kalerkantho

বিজ্ঞান

গবেষণাগারে মরণফাঁদ!

বিজ্ঞানীরা নতুন একটা কিছু বানাতে পারলেই খুশি। হোক সেটা পারমাণবিক বোমা কিংবা নতুন কোনো ভ্যাকসিন। তবে তাঁদের খেয়ালি স্বভাবটা যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার কিছু জলজ্যান্ত নমুনা পাওয়া যাবে দুনিয়ায় ছড়ানো-ছিটানো ল্যাবরেটরিগুলোতেও। এমনই কিছু প্রাণঘাতী নমুনার কথা জানাচ্ছেন আবদুল্লাহ আল ফারুক

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গবেষণাগারে মরণফাঁদ!

ঘোড়ার পক্স

চিকেন পক্সের নাম তো শুনেছ, এবার শোনো হর্স পক্সের কথা। তবে ভাগ্য ভালো যে এটা মানুষের ক্ষতি করে না, করে ঘোড়ার। ক্ষতি বলতে একেবারে জানেই মেরে ফেলবে। টনিক্স নামের একটি ওষুধ কম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় এ পক্সের ভাইরাসটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টার গবেষকরা। এ কাজে তাদের খরচ হয়েছে মাত্র এক লাখ ডলার। বিজ্ঞানীদের যুক্তিটা হলো, এই ভাইরাসটি তাঁদের স্মল পক্সের আরো উন্নত ভ্যাকসিন বানাতে সাহায্য করবে। তবে প্রযুক্তিটা একবার খারাপ লোকদের হাতে পড়লে কী হবে ভেবে দেখো।

 

কালো মরণ

১৩৪৭ থেকে ১৩৫১। মোটে এ চারটি বছর। আর এতেই দুনিয়ার পাঁচ কোটি সাবাড় করে দিয়েছিল একটি রোগ। সাধে কী আর তাকে কালো মরণ বলে ডাকে! ব্ল্যাক ডেথ নামের ওই ব্যাকটেরিয়া এখনো আছে। তবে এত দিনে অনেক দুর্বল হয়ে গেছে ওটা। মানুষেরও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে। তবে বছর কয়েক আগে জার্মানির টাবিনজেন ইউনিভার্সিটি ও কানাডার ম্যাকমাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকরা মিলে পুরনো ডিএনএ সংগ্রহ করে ফের বানিয়ে ফেললেন প্রাণঘাতী সেই ব্ল্যাক ডেথ ব্যাকটেরিয়া। কয়েক শ বছর আগে এই রোগে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির দাঁত থেকে তারা সংগ্রহ করেছিলেন ওই ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ। কারো কারো মতে, গবেষণাগারে থাকা ওই জীবাণুটা আগের মতোই মহাহত্যাযজ্ঞ ঘটানোর ক্ষমতা রাখে।

 

পোলিও!

প্রায় হারিয়ে যেতে বসা রোগটিকেও রেহাই দিলেন না স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের গবেষকরা। পোলিও আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারেই তৈরি করেছেন কৃত্রিম পোলিও। ইঁদুরের শরীরে সেটা প্রবেশ করিয়ে তাঁরা ‘সফল’ও হয়েছেন। তাই যাঁরা ভাবছেন, পোলিও তো নির্মূল হয়েই গেছে, তাঁরা এ যাত্রা টিকাটা নিয়েই নিতে পারো। বলা তো যায় না, গবেষণাগার থেকে চুরি হয়ে ছড়িয়েও পড়তে পারে রোগটা।

 

সার্স ২.০

মানে সেই কুখ্যাত সার্সের (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) দ্বিতীয় সংস্করণ ওরফে বড় ভাই। ২০০২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এই সার্সের কারণেই ২৯টি দেশের প্রায় ৭০০ জন মারা গিয়েছিল। এখন যে সংস্করণটা ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনার গবেষকরা তৈরি করেছেন, সেটা আগেরটার চেয়েও ভয়ানক। সাধারণ সার্সের জীবাণুতে তাঁরা বাড়তি করে আরো দুটি প্রোটিন যোগ করেছেন। গবেষকদের দাবি হলো, আগের সার্সটা খুব সহজেই নিজেকে বদলে আরো আধুনিক করে নিতে পারে। আর তখন দরকার হবে আরো উন্নত ভ্যাকসিনের। সেটা বানানোর জন্যই আগেভাগে নতুন ভাইরাসটি তৈরি করা হয়েছে। এখন ভাইরাসটি ল্যাব থেকে না ভাগলেই বাঁচি আমরা।

বার্ড ফ্লু

এবার ডাচ্ বিজ্ঞানীদের পালা। সবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারাও বানালেন আরেক নামকরা ভাইরাসের উন্নত সংস্করণ। আর সেটা হলো বার্ড ফ্লু। আগের বার্ড ফ্লুটা মানুষকে আক্রান্ত না করলেও গবেষণাগারে তৈরি ফ্লুটা মানুষকে সহজেই আক্রান্ত করতে পারবে। শুধু তা-ই নয়, আগেরটা বাতাসের মাধ্যমে না ছড়ালেও নতুন ফ্লুটাকে বদলাতে বদলাতে (দশম সংস্করণ) গবেষকরা এমন পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন যে এটা বাতাসেও ছড়াতে পারবে। যথারীতি গবেষকদের দাবি একটাই, যদি কোনোভাবে পাখিবাহিত কোনো রোগ বাতাসে ছড়াতে শুরু করে, তবে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে তাদের এ আবিষ্কারটা কাজে আসবে।

অবশেষে সুসংবাদ

এবার এমন একটা ভাইরাস তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের বায়োলজিক্যাল এনার্জি অলটারনেটিভসের গবেষকরা, যার কথা শুনে সবাই খুশিই হবে। কারণ ফি-এক্স ১৭৪ নামের ভাইরাসটার কাজই হলো অন্য ভাইরাসকে মেরে ফেলা। মজার বিষয় হলো, অন্য সব ভাইরাস বানাতে গবেষকদের যেখানে মাসের পর মাস লেগে যায়, সেখানে এক্স ১৭৪ বানাতে লেগেছে মাত্র ১৪ দিন। গবেষকদের আশা, যাবতীয় সব জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়ার প্রথম ধাপ হবে এটি।

একই কাজ করেছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন ও ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানীরা। তাঁরা তাঁদের ভাইরাসটির কোনো নাম অবশ্য রাখেননি। তবে এটার সংস্পর্শে অন্য কোনো ব্যাকটেরিয়া আসা মাত্রই সেটিকে সেকেন্ডের মধ্যে ভেঙেচুরে ফেলে। প্রথমে ব্যাকটেরিয়ার গায়ে একটা ফুটো করে ওই ভাইরাস, তারপর সেটা বড় হতে হতে একসময় ব্যাকটেরিয়াটা গলে যায়। এমনকি কৃত্রিম ওই ভাইরাসটা মানুষের কোনো ক্ষতিও করে না। গবেষকরা আশা করছেন, তাদের এই নামহীন ভাইরাসটি মানুষের শরীরের ব্যাকটেরিয়াজনিত নানা অসুখ সারিয়ে তুলবে।

 

মন্তব্য