kalerkantho


এবারের পুলিত্জারজয়ী সাহিত্য

দুলাল আল মনসুর

২১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০



এবারের পুলিত্জারজয়ী সাহিত্য

অন্যান্য বছরের মতো এবারও সাংবাদিকতার বিভিন্ন শাখার সঙ্গে পুলিত্জার পুরস্কার দেওয়া হয়েছে কবিতা, নাটক ও কথাসাহিত্য শাখায়।

কিনতে পারো যা তুমি গানের বিনিময়ে সে-ই হলো মুক্তি; তবে গানটা তোমার ফুসফুসে ঝালাই করে নেওয়ার পরে, গানটা তোমার স্বপ্নের ভেতর পথ বাঁধানোর পরে, গানটা তোমার বিছানায় চুপিচুপি ঢুকে পড়ার পরে, গানটা তোমায় পুরোপুরি পেয়ে বসার পরে, গানটা পচে গেলে, প্রস্ফুটিত হলে, এরপর আবার পচে গেলে, গানটা তোমার আঙুলগুলো চুরি করে নিলে, তোমার কণ্ঠ কেড়ে নিলে—এসব কিছুর পরে তুমি চাও গানটা বেচে দিতে; আসলে সে গানটা তো কখনো যায় না বেচা।

শেষে শুধু হাত বাড়াতেই পারো—যে শব্দগুলো মুক্তি বানায় সেগুলোর অপেক্ষায়ই থাকো।  

ওপরের পঙিক্তগুলো এবারের পুলিত্জার পুরস্কার পাওয়া মার্কিন কবি তায়েহিমবা জেসের ‘মুক্তি’ কবিতার। এ বছর তিনি পুলিত্জার পুরস্কার পেলেন দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ওলাইও’র জন্য। আমেরিকার গৃহযুদ্ধ আর প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মাঝের সময়ের আফ্রিকান-আমেরিকান শিল্পীদের সম্পর্কে লেখা। আফ্রিকান-আমেরিকান সুরকার ও পিয়ানো বাদক স্কট জোপলিনের বিশেষ প্রভাব রয়েছে জেসের এ কাব্যগ্রন্থে। এ ছাড়া আরো অনেক অখ্যাত অজানা গায়কের ভূমিকাও আছে তাঁর এ গ্রন্থের কবিতাগুলো তৈরিতে। তায়েহিমবা জেসের মতে, আমেরিকার সংগীত মূলত আফ্রিকান-আমেরিকান অভিজ্ঞতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমেরিকায় দাসত্বের হাতিয়ারে ওই মানুষগুলোকে পড়াশোনার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নিজেদের সংগীতের মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের সংস্কৃতি তৈরি করে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

কবিতার আঙ্গিক নিয়ে সাহসী আর উচ্চাভিলাষী চেষ্টার প্রমাণ রেখেছেন তায়েহিমবা জেস। আমেরিকার ব্লুজ, কর্মজীবী মানুষের কর্মস্থলের গান, গির্জার স্তুতিগান—এসবের উৎস ও আমেরিকার ইতিহাসে এসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কষ্টকথা তুলে এনেছেন কবিতায়। কিছু সত্য, কিছু কল্পনার মিশেলে তৈরি হওয়া তাঁর এই কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সনেট, গান, আখ্যান ইত্যাদি। আর এসব উপাদান মনে করিয়ে দেয় আফ্রিকান-আমেরিকানদের যাঁরা কর্মক্ষেত্রে গান গেয়েছেন, কাহিনি বলেছেন কিন্তু ভদ্রলোকদের ইতিহাসে স্থান পাননি—তাঁদের কথা। তাঁদের সময়কার চিত্র জেস যেভাবে এনেছেন, তার মধ্যে আমেরিকার গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে প্রথম মহাযুদ্ধের পূর্বকাল পর্যন্ত স্থান পেয়েছে।

‘ওলাইও’ মেধাবী কবির দারুণ কবিতার সংকলন। আবার এতে তথ্যকোষের চেহারাও পাওয়া যায়। ভাষা কিংবা বিশাল ধারণক্ষমতার কারণে নয়, তবে সামগ্রিক চেহারায়ই রয়েছে এ পরিচয়ের ছাপ। ‘ওলাইও’ পড়ার পরে পাঠকের মনে হবে ইতিহাস আগে যা শোনা ছিল, তার থেকে খানিক বদলে গেল। ইতিহাসের অপূর্ণতা কিছুটা ঘুচে গেল কিংবা আগের ইতিহাসের মধ্যে ফাঁকফোকর দেখা হয়ে গেল। কবিতা কেমন হতে পারে, কবিতা কী কী দিয়ে থাকে, কবিতার সামগ্রিক চেহারা কেমন হয়ে থাকে—এমন কত ধারণা প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকের মনে জমা হয়ে থাকে। স্বাভাবিক। তবে পাঠক বড় হতে হতে কবিতা সম্পর্কে যেসব চিত্রকল্প অর্জন করেছেন, সেগুলোর ভাঙচুর হয়ে যায় তায়েহিমবা জেসের কবিতা পড়ার পর। অনেক পাঠক একমত হয়েছেন, ‘ওলাইও’ হলো এক বর্ধিত উপস্থাপনা, সাংগীতিক অর্জন, এক মহাকাব্যিক বিস্তারের গীতিনাট্য।

যে মানুষদের তিনি কবিতায় এনেছেন, তাঁদের পরিচয় কেমন ছিল—তার দুই-একটি উদাহরণ দিলেই হয়। যেমন টমাস উইগিনস। তাঁকে পরে বলা হয়েছে ব্লাইন্ড টম। তিনি ছিলেন আফ্রিকান-আমেরিকান সংগীতের অমিত সম্ভাবনার আরেক নাম। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৮৪৯ সালে। জন্মের পরের বছরই কৃতদাস মা-বাবার সঙ্গে তিনিও আগের মালিকের কাছ থেকে বিক্রি হয়ে যান এক আইনজীবীর কাছে। কৃতদাস ও অন্ধ হওয়ার কারণে অনেক কষ্টে তিনি পিয়ানো বাজানো শেখেন। এরপর ফিস্ক জুবিলি সিঙ্গারদের কথা বলা যায়। তাঁরা মূলত ছিলেন ফিস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দল। তাঁরা গান গেয়ে পয়সা তুলতেন টেনেসির নসভিলে অবস্থিত কৃষ্ণাঙ্গদের কলেজের জন্য। তাঁরা জায়গায় জায়গায় গান গেয়ে বেড়াতেন। জেস তাঁদের মুখে দিয়েছেন : ‘আমরা বাতাস তপ্ত করি ঈশ্বরের প্রশস্তির সুরভিপ্রলেপে/কারণ আমাদের প্রত্যেকেরই গলা ফাটিয়ে বলার আছে নিজস্ব গল্প। ’

তায়েহিমবা জেসের কবিতা পড়লেই আমেরিকার হারলেম রেনেসাঁর কবি ল্যাংস্টন হিউজের কবিতার সুর মনে পড়ে যায়। ল্যাংস্টন হিউজের মতোই নিগ্রো সংস্কৃতির কথা, তাদের গানের কথা প্রাধান্য পেয়েছে তায়েহিমবা জেসের কাছেও। জ্যাজ কবিতার ধারার অগ্রপথিক হিউজেরই উত্তরসূরি জেস। পুরস্কার পাওয়ার লড়াইয়ে তায়েহিমবা জেসের কাব্যগ্রন্থের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল প্রয়াত অড্রিয়েন রিচের কাব্যগ্রন্থ ‘কালেক্টেড পোয়েমস’।

এ বছর নাট্যকার লিন নোটেজ পেয়েছেন নাটকের পুলিত্জার। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো পেলেন এ পুরস্কার। ২০০৯ সালে পেয়েছিলেন তাঁর নাটক ‘রুইনড’-এর জন্য। তাঁর এবারের পুলিত্জার পাওয়া নাটকটির নাম ‘সোয়েট’। নাটকটির পটভূমিতে আনা হয়েছে শিল্পসংকোচনের শিকার হওয়া এক শহর। সেখানকার শ্রমজীবী শ্রেণির বিচ্ছিন্নতার কথা তুলে ধরা হয়েছে এ নাটকে। সূক্ষ্ম দ্যোতনাপূর্ণ শক্তিশালী নাটকটি দর্শকদের মনে করিয়ে দেয় আমেরিকার স্বপ্নসন্ধানী শ্রমিকদের কথা। নোটেজ বলেন, অর্থনৈতিক স্থবিরতা কিভাবে আমেরিকার সাংস্কৃতিক জীবনের কথকতার আকার নির্ধারণ করে দিচ্ছে, সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন এ নাটকে। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষদের জীবনের গল্পই সত্যবাদী, আবেগী ও কৈফিয়তহীন ভঙ্গিতে বলার চেষ্টা করেছেন তিনি।

লিন নোটেজ আমেরিকার শ্রমজীবী শ্রেণির একদম গভীরে প্রবেশ করেন। চরিত্রদের একদম খুব কাছে থেকে দেখেন তিনি। নাটক লেখার আগে তিনি শ্রমজীবী শ্রেণির মানুষদের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর নাটকের চরিত্ররা একই স্কুলে পড়েছে, একই কারখানায় কাজ করে, একই পানশালায় বসে মদ পান করে। তাদের কর্মসংস্থান, তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি—সব কিছুই ধ্বংস হয়ে গেলেও তারা যেন কেউ টের পায় না কী ঘটছে তাদের জীবনে। পেনসিলভানিয়ার রিডিংয়ের একটি পুরনো পানশালায় নাটকের ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে। এই কারখানাগুলোয় যারা কাজ করে, তাদের প্রত্যেকেরই দ্বিতীয় গৃহের মতো একটা আশ্রয় হলো এই পানশালা। ট্রেসি, জেসি ও সিনথিয়া একই সঙ্গে কাজ করে। তাদের পরিবারের লোকেরা তিন প্রজন্ম ধরে এই কাজই করে আসছে। ট্রেসি কাজের সম্পর্কে কড়া সুরে কথা বললেও মনে হয়, সে বাকি জীবন এ কাজেই কাটাতে চায়, যদি ঠিকমতো বেতন বাড়ে এবং ইউনিয়ন তার প্রাপ্য সুবিধাগুলোর সুরক্ষা দিতে পারে। অন্যদিকে জেসির সপ্তাহান্তে কোথাও গিয়ে নিজের শক্তি-সম্বল খরচ করার ইচ্ছা নেই। তাদের তিনজনের মধ্যে শুধু সিনথিয়াই কারখানার কাজের মধ্যে দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে ইচ্ছুক ও আশাবাদী। একটা তত্ত্বাবধায়কের চাকরির আবেদন করে এবং পেয়েও যায় সে। কিন্তু তখনো তার বোধে ঢোকে না, তাদের তিনজনের সম্পর্কের মাঝে কী কী সমস্যা তৈরি হতে পারে তার নতুন কাজের কারণে।

বঞ্চনা আর কষ্টের কথা নাটকের প্রধান গতিপথ হলেও এ নাটকে স্বস্তি হিসেবে হাস্যরসের উপাদানও আছে। লিন নোটেজ মনে করেন, জীবনের কষ্টকর অভিজ্ঞতাগুলো এ রকম মানুষদের কাছে নতুন নয়; তাদের ওপর এসব বিষয়ের প্রতিক্রিয়াও দীর্ঘস্থায়ী নয়; এ রকমই তাদের প্রাত্যহিক জীবন। তাদের মধ্যে হাস্যরসের আদিম একটা বোধও বিদ্যমান আছে। আর বড় কথা হলো, পানীয়ের মধ্যে ডুবে যেতে পারলে চারপাশের অন্ধকার সুরেলা মনে হতে পারে।

পুরস্কারের জন্য মনোনীত হতে গিয়ে ‘সোয়েট’কে লড়তে হয়েছে সারা ডেলাপের ‘দ্য উলভস’ এবং টেলর ম্যাকের ‘এ ২৪-ডিকেইড হিস্ট্রি অব পপিউলার মিউজিক’-এর সঙ্গে।

এবার কথাসাহিত্যে পুলিত্জার পুরস্কার পেয়েছেন কোলসন হোয়াইটহেড। তাঁর পুরস্কারপ্রাপ্ত উপন্যাসের নাম ‘দ্য আন্ডারগ্রাউন্ড রেইলরড’। এ উপন্যাস ছাড়াও তিনি আরো লিখেছেন ‘দ্য নোবল হাসল’, ‘জোন ওয়ান’, ‘দি ইনটুইশনিস্ট’, ‘জন হেনরি ডেইজ’ এবং ‘অ্যাপেক্স হাইডস দ্য হার্ট’ নামের উপন্যাস।

 

এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোরা গালিভারের মতো একের পর এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলতে থাকে। আফ্রিকা থেকে আমেরিকায় আসার সেই শুরু থেকে বর্তমান সময়ের কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনের কষ্টের কথা বলা হয়েছে এখানে। ঔপন্যাসিক আমেরিকার গৃহযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের কৃষ্ণাঙ্গদের ভীতির চিত্র আবার তৈরি করেছেন এ উপন্যাসে। দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির চেষ্টায় একজন নারী যে অদম্য মনোবলের পরিচয় দিতে পারে তার গতিশীল গল্প হলো এ উপন্যাস। অন্যদিকে সবার জানা ইতিহাসের ভেতরে গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপের প্রচেষ্টাও আছে এখানে।

কোরা জর্জিয়ার এক তুলার ক্ষেতে কাজ করা কৃতদাসী। তার মতো সব কৃতদাসের জীবনই অশেষ কষ্ট আর গ্লানির। তবে তার জীবনটা আরো খারাপ। তার সমগোত্রীয়দের মাঝেও সে অনাকাঙ্ক্ষিত। নারীত্বের আবির্ভাবে তার জন্য তৈরি হয় আরো বড় যন্ত্রণা। ভার্জিনিয়া থেকে আসা সিজার যখন তাকে আন্ডারগ্রাউন্ড রেইলরডের কথা জানায়, তারা দুজনে সিদ্ধান্ত নেয়, প্রচণ্ড ঝুঁকি থাকলেও তারা পালাবে। পরিস্থিতি তাদের পরিকল্পনার মতো করে এগোয় না। তাকে ধরতে আসা এক শ্বেতাঙ্গ যুবককে মেরে ফেলে কোরা। যদিও তারা একটা স্টেশন পেয়ে যায় এবং উত্তর দিকে যাওয়ার চেষ্টা চালায়, তাদের পাকড়াও করার চেষ্টায় থাকে অন্যরা।

তাদের প্রথম বিরতি সাউথ ক্যারোলাইনা; প্রথমত তাদের কাছে আশ্রয়ের মতো মনে হলেও ওপরে ওপরে নিরুপদ্রব মনে হলেও এই নগরী এখানকার কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে কুচক্র পাকাতে থাকে। এখানে রিজওয়ে নামের একজন বেপরোয়া চেষ্টায় কৃতদাস ধরে বেড়ায়। সে কোরা ও সিজারের নাগাল প্রায় ধরেই ফেলে। কোরা বাধ্য হয়েই মুক্তির অন্বেষণে ছুটে বেড়ায় এক রাষ্ট্র থেকে আরেক রাষ্ট্রে।  

কোলসন হোয়াইটহেডের উপন্যাসে সাধারণত নতুনত্ব থাকে। প্রতিটি নতুন উপন্যাস আগের উপন্যাসটি থেকে আলাদা হয়ে থাকে। কাহিনি বিন্যাসে, ভাষার ব্যবহারে, বিষয়বস্তুর প্রতি মনোযোগের মাত্রায় নতুনতর উপন্যাসটি ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে একটা বিষয়ে তাঁর উপন্যাসগুলোর মিল আছে; প্রচলিত সংস্কৃতির পরিচিত পথে চলা, প্রচলিত প্রথাকে উপন্যাসের কাজে ব্যবহার করার সময় খোদ প্রথাকেই বিপন্ন করে ফেলা। তাঁর নতুন উপন্যাসটি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস এবং কৃতদাসদের কাহিনির একটি সমন্বিত রূপ; তবে কল্পনার বিস্তার আছে যথেষ্ট। আগের উপন্যাসগুলোর মতোই এটিকেও সাজানো হয়েছে বেশ যত্নের সঙ্গে। প্রত্যাশিত ও অপ্রত্যাশিত উভয় রকমের ঘনত্ব রয়েছে এ উপন্যাসে।

এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোরাকে একদম শৈশবকালে ফেলে পালিয়ে যায় তার মা। পরবর্তী সময়ে এই পরিত্যক্ত হওয়ার অনুভূতি তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। কোরা যখন সাউথ ক্যারোলাইনার প্রাকৃতিক বিস্ময়ের জাদুঘরে কাজ করতে আসে, সে মনে করে, তার কাজ হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। কিন্তু দেখতে পায় তার কাজ আসলে অন্য কিছু। জাদুঘরের একটা শাখার নাম ‘জীবন্ত ইতিহাস’। একটা কাচের দেয়ালঘেরা জায়গায় দাঁড়িয়ে তাকে কৃতদাসের বাস্তব অভিজ্ঞতার চিত্র দেখাতে হয়। দর্শকরা অন্য পাশ থেকে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। আরেকটি শাখার নাম ‘সিনস ফ্রম ডার্কেস্ট আফ্রিকা’, আরেকটির নাম ‘লাইফ অন দ্য স্লেভ শিপ’। ‘দি আন্ডারগ্রাউন্ড রেইলরড’ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় শ্বেতাঙ্গরা কতভাবে কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাস চুরি করেছে। আমাদের জানা ইতিহাস শুধু দ্বিতীয়বার বলার চেষ্টা মোটেও করেননি হোয়াইটহেড; তিনি দেখিয়েছেন প্রচলিত ব্যাখ্যা কেমন করে সত্যের বিচারে নিরপেক্ষতার দিকে নিয়ে যাওয়া যায়। আমেরিকার মৌলিক পাপের চিত্র তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ উপন্যাসটি যথেষ্ট সাহসী পদক্ষেপ রেখেছে।

হোয়াইটহেড এ উপন্যাস লেখার সময় উৎসাহ পেয়েছেন গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস ও টনি মরিসনের লেখা পড়ে। হোয়াইটহেডের এ উপন্যাসকে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে অ্যাডাম হাসলেটের ‘ইমাজিন মি গন’ এবং সি ই মরগানের ‘দ্য স্পোর্ট অব কিংস’ উপন্যাসের সঙ্গে।


মন্তব্য