kalerkantho


শরীর ও মন

রোগের নাম আহার-ব্যাধি

৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রোগের নাম আহার-ব্যাধি

অঙ্কন : মাসুম

ইংরেজিতে বলে ইটিং ডিজঅর্ডার, বাংলায় আহার-ব্যাধি। অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের আরেক নাম। কম বা বেশি খাওয়া নিয়ে অযাচিত টেনশনের ফল। আহার-ব্যাধি নিয়ে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ আশিক মাহমুদ

 

ইটিং ডিজঅর্ডার বেশি দেখা দেয় কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেই। মানসিক ও শারীরিক, দুই কারণেই খাদ্য গ্রহণে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। যদি কেউ শরীরের গঠন, খাদ্যাভ্যাস কিংবা ওজনের জন্য অন্যের দ্বারা সমালোচিত হয়, তখন তার মধ্যে খাদ্য গ্রহণে অস্বাভাবিকতার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। কেউ মোটা হওয়ার জেদ করে মাত্রাতিরিক্ত খেতে থাকে, কেউ বা স্লিম হতে গিয়ে একেবারে অনাহারে দিন কাটায়।

আবার বিষণ্নতার কারণেও আহারে অনীহা দেখা দিতে পারে। এতে শরীরে দানা বাঁধে নানা রোগ। তোমাদের মতো টিনএজারদের মধ্যে ফাস্ট ফুডের প্রতি বাড়তি আকর্ষণও ইটিং ডিজঅর্ডারের একটা বড় কারণ।

আহার-ব্যাধি থেকে বাঁচতে সচেতনতাই যথেষ্ট। প্রতিদিন নোট করে ভালো কিছু খাবার খাবে। এটা হতে পারে রুটি, ভাত, মাছ, মাংস, সবজি, ডাল, দুধ অথবা ডিম। আর একটা না একটা ফল যেন থাকেই। ফাস্ট ফুড মাঝেমধ্যে খাওয়া যায়, তবে সেটিও রুটিনমাফিক। আর বেশি খেলে বেশি মোটা হবে—এ ধারণা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। কতটা খাওয়া বেশি বা কম, তার জন্য অনলাইনে সার্চ না করে সোজা চলে যাও কোনো পুষ্টিবিদের কাছে।

আহার-ব্যাধির মধ্যে একটা রোগের নাম অ্যানোরেক্সিয়া নারভোসা। যখন কেউ না খেয়ে নিজের ওজন মাত্রাতিরিক্ত কম রাখার চেষ্টা করে, অতিরিক্ত ব্যায়াম করে, তখন এ রোগ দেখা দেয়। আরেকটা হলো বুলিমিয়া। যখন কেউ খিদে না থাকা সত্ত্বেও খেতে থাকে এবং বেশি খেতেই হবে এমনটা ভাবে, তখন সে এ সমস্যায় পড়ে।

আহার-ব্যাধি থেকে বাঁচার কয়েকটি টিপস

► খাদ্য ও খাদ্যরোগ সম্পর্কে বইপত্র পড়বে। নিজের শরীর নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত টেনশন করা চলবে না।

►মজার কোনো শখ বেছে নাও। এতে মন ভালো থাকবে। মন ভালো থাকলে সাধারণত আমরা কারণ ছাড়া খাই না বা না খেয়েও থাকি না।

► বুলিমিয়া নারভোসার চিকিৎসার জন্য সিলেকটিভ সেরেটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটরস নামের একজাতীয় বিষণ্নতাদূরীকরণের ওষুধ আছে। চিকিৎসকই সেটি প্রেসক্রাইব করবেন। অর্থাৎ এ রোগের কোনো ওষুধ নেই, এমনটাও ভাবা চলবে না।

 

     অনুলিখন : জুবায়ের আহম্মেদ

 



মন্তব্য