেন। যেমন—‘তার’ থেকে ‘তাঁর’, ‘যার’ থেকে ‘যাঁর’।

-ইকবাল খন্দকার

ঘুম আসে না
আজকে অফিসে আসার সময় রিকশায় উঠলাম। রিকশায়াওয়ালা মামা দেখি হাসানের গানের ফ্যান। মোবাইলে উচ্চৈঃস্বরে বাজছে হাসানের গান আর সঙ্গে গলা মিলাচ্ছেন উনি, ‘ঘুম আসে না, না রে না, ঘুম আসে না...। ’ মনে মনে কইলাম, বাঁচসি যে তার ঘুম আসতেছে না। রিকশা চালানোর সময় ঘুমাই পড়লে হাসপাতালেই অফিস করতে হতো আজকে।
-তুষার খান

ঠাণ্ডা
অনেক দিন আত্মগোপনে থাকার পর ঠাণ্ডার অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শীত প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা শুরু করেছে এবং অতর্কিতে সবার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে। এদের প্রথম টার্গেট ঠোঁটের দফারফা করা। তাই সবাইকে লিপজেলের ঢাল সঙ্গে নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার জন্য অনুরোধ করছি।

-হাসিবুর রশিদ

বালিশ
স্ত্রীর সঙ্গে একই বালিশে ঘুমানোর গল্প একদিন শুনলে মানুষ বিষয়টাকে প্রেম ভাববে। প্রতিদিন শুনলে ভাববে, বাসায় আর বালিশ নেই।

-ইশতিয়াক আহমেদ

একদিন
—আচ্ছা পলাশ সাহেব (পরশ), আপনি বেসিক্যালি কী করেন?

(কোকের মধ্যে কেক চুবিয়ে খেতে গিয়ে অল্প একটু পড়ে গেল)

—জি, কমেডি।

—কমিটি?

—না, কমেডি—লোক হাসাই।

—পলিটিশিয়ান? (চামচ দিয়ে কেকটা তুলতে গিয়ে দুই ফোঁটা প্যান্টের জিপারে। ওইটা মুছতে মুছতে...)

—না, ভদ্রলোক।

—পলিটিশিয়ানরা অভদ্র?

—না। কাজের কথায় আসেন, শো কোথায়?

—আপনার কোনো পরিচিত মেয়ের ব্যান্ড আছে? পারফর্ম করতে পারবে? মেয়ে সিঙ্গার? বাজেট কোনো ইস্যু না।

—হ্যাঁ, আছে। ম্যানেজ করে দেব, আমার পেমেন্টটা নিয়ে কথা বলুন, প্লিজ!

—বোঝেনই তো ভাই, বাজেট একদমই নেই। ভাইবেরাদার মানুষ, আসেন না বস! এবার তিন-চারে করেন না, এরপর শোর অভাব হবে না। ভালো মেয়ে আছে? একটু হালকা দু-একটা জোকস বললেই হবে, অডিয়েন্স মেয়েদের খায়। ভালো মেয়ে থাকলে নিয়ে আসেন। নাচতে পারে বা অভিনয় পারে? বাজেট কোনো ইস্যু না।

—কয়টা জোকস বলতে হবে?

—৩০ মিনিট হাসাবেন, পারবেন না? দেখি দু-একটা বলেন তো!

—সরি, প্রগ্রামের দিনই বলি?

—আরে বলেন। কী মিয়া আজাইরা। কোক খাবেন? আচ্ছা খান না, তাই না? ওকে, শুরু করেন।

(রবীন্দ্রনাথের দুই লাইন কবিতা বললাম)

—আচ্ছা, হাসি এলো না তো ভাই, এগুলাই বলবেন স্টেজে?

—পরিচিত কয়েকটি মেয়ে আছে, দারুণ হাসতে পারে! নিয়ে আসব ওই দিন হাসার জন্য, বিলিভ করেন ভাই!

বি. দ্র. : নিজের লাইফে ঘটে যাওয়া অনেকগুলো বড় ঘটনার ক্ষুদ্র সংকলন।

-মোহাম্মাদ পরশ

সোয়েটার কেনা
শীত কিন্তু পড়তে শুরু করেছে। মেয়ের জন্য সোয়েটার আনতে হবে।

—হুম।

: শুধু হুম বললে হবে না। একটু দেখেশুনে আনবা। ছোট মেয়ের সোয়েটার, একটু যেন ব্রাইট কালার হয়।

—হবে, ব্রাইট কালারই হবে। আর কিছু?

: সাইজটা যেন ঠিকমতো হয়।

—হবে। ঠিকমতোই হবে। আর কিছু?

: কালারটা যেন মেয়েকে ম্যাচ করে।

—কী করে বুঝব সেটি?

: কেনার সময় আমাকে দোকান থেকে ফোন করবা।

অতঃপর দোকান থেকে ফোন—

: হ্যালো...

—বলো।

: একটা পাইছি।

—কী পাইছ?

: সোয়েটার।

—কালার কেমন?

: হলুদের মধ্যে নীল।

—ভালো করে দেখো, হলুদ বেশি, না নীল বেশি?

: নীল বেশি।

—নীল বেশি হলে হলুদের মধ্যে নীল হয় কী করে!

: তাহলে কী হবে?

—নীলের মধ্যে হলুদ হবে।

: ওই হলো, একই কথা।

—মেয়েকে মানাবে?

: কী করে বুঝব?

—আশ্চর্য! বোঝা যায় না বুঝি। চোখ বন্ধ করো। ভাবো, সোয়েটারটা মেয়ের গায়ে। এবার দেখো মানাচ্ছে কি না। চোখ বন্ধ করেছ তো?

: করেছি।

—এবার বলো কেমন দেখাচ্ছে।

: সব অন্ধকার!

—সব অন্ধকার মানে! মেয়েকে দেখা যাচ্ছে না?

: কী করে যাবে! চোখ বন্ধ করলে তো সব অন্ধকার দেখি!

—আচ্ছা, ধরো ঘরে অন্ধকার। তুমি এবার মনে মনে লাইট জ্বালাবে। তারপর মেয়েকে দেখবে। লাইট জ্বালিয়েছ?

: হুম।

—এবার দেখা যাচ্ছে তো?

: না, এবারও অন্ধকার!

—লাইট জ্বালানোর পরও অন্ধকার?

: হুম, লাইট জ্বলছে না। মনে হয় বাল্ব ফিউজ হয়ে গেছে। অথবা লোডশেডিংও হতে পারে!

—ঠিক আছে, তোমার কিনতে হবে না। তুমি বাসায় আসো। আমিই বের হব।

-ইমন চৌধুরী

ঘটনার দেশি ভার্সন
গতকাল পত্রিকায় একটা নিউজ দেখলাম, ‘তিন দিন লাশ হিমাগারে শুয়ে থাকার পর জিন্দা হলো। ’ ঘটনাটা ঘটেছে রাশিয়ায়। এ ঘটনা বাংলাদেশে ঘটলে কী হতো?

—বাঙালি কুমিরকে ভয় পায় না, কিন্তু ভূতকে ভয় পায়। গ্রামবাসী এরে ভূত মনে করে পিটায়েই মেরে ফেলত।

—ডাক্তারের ভুল চিকিত্সায় মৃত রোগী তিন দিন পর বেঁচে উঠেছে দেখে ডাক্তাররাই উনাকে আবার শুয়ায়ে ফেলত; পাছে সে জীবিত হয়ে ডাক্তারের ভুল চিকিত্সায় তার প্রথম মৃত্যুর খবর ফাঁস করে দেয়।

—কিছু কিছু বাঙালি আবার বেশি কিপটে। হিমাগারে জেগে উঠলে যদি হিমাগারের বিল, খাটিয়া ইত্যাদির খরচাপাতি দিতে হয়, তার থেকে মটকা মেরে পড়ে থাকাই উত্তম। আত্মীয়-স্বজন সব বিল পরিশোধ করুক, পরে না হয় সময়-সুযোগমতো কবর খুঁড়ে বের হওয়া যাবে। মড়ার আবার তাড়া কিসের?—তিন দিন পার হয়ে গেছে, তার মানে কুলখানির আয়োজনও প্রায় সমাপ্ত হয়ে গিয়েছিল। আমরা বাঙালি যে শৌখিন জাতি, দেখা যাবে উঠে ধুমধাম করে নিজের কুলখানির আয়োজনে লেগে পড়েছেন ব্যক্তিটি। এ ছাড়া আর উপায়ও নেই অবশ্য, কারণ একবার ভাগ্যকুলে মিলাদের প্যাকেট অর্ডার দিলে, তা ক্যান্সেল করার উপায় নেই। মৃত ব্যক্তি জীবিত হয়ে নিজে ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে গিয়েও ক্যান্সেল করতে পারবে না। বড়ই কঠোর তাদের কম্পানি পলিসি—

—ফেসবুকের পেজগুলো যেভাবে দুর্ভিক্ষের মধ্যে আছে, এই চান্সে তারা কিছু টপিক পেয়ে যেতে পারে; ‘এই ঘটনাকে কুদরত মনে করলে লাইক দিন... বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করলে কমেন্ট, প্লিজ!’

—আমাদের কালচারে সাধারণত মৃত্যুর পরেই পাওনাদাররা ভিড় করে। আত্মীয়-স্বজন আগে পাওনা পরিশোধ করুক, তারপর না হয় ওয়ান ফাইন মর্নিং সালমাকে ‘কই আছ, ধরো’ বলে হাসি দিয়ে উঠে বসে পড়া যাবে।

—আমরা চান্স খোঁজা বাঙালি এই নিয়ামতকে কাজে লাগাতে পারতাম... নিজেকে ‘জিন্দা বাবা’ বা কবর থেকে লাথি দিয়ে বের হয়ে আসা ‘লাথি বাবা’ পরিচয় দিয়ে ঢাকা শহরে হাউকাউ লাগিয়ে দেওয়া যেত। মুরিদের লাইন লেগে যাবে, শিওর! এমন হাইপ ক্রিয়েট হবে যে দূরদূরান্ত থেকে লাথি বাবার লাথি খেতে মানুষের ঢল নামবে।

—পার্মানেন্টলি না উঠে, টেম্পোরারি মাঝেমধ্যে কবর খুঁড়ে উঠে বের হয়ে এসে অনেক ক্রিয়েটিভ কিছু করা যাবে; যেমন—শত্রুদের কাছে গিয়ে গম্ভীর মুখে বলা, ‘ব্রাদার, একটি টর্চলাইট আর রেডিও দেন তো, কবরে একা একা লাগে। ’ বা ফ্যামেলিতে কোনো পলিটিশিয়ান থাকলে তার বাসার জানালা দিয়ে উঁকি মেরে, ‘তোর পাপের কারণে আমি ‘ভাটাকতি’ (অতৃপ্ত) আত্মা হয়ে গেছি। এখন অন্তত লাইনে আয়, বাপ। ’

—দেশে যেভাবে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বাড়ছে, মৃত বাবা ফেরত এলেও হয়তো তার সন্তানরা দরজা খুলবে না।

‘খুলো, বাপ জান...আমি ফিরা আসছি। ’

‘না, তুমি মরে গেছ। ’

‘না রে, বাপ জান। দরজাটা খুলেই দেখো না। ’

‘না, তোমার ডেথ সার্টিফিকেট এরই মধ্যে তোমার পেনশনের টাকা পাওয়ার জন্য তোমার অফিসে জমা দিছি। ওরা যেকোনো সময় আসবে ভেরিফিকেশন করতে। তুমি প্লিজ! যাও এখান থেকে। ’

‘দরজাটা খুলো, বাপজান। ’

-আরিফ আর হোসাইন


মন্তব্য