kalerkantho

বালিহাঁসের ডাক শুনেছি

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বালিহাঁসের ডাক শুনেছি

বালিহাঁসের ডাক : স্বকৃত নোমান, প্রকাশক : অনিন্দ্য প্রকাশন। প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ। মূল্য : ২৫০ টাকা

‘বালিহঁভসের ডাক’ গল্পগ্রন্থটি বাংলা ভাষার সাহিত্যে নতুন এক সংযোজন। সৃজনক্ষমতা যদি হয় সোনা, পরিশ্রম যদি হয় সোহাগা, তবে এখানে যথার্থ জ্বলজ্বলে স্বর্ণ প্রদর্শনীর জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। স্বকৃত নোমানের প্রতিটি লেখার পৃথক দার্শনিক ভাষ্য রয়েছে। এই বইয়ের ১৪টি গল্পের সব কয়টিই তাই পৃথক চমত্কারিত্ব পেয়েছে।

প্রথম গল্প ‘আর জনমে’র একেবারে শুরুতেই শ্রীমদভাগবতের বাক্যমালা পাই। সেখানে প্রাণের অনিবার্য পরিণতি সনাতনী মতবাদ যে জন্মক্রমিক রূপান্তরবাদ, তার কথা আছে। গল্পটি রাষ্ট্র, সমাজ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক স্তরবিন্যাস, সাম্প্রদায়িক স্ববিরোধিতা সব কিছুর প্রতি ব্যঙ্গাত্মক রসবাক্য নিয়ে উপস্থিত। পরের গল্প এ বইয়ের নাম গল্প। ‘বালিহাঁসের ডাক’। স্বকৃত নোমান বরাবরই আঙ্গিক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সব নিরীক্ষায় থাকেন। এ গল্পে ‘ইনসেপশন’ আছে। গল্পের আড়ালে গল্প, জগতের আড়ালে জগৎ। যে ধাঁচের বাক্যটি দিয়ে এ গল্প শেষ হয়, যার শক্তিবোধ্য ইংরেজি পরিভাষা ‘পাঞ্চলাইন’, সেখানে লেখক শুধু সাহিত্য নয়, শিল্পচর্চার ঋদ্ধতম মতটি প্রকাশ করেছেন।

এ গ্রন্থের অন্য গল্পগুলোও তাই।  সুরের ইন্দ্রঘোর, মৃত্যুর অনিবার্যতা, স্বাধীনতার চোখ ভেজানো বোধ, আরো কত মনোজাগতিক খেলাই না খেলেছেন লেখক। বালিহাঁসের ডাক একটি শিল্পকর্ম। শিল্পকর্মটি তার সহজগামিতা, নান্দনিকতায় পাঠকহূদয় জয় করবে বলে আস্থা রাখি।

হামিম কামাল

মন্তব্য