kalerkantho

রহস্যজট

হেরফের

আবদুল্লাহ আল ফারুক

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 হেরফের

অঙ্কন মাসুম

খুনটা হয়েছে বেশ দ্রুত এবং বোঝাই যাচ্ছে আনাড়ি হাতের কাজ। পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছে একটু আগে। বড়সড় বাড়িটার একমাত্র মালিক ফরহাদ হোসেন। বয়স ষাটের ঘরে। ছিমছাম রসিক মানুষ। ঘন ঘন চা আর বই পড়ার অভ্যাস ছিল।

বাড়ির বাসিন্দা বলতে তিন ছেলে, দূরসম্পর্কের এক ভাইয়ের ছেলে আর দুই মেয়ে। মেয়েরা বিয়ে করে ফেললেও বাবার সঙ্গেই থাকে। বড় বাড়িতে প্রত্যেকের যার যার ঘর আছে আলাদা। এর মধ্যে বড় মেয়ের ছেলে ক্লাস টেনে পড়ুয়া মেধাবী ছাত্র সিয়াম কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলিয়ে একাকার। সবাই যখন বাড়ির কাজের ছেলেটাকে সন্দেহে তুলাধোনা করছে, তখন সিয়াম চুপচাপ। তার নানা ভাইয়ের ছেলে, মানে তার মামা নাদের আলিকে তার সুবিধার মনে হয় না। ফরহাদ হোসেনের ড্রয়ার আর আলমারিতে অঢেল টাকা থাকত। খুন হওয়ার পর সেই টাকা গায়েব, সঙ্গে কাজের ছেলেটাও।

কাছেই থানা। পুলিশ এসেছে দশ মিনিটের মাথায়। এসেই লাশের প্রাথমিক তদন্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন এসআই মোসাদ্দেক। পাশে দাঁড়িয়ে সিয়াম। তার দিকে মনোযোগ দিল পুলিশ। সিয়াম এগিয়ে এসে তার নানার প্রতিটা জিনিস পরখ করে দেখছে আর একটু পরপর ফুঁপিয়ে উঠছে। বাড়ির বড়রা আতঙ্কেই অস্থির। খুনোখুনি দেখে কেউই অভ্যস্ত নয়।

‘তা খোকা কে কী করছিল বল তো?’

সিয়ামের পাশেই ছিল তার বাবা, ‘আমি তো ঘুমুচ্ছিলাম। জাফর ভাই (সিয়ামের বড় মামা) ব্রাশ করে গারগল করছিলেন। হারামজাদা কাজের ছেলে মিন্টু চা নিয়ে ঢুকেছিল ঘরে।’

‘আর আমি তো সেই ভোর ছটা থেকেই টবের গাছে পানি দিচ্ছিলাম। পানি না পেলে গাছগুলো মরে যাবে। ঠিক আমার চাচার মতো। গাছে পানি না দেওয়ার মানে হলো গাছকে খুন করা। তিলে তিলে।’ এসআই মোকাদ্দেস তীক্ষ দৃষ্টিতে দেখলেন ফরহাদ হোসেনের ভাইপো নুরুল আলমের দিকে। খুন হওয়া একটা বাড়িতে এমন অদ্ভুত কথা তিনি আগে শোনেননি। লোকটার মাথায় সমস্যা আছে মনে হয়।

সিয়াম এগিয়ে এসে তার নানার বইয়ের পাতা ওল্টাল। জুলভার্নের একটা বই পড়ছিলেন। বইটা রক্তে ভাসাভাসি। পুলিশ ইশারা করতেই সে সরে দাঁড়াল। ক্রাইম সিনের অ্যাভিডেন্স নষ্ট হবে তাতে। আহা রে নানা! দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। চশমাটা হাতে নিল। কতবার এটা পরিষ্কার করে দিয়েছিল ও। নানার পছন্দের চায়ের কাপটাও হাতে নিল। এখনো গরম। চাদরে এখনো গায়ের গন্ধ লেগে আছে, সঙ্গে রক্তের গন্ধটাও।

‘খোকা তুমি চলে যাও এখান থেকে।’

সিয়াম দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। সবাই কান্নাকাটি করছে বলে তার দিকে বিশেষ খেয়াল নেই।

ফরহাদ হোসেনের ছোট ছেলে ব্যাংকে চাকরি করে। চোখ মুছতে মুছতে বলল, কাজের ছেলের সঙ্গে চিল্লাফাল্লা করছিলেন বাবা। তবে সেটা তো প্রায়ই করেন। কিন্তু এভাবে খুন করে টাকা-পয়সা নিয়ে পালাবে—এটা বিশ্বাস হয় না।

‘কাকে রেখে কাকে বিশ্বাস করবে শুনি!’ বললেন নুরুল আলম। ও ব্যাটা চা নিয়ে ঢুকেছে সাতটায়। বের হয়েছে আটটায়। খুন করার মতো যথেষ্ট সময়।

‘কিন্তু আকবরকে দেখে সত্যিই খুনি মনে হয় না। সে সম্ভবত লাশ দেখে ভয়ে পালিয়েছে। কারণ সে জানত, তাকেই সন্দেহ করা হবে সবার আগে। আর ছেলেটা একটু বোকাসোকাও ছিল, অফিসার।’ পুলিশকে বললেন সিয়ামের বাবা।

সিয়ামের কী যেন মনে হলো। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে এলো তদন্তকারী কর্মকর্তার দিকে। কানে কানে বলল কথাটা। হাসি ফুটল এসআই মোসাদ্দেকের মুখে। দরাজ গলায় সিয়ামের বাবাকে বললেন, আপনার ছেলেকে বড় হয়ে গোয়েন্দা বিভাগে দেবেন। দারুণ মাথা তার। খুনি কে তা ধরে ফেলেছে এরই মধ্যে।

 

     এবার বলো খুনি কে?

 

গত রহস্যজটের উত্তর

 

উত্তর :  সরকারি ছুটিতে বান্দরবান এসেছে সবাই। কলেজও বন্ধ থাকার কথা। মিজানের রেকর্ড করা শব্দে একজনকে কলেজে যাওয়ার কথা বলতে শোনা গেছে।

মন্তব্য